একসময়ের নিয়মিত বিজ্ঞান দ্বিমাসিক এবং অধুনালুপ্ত পত্রিকা 'অণু' নির্বাচিত রচনা সংকলন গতকাল 27 ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে 'বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত প্রয়াস' নামে। সত্তুরের মাঝামাঝি কলেজ-পড়ুয়া ক'জন তরুণ মিলে গড়ে তুলেন 'অনুসন্ধিৎসু চক্র' বিজ্ঞান কাব। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের ব্রত নিয়ে অনুসন্ধিৎসু আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে প্রকাশ করে অণু পত্রিকা। আশির দশকের গোড়ার দিকে অণু পত্রিকাটি বেশ জনপ্রিয় হয়। এর লেখার গুণগত মান, বৈচিত্র ও মুদ্রণ-শৈলী সহজেই বিজ্ঞানামোদী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সারা দেশ জুড়ে বহু গুণগ্রাহী বিজ্ঞান পাঠক তৈরি হয়। উলেখ্য যে, অণু পত্রিকার মাধ্যমে অনেক তরুণ লেখকের হাতেখড়ি ঘটে। সত্তর দশকের বিজ্ঞান সাংবাদিকতায় সাড়া জাগানো অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞানচক্রের মুখপত্র এই 'অণু' পত্রিকার রচনাগুলো এবার গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেছে সূচীপত্র প্রকাশনী। 'অণু' পত্রিকার সম্পাদক প্রকৌশলী স্বপন বিশ্বাস এবং সাময়িকপত্র-গবেষক ও কবি ড. তপন বাগচীর যৌথ সম্পাদনায় এই প্রকাশিত হয়েছে। ড. আলী আসগর, স্বপন বিশ্বাস, ড. সুভাষচন্দ্র দাস, চলচ্চিত্রকার মসিহ্উদ্দিন শাকের, ড. মো: আবদুলাহ আল-মামুন, দেবদর্শী ভট্টাচার্য, চৌধুরী মো: আলী দারা, দ্বিজেন শর্মা, আজহারুল হক সেলিম, মিলন সিদ্দিকী, দিলীপ গুহঠাকুরতা, ডা. আহমদ রফিক, দীপক দাঁ, গোবিন্দ চন্দ্র মুখার্জি, মো: আলী জুলফিকার, মো: আলী পাশা, ইয়াসরীণা বেগম রীণা প্রমুখ বিজ্ঞান-লেখকের সেই সময়ের রচনা এতে সংকলিত হয়েছে। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন নিয়াজ চৌধুরী তুলি। এগ্রন্থের অন্যতম সম্পাদক প্রকৌশলী স্বপন বিশ্বাস বলেন, 'নির্বাচিত বিজ্ঞান রচনা বিষয়-বৈচিত্র্যে অনন্য। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, জীবনী, প্রজেক্ট, কল্পকাহিনী, বিজ্ঞান মনস্কতা সবধরণের বিষয়ই স্থান পেয়েছে এতে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক পর্যন্ত সবাইকে তুষ্ট করার মতো উপাদান সংকলনটিতে আছে ব'লে ধরে নেয়া যায়। অনানুষ্ঠানিক বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ ও বিজ্ঞান-মনস্কতা সৃষ্টি করে আমাদের বৃহত্তর সমাজে বিজ্ঞান কাব কর্মীরা অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে পারে । 'বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত প্রয়াস' গ্রন্থটি বিজ্ঞানকাবকর্মীদের অন্তত কিছুটা হলেও পথনির্দেশ করতে পারবে ব'লে আমাদের বিশ্বাস।' আরেক সম্পাদক ড. তপন বাগচী বলেন, 'আমরা সাংবাদিকতা-জীবনের শুরুতে অসংখ্য বিজ্ঞান নিবন্ধ রচনা করেছি। আমি অণু পত্রিকার একনিষ্ঠ পাঠক ছিলাম। কিন্তু উন্নতমানের এই পত্রিকাটি এখন বিস্মৃত হতে চলেছে। আমার গবেষক-সত্তা চেয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই পত্রিকার রচনাগুলো অন্তত মানুষের সামনে আনার চেষ্টা করা দরকার। এটি আমার সাময়িকপত্র-গবেষণার সমপ্রসারিত কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে'। প্রকাশক সাঈদ বারী বলেন, 'সরকার এবার বিজ্ঞাান ও প্রযুক্তি বর্ষ ঘোষণা করেছে। তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গ্রন্থ প্রকাশকে আমি আমার দায়িত্ব বলে মনে করেছি।'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



