somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন মানবপ্রেমী মানুষের গল্প

১৪ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ স্বামী বিবেকান্দের এই বাণী প্রতিফলিত হয়েছে একজন সাদা মনের মানুষের মাঝে। বাদশা আলম খান (বাচ্চু), পাবনা জেলার দুবলিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জন্ম, খুব ছোটবেলা থেকেই সংসারের ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তাই আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সেভাবে নেয়া হয় নাই।তিনি শিক্ষা গ্রহন করেছিলেন প্রকৃতির কাছে থেকে আর তার মরহুম পিতা জব্বার আলী খান এর কাছে থেকে। তার পিতা ছিলেন একাধারে কবি,দার্শনিক ও সখের ভেষজ চিকৎসক। বাদশা আলম খান জীবনের খুব শুরুতেই পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। পিতার কাছেই শিখেছিলেন মানব প্রেম। পিতার কাছে থেকেই তিনি দীক্ষিত হয়েছিলেন সৎ, সত্য,সতাতা আর হালাল রুযীর মন্ত্রে। বড় গৃহস্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় পেশা হিসাবে কৃষি কাজকেই বেঁছে নিয়েছিলেন। জীবন সংগ্রাম খুব কাছে থেকে দেখেছেন। সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিয়ে নিজের সংগ্রামী অস্ত্বিতের জানান দিয়েছেন। জীবনের এত দাবীর মাঝেও নিজে মানব সেবায় ব্রত হয়েছেন। বৃক্ষ প্রেমী এই সাদা মনের মানুষ আশেপাশের প্রায় সকল জায়গায় যেখানে মানুষের বিশ্রাম নেয়ার জন্য কোন আশ্রয় নেই সেখানে বটবৃক্ষ রোপন করেছেন।গত ত্রিশ বছর ধরে তিনি বট বৃক্ষ রোপণ করে চলেছেন। এখন এসব বটবৃক্ষ মহীরুহ হয়ে উঠেছে। বিশাল ছায়া বিস্তৃত এইসব বট বৃক্ষের নীচে চলতি পথের পথিক বসে বিশ্রাম নেয়,কৃষকেরা মাঠে কাজ করে এসে এখানে বিশ্রাম নেন এবং দুপুরের খাবার খান। বটবৃক্ষের কাছে গেলেই দেখা যায় কেউ না কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন। কখনও দেখতে পাওয়া যায় গল্পে মশগুল হয়ে আছেন সমাজের নানান স্তরের মানুষ।আশেপাশে কোন বাড়ী-ঘর না থাকায় বৃষ্টির সময় অনেক পথিক দৌড়ে আসে বটবৃক্ষের নীচে। শীতের সময় সুদূর সাইবেরিয়া থেকে পাখি এসে আশ্রয় নেয় এসব বৃক্ষের পত্র পল্লব আর শাখা প্রশাখায়। নানান রঙের পাখির কলরবে মেতে উঠে সবুজ পত্র পল্লব। এভাবেই সবার নিরব ছায়া শীতল আশ্রয় হয়ে উঠেছে এসব বটবৃক্ষ। তিনি এসব বৃক্ষ রোপণ করেছেন দুবলিয়া গ্রামের পশ্চিম পাশে শহীদ সাত্তার সড়কের তিন মাথা মোড়ে,দুবলিয়া বাজারের পূর্বপাসে কলেজের সামনে, দুবলিয়া গার্লস স্কুল সংলগ্ন পাবনা-সুজানগর সড়কে, পাবনা জেলার ফারাতপুর গ্রামে, পাবনার সবচেয়ে বড় হাট ‘হাজীর হাট’ সংলগ্ন রাস্তায়, সুজানগর থানার অন্তর্গত চিনাখরা গ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন দূর্লভ ঔষধি গাছ রোপন করেছেন নিজের বাগানে। যেসব ঔষধি গাছ নানান চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। দূর দূরান্ত থেকে এসব গাছের খোজে অনেকে আসেন যাদেরকে তিনি বিনামূল্যে ঔষধি গাছ দিয়ে থাকেন।তিনি নিজেও অনেক সময় ঔষধি গাছ থেকে ঔষধ তৈরী করেন যা বিনা মূল্যে রোগীদের মাঝে বিতরণ করেন।

বাদশা আলম খান এর কাছে জানতে চেয়েছিলাম এমন ব্যাতিক্রমী কাজে কেন উদ্বুদ্ধ হলেন।তিনি জানালেন ‘আমি গাছ ভালবাসি। লোকে যখন গাছের ছায়ায় বসে তখন আমার খুব ভাল লাগে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এসে বিভিন্ন চিকিৎসায় ঔষধি গাছ নিলে তাদের উপকার হয়। মানুষের উপকার হলে আমারও ভাল লাগে’।তিনি জানালেন বাকী জীবনেও তিনি এইভাবে মানব সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।

এমন ভাবে আমাদের সমাজে এখনো নিরবে প্রাদ-প্রদীপের আলোর বাহিরে নিভৃতে মানব সেবায় নিয়োজিত আছেন বাদশা আলমের মত মানুষেরা। যাদের উপর নাই এই সমাজের লাইট, ক্যামেরার ফোকাস তবুও আপন মনে মানব সেবায় নিয়োজিত আছেন বাদশা আলমরা।আমরা আশাকরি এমন বাদশা আলম গড়ে উঠবে বাংলাদেশের প্রতিটা অঞ্চলে এবং প্রতিটা ক্ষেত্রে। এইভাবে মানব সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা সবাই যদি এগিয়ে আসি তবে পৃথিবী গ্রহটা হয়ে উঠবে শান্তিময়।

তানজির খান
কবি ও ব্লগার
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×