somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

এইদেশে কবি সাহিত্যিক লেখকদের ভাত নেই

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার একজন বহুমুখী প্রতিভাবান বন্ধু ছিল যার নাম লিও। লিওর পুরো নামটা অদ্ভুত, শরীফ মোহাম্মদ বেদুঈন হায়দার লিও। এটা তার বাবা মা প্রদত্ত নাম কিনা সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে, কারণ কোন বাবা মা তার ছেলের নাম বেদুঈন রাখার কথা নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম একমাসের মধ্যেই বুঝতে পারলাম লিও আমাদের চেয়ে একটু ভিন্ন প্রকৃতির। গুছিয়ে কথা বলার দারুণ দারুণ ক্ষমতা রয়েছে তার, প্রতিটি কথার সাথেই ছন্দ জুড়ে দিতে পারে, কবিতা লিখতে পারে গান লিখতে পারে,নাটক লিখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির অল্পদিনের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পেয়ে যায় লিও। নাটক লেখা, অভিনয়, পরিচালনা সবই করতো। ওর লেখা, এবং পরিচালনার একটি নাটকে আমিও অভিনয় করেছি। এছাড়া ডিপার্টমেন্টের যেকোনো অনুষ্ঠান উপাস্থাপনা এবং পরিকল্পনার দায়িত্ব লিওর কাধেই এসে পড়তো, এবং লিও তা সূচারুরূপে করতো।

এতক্ষণ লিওর গুনের কথা বললাম, এবার লিও দোষের কথাগুলো বলি। পড়াশুনায় মোটামুটি দ্বিতীয় শ্রেণী জুটিয়ে নেওয়া তার জন্য কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু ক্লাশে লিওর পাশে কেউ বসতে চাইতো না কারণ ওর গা দিয়ে দুর্গন্ধ বের হতো। আমরা যেখানে পরিপাটি হয়ে ক্লাশে যেতাম লিও সেখানে ময়লা জামা চুলিগুলি এলোমেলো, দেখে মনে হতো মাত্রই ঘুম থেকে উঠে এসেছে। দাতগুলো দেখলে মনে হতো কয়েক বছর ব্রাশ করেনা। ওর রুমমেট একবার আমাদের কাছে অভিযোগ করলো লিও ভাই সাতদিন ধরে গোসল করে না। লিও তখন হেসে রুমমেটেকে বললো এই তুই মিথ্যা কথা বললি ক্যান? আমিতো দশদিন গোছল করিনা। আসলে লিও নাওয়া খাওয়া ভুলে রাতের পর রাত জেগে নাটক লিখতো কবিতা লিখতো, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নাটকে অভিনয় এবং পরিচালনার কাজে নিয়জিত থাকতো।

ঢাকা আসার পর আমরা সবাই যখন জীবিকার টানে ছুটে চলছি। লিও তখন টিভি নাটক এবং সিনেমা বানানোর স্বপ্নে বিভোর। একদিন ফোন দিয়ে বললো আর টিভিতে আমার একটা নাটক হচ্ছে দ্যাখ। দেখলাম খুব ভাল নাটক বানিয়েছে,শহীদুজ্জামান সেলিম, আফসানা মিমিসহ বেশ কয়েকজন তারকা অভিনেতা অভিনেত্রীদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছে।আমি ভাবলাম লিও শেষ পর্যন্ত স্টার হয়েই গেল। এখনো ইউটিউবে খুঁজলে বেশকিছু নাটক পাওয়া যাবে তার।শুনেছি একটা সিনেমা বানানোর কাজেও হাত দিয়েছিল, কিন্তু শেষ করতে পারেনি অর্থের অভাবে।

কিছুদিন আগে আমার একবন্ধু বললো লিও একটা প্রতারক। ও আমার কাছ থেকে দশলাখ টাকা ধার নিয়েছিল নাটক বানাবে এবং লাভসহ ফেরত দেবে বলে, কিন্তু বছরের পর বছর ঘুরাচ্ছে টাকা ফেরত দিচ্ছে না। তাই ওর বিরুদ্ধে চেক ডিজওনারের মামলা করেছি। শুধু ওই বন্ধুই নয়, ছোটভাই বড়ভাই অনেকের কাছ থেকেই জানতে পারলাম লিও তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে নাটক বাননোর জন্য, তাই সবাই মামলা করেছে। এইসব মামালায় লিও কিছুদিন জেলও খেটেছে।

আসল ঘটনা হচ্ছে বিখ্যাত হওয়ার নেশায় ধার করে অনেক বেশী ইনভেস্ট করে ফেলেছিল। কিছু নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে বিক্রি করতে পারলেও টাকা পায়নি। আবার কিছু নাটক বিক্রি করতেই পারেনি। তাই আজ লিও ফেরারি আসামী। লিওর মত প্রতিভাবান ছেলের অনেক ভাল কিছু করার কথা ছিল , কিন্তু ওই যে কথায় আছে এই দেশে কবি সাহিত্যিক লেখকদের ভাত নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:১২
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×