বিগত দিনে অনেকেই জানিতে আগ্রহ প্রকাশ করিয়াছেন যে আমার ছোট বউ রহস্য কি? ভাই লোগ আপনারা যথার্থই অনুধাবন করিয়াছেন যে লেখক মানে এই আমি একজন দাড়ি-কমাহীন মানুষ (মনে প্রানে ব্যাচেলর)। আজ রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে বসিয়াছি কারন আমার সাদা মনে কোন কাঁদানেই আর আমার চরিত্র (যাহা নিয়ে আমার ও সন্দেহ আছে)ধুতুরা ফুলের মত পবিত্র।
অতএব বাচ্চা লোক সাবধান আর মুরুব্বিগন সামনে আগাইয়া আসেন।
আসল ঘটনার শুরু আমার অ্যাকাউন্টিং গুরুর বাসায়। চার বছরের কোর্স যখন ঝুলিয়া ঝুলিয়া সাত বছরে শেষ করিয়া সবে মাত্তর মাষ্টার্স নামক কেলাসে ভর্তি হয়েছি । তখন কোন এক বিকেলে আমারা গুটি কয়েক বন্ধু ও বান্ধুবি সকলে মিলিয়া গুরু দর্শনের নিমিত্তে গুরুর আশ্রমে উপস্থিত হইয়া আড্ডা দিতেছে এমতাবস্থায় গুরু চিন্তা ক্লিষ্ট বদনে উপস্থিত হইয়া কহিলেন যে এমন ভাবে আর কত? তোমরা যে বা যাহারা বিবাহ করো নাই তাহারা অতি স্বত্তর বিবাহ করিয়া নাও , পড়িতে পড়িতে বুড়ো হয়ে যাবে তাই সময়ের কাজ সময় থাকিতে করাটাই উত্তম। উক্ত বাক্য শেষ করিয়া গুরুমশায় আমাদের আলোচনার সুযোগ দিতে বাড়ির অন্দর মহলে প্রবেশ করিলেন।সেই কুক্ষনে আমার হতচ্ছাড়া বন্ধু সকল আমার উপ্রে আশার আলো দেখিয়া তাহাদের শকুনী দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলো এবং সমস্বরে কহিলো যে আমার বিবাহের বয়স অতিক্রম করিতেছে।অতএব সর্বাগ্রে আমার বিবাহ করা উচিত আর আমিও সুযোগের সৎব্যবহার নিশ্চিত করিতে মক্ষম বাক্য আমার দুই অবিবাহীত বান্ধুবির দিকে প্রয়োগ করিলাম ।
এইক্ষেত্রে আমার প্রথম পক্ষ স্বপ্না নাম্মী বালিকে তাহাকে কহিলাম আমাকে বিবাহ করিতে তোমার অভিপ্রায় আছে কিনা যেহেতু তোমাদের সকলের বাক্যালাপ মোতাবেক আমি তোমাদের গুরুজন? তিনি তাৎক্ষনাত উত্তর করিলেন " তোমাকে বিবাহ করিলে আমার বিষ ভক্ষন করিয়া অন্তিম শয়ানে যাত্রা করিতে হইবে" আমিও তথাস্তু কহিয়া দ্বিতীয় পক্ষের দিকে বাক্য নিক্ষেপ করিলাম, তিনি কহিলেন" হারামী (এমন প্রম মধুর বাক্য তিনি সর্বদা আমার উপ্রে নিক্ষেপ করেন)আমাকে বিয়ে করলে তোকে গলায় দড়ি নিয়ে মরতে হবে"।আমিও সদা হাস্যে কহিলাম " বালিকে এই ছিল তোমার কপালে আমার পা, টা দারুন টনটন করিতেছে। তাইলে এই বার তোমরা দুই জনে নিশ্চিত কর কে আমাকে বিবাহ করিবে আমি দুই জনের(আসল পুরুষ স্টাইলে) চ্যালেন্জ নিতে প্রস্তুত আছি।
এই ক্ষেত্রে ত্রানকর্তা হিসেবে আমার সতাই (মানে ছোট বউ এর বর্তমান স্বামী) আবির্ভূত হইলো। সে ছোট বউ এর সাথে মিলিয়া কহিলো তুই প্রথমে স্বপ্নারে বিবাহ কর , স্বপ্না মরিলে অনন্যারে বিবাহ করিস তার পর তুই পটল , উচ্ছে, আলু বেগুন সব তুলিস।আমিও তথাস্তু বলিয়া মানিয়া লইলাম। আর সেই ক্ষন থেকে স্বপ্না হইলো আমার বড় বউ আর অনন্যা হইলো ছোট বউ।
ছোট বউরে কথা দিয়েছিলাম তার বিবাহ এমন মানুষের সাথে দেব যেন আমার কপিরাইট থাকে। তখন অব্দি আমার সতাই তার মনের কথা আমাকে ব্যক্ত করে নাই। আমিও আগ্রহ সহকারে পাত্র ঠিক করেতে সচেষ্ট ছিলাম । তার পর একদিন ভাবিয়া দেখিলাম তুষার আমার একমাত্র বন্ধু যাহার সহিত ছোট বউকে বিবাহ দিলে আমার কপিরাইট থাকিবে। আর এ ও জানিলাম যে সে ছোট বউ কে অত্যাধিক পছন্দ করে। অতএব এই দুই পাগলকে মিলিয়ে দেবার প্রচেষ্টায় আমার কর্ম প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখিলাম। অবশেষে শত্রুর মুখে ঝামা ঘসে গত ১৫ ই মে ওদের বিবাহ সম্পন্ন হইয়াছে দুই পরিবারের সম্মতিতে। সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী ওরা যেন সদা সর্বদা সুখে থাকে ।
শুনেছি বড় বউ এখন চাকুরী নিয়ে ব্যাস্ত। এখন সময়ের অতল তলে আর তার খোঁজ নেওয়া হয় না। আর আমিও চাই না আমার জন্য কেহ বিষ পান করে মরুক। যেখানে যে অবস্থায় থাকিস ভাল থাকিস বড় বউ।।
অফটপিকঃ শুধু মাইয়ার বাপ আর তাদের মাইয়া গুলোন বুঝলোনা আমি কি জিনিষ.....
আমার ব্যাচেলর জীবনই ভাল। তাই নচি গুরুর এই গানটিই গলাছেড়ে গায়.......
এই আমার বুকেতে অনেক আগুন
গোটা দেশ যাবে জ্বলে
শুধু পারছিনা জ্বলে উঠতে
শুধু তুমি বলছোনা বলে............
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



