somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুকুরটার চোখে মুখে আমাদেরই মত অভিব্যাক্তি ছিল

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রূপসী বাংলার সামনে সিগন্যালে পড়ে বাসটা রোড আইল্যান্ড ঘেঁষে থামল, একটা কুকুর আইল্যান্ডের ওপরে পড়ে আছে, পাশ দিয়েই মানুষ হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছে। একটা পা ভীষণভাবে জখম, মনে হচ্ছে কেউ ছুরি দিয়ে ইচ্ছা করে খুঁচিয়ে হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত লম্বা করে মাংস তুলে নিয়েছে। এধরনের জখম কিভাবে সম্ভব? সাধারনত বাসের নিচে পড়েই কুকুর বিড়াল জখম হয়, সে ক্ষেত্রে হয় হাত পা থেতলে যায় নয়তো কেটে পড়ে যায়, কিন্তু এ জখমটা যেন কেমন। কিন্তু তখন বাজে সকাল ১০টা, এখনও কেউ মরদেহটা সরায়নি কেন? হয়তো সরাবে ২/১ দিন পর, গন্ধ উঠলে পরে, এটাতো বাংলাদেশ।

হঠাৎ যেন মনেহল কুকুরের পেটটা একটু নড়ে উঠল, ভালভাবে খেয়াল করলাম খুব ধীরে পেটটা উঠা নামা করছে, তাহলে কুকুরটা মরেনি! হয়তো কিছুক্ষন ভুগে মরে যাবে, কে জানে হয়তো এক্ষুনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারলে বেঁচে যেতেও পারে। এক্ষুনি নিয়ে যাওয়া উচিত, কীভাবে কষ্ট পাচ্ছে কুকুরটা!

হতেপারে একদিন আমার বা আমার আপনজন কারও এমন অবস্থা, কতটা খারাপ লাগবে আমার যদি জানি আমার প্রিয় কেউ এভাবে অবহেলায় জীবন হারিয়েছে, পৃথিবীর মানুষের কাছে জীবনের শেষ মুহূর্ত গুলিতে এতটুকু স্বাভাবিক, মানবিক ব্যাবহার পায়নি? মনে করেই মাথাটা ঘুরে উঠল।

অথচ কুকুরটার চোখে মুখে বিন্দু মাত্র প্রতিবাদ নেই কেন এই অবস্থায় কেউ তার পাশে নেই! তার হয়তো শক্তি নেই প্রতিবাদের কিন্তু ব্যাথায় মুখটাও একটুও কুকড়ে নেই কুকুরটার। ঠিক আমাদেরি মত, যত অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি চলুক না কেন, দেশটাকে লুটে পুটে চুশে খেয়ে শেষ করে দিক, খেয়ে বেঁচে থাকার পন্যের দামে আগুন লাগাক, না খেয়ে মরে যাক মানুষ, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে দেশের মানুষকে ভুল ধারনা দেয়া হোক যে দেশে পাশের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে, শিক্ষা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে কিন্তু সত্যি কথাতো দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, ভবিষ্যত কত প্রজন্ম যে বেড়ে উঠবে এই অন্ধকারে, দেশটাকে সম্পুর্নভাবে তলিয়ে দিতে তাদের কতকত জন যে হাতে তুলে নিবে অস্ত্র তা জানতে চাইনা আমরা, তবুও আমরা নিশ্চুপ, ওই কুকুরটার মত।

আমরা ভাবি কি হবে প্রতিবাদ করে, কি হবে রুখে দাড়িয়ে, এই দেশটার আর কিচ্ছু হবেনা, তাই সব সহ্য করে যাই মুখ বুঝে, যখন নিজের দেহের উপর দিয়ে যায় শুধু একটু কো…কা… করি অথবা করিনা, ঠিক কুকুরটার মত। আর এখন প্রতিবাদ করাটাও যে ব্যাবসা, যেখানে টাকার গন্ধ সেখানেই দুর্নীতির মূল উৎপাটনের তোড়জোর, টাকা হাতে এলে আবার সব বন্ধ। আবার ক্ষমতাসীন দলের পা চাটা মিডিয়া তাদের ইমেজ তৈরীর জন্য প্রচার করে জনগনের মনোযোগ ভুল দিকে ভুল সময়ে নিয়ে যেতে। সুশীল সমাজ? তারাও একই কাজ করছে। আর শিক্ষিত সমাজ দেশে দুর্নীতি, অনিয়ম আর অবিচারের ফিরিস্তি নিয়ে তর্কের টেবিলে ঝড় তুলে বিনোদন পাচ্ছে, স্কলারশীপ নিয়ে বৈদেশে গিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে (নাকি শুধু নিজের সুবিধাটা বাড়াতে) যাওয়া অতি শিক্ষিত (অতি সুবিধাবাদী) সমাজ? তারাতো দেশের দুরবস্থা নিয়ে আফসোস করে অলস সময়ের সদব্যাবহার করতে, প্রগতিশীল ভাব ধরতে, দেশ প্রেমিকের মুখোশ পরতে নয়তো নিজেকে ভুল সান্তনা দিতে যে আমি শুধু ভাল ছাত্রই না, দেশপ্রেমে উদ্বেল একজন পরিপূর্ন মানুষও বটে। কিন্তু এসবের কোনওটাতেই দেশের কিচ্ছু হয়না, দেশ গরিব গরিবই থাকে, ধ্বংস হয়ে যায়। দেশটা এ মুহূর্তে যে অবস্থায় আছে তাতে আমাদের মেধাবী গবেষক এর প্রয়োজন নেই, কর্মীর প্রয়োজন, যারা প্রথম দেশ, দ্বিতীয় পরিবার তৃতীয় নিজের কথা ভেবে কাজ করবে। দেশ কে এগিয়ে নিয়েযাবে। শিক্ষা নাকি জাতির মেরুদন্ড, কিন্তু কই? দেশের সবচেয়ে শিক্ষিতরাই বিপদে দেশের পাশে থাকেনা।

আশে পাশে কোথায় পশু হাসপাতাল আছে জানিনা, সেই বঙ্গবাজার বোধয় আছে, কিন্তু কিসে করে নেয়া যাবে কুকুরটাকে? সিএনজি করে, পাব এখন কোনও সিএনজি? ইতোমধ্যেই অফিসে লেইট, ভীড় ঠেলে বাস থেকে নামাই কঠিন, তবু দরজা খুলবে কিনা তাও জানিনা। একা পারব নিতে কুকুরতাকে? কেউ কি আসবে সাহায্য করতে? আমাদের পশু হাসপাতাল গুলোতে কি চিকিৎসা দেয়া হয়?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৯:৪৪
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হ, আপনি জিতছেন, আপনারাই জিতছেন। :#(

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৫:৩৯



হ, আপনি জিতছেন, আপনারাই জিতছেন। সারাবিশ্ব থেকে ০৬ দিন সংযোগ বিচ্ছিন রেখে আপনারাই জিতছেন। অপরদিকে আলুপোড়া খেতে আসা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি (নাকি অপশক্তি) আপনারাও জিতছেন। দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন ছিলাম আমরা?

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫৫


কি দুঃসহ কয়েকটা দিন কাটালাম আমরা- কয়দিন কাটালাম মাঝেমধ্যে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে! অনলাইন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেন আশির দশকে ফিরে গিয়েছিলাম আমরা। পার্থক্য; বিটিভির পরিবর্তে অনেকগুলো নতুন রঙ্গিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের মুখে এই সরকারের পতন না হোক।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:২৯


গত ১৫ বছর এই সরকার যেভাবে দেশ চালিয়েছে, বিরোধীদেরকে যেভাবে কন্ট্রোলে রেখেছে এবার সেভাবে পারেনি। শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যে দেখা গিয়েছে উনি খুবই চিন্তিত ছিল এই আন্দোলন নিয়ে। একটি সাদামাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের এত বড় বড় দায়িত্ব নিয়ে ছেলেখেলা আর কতদিন?

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:৫১

আচ্ছা, ডাটা সেন্টারে আগুন লাগলে সমস্ত দেশের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়? কোন মদনা এই কথা বিশ্বাস করতে বলে? পলক ভাইজান? তা ভাইজানের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? পলিটিক্যাল সায়েন্স। আর? এলএলবি। উনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর ক'টা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি: বাংলাদেশ কখনও এই নির্মমতা ভুলে যাবে না!

লিখেছেন মিথমেকার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ১:৪৮


ইতিহাসে "৭১" এর পর এত স্বল্প সময়ে এত প্রাণহানি হয়নি। সম্ভবত আধুনিক বিশ্ব এত প্রাণহানি, এত বর্বরতা, স্বজাতির মধ্যে এর আগে দেখেনি। সমগ্র বিশ্বে বর্বরতার দৃষ্টান্ত হলো বাংলাদেশ!
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×