
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম একমাসের মধ্যেই বুঝতে পারলাম লিও আমাদের চেয়ে একটু ভিন্ন প্রকৃতির। গুছিয়ে কথা বলার দারুণ দারুণ ক্ষমতা রয়েছে তার, প্রতিটি কথার সাথেই ছন্দ জুড়ে দিতে পারে, কবিতা লিখতে পারে গান লিখতে পারে,নাটক লিখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির অল্পদিনের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পেয়ে যায় লিও। নাটক লেখা, অভিনয়, পরিচালনা সবই করতো। ওর লেখা, এবং পরিচালনার একটি নাটকে আমিও অভিনয় করেছি। এছাড়া ডিপার্টমেন্টের যেকোনো অনুষ্ঠান উপাস্থাপনা এবং পরিকল্পনার দায়িত্ব লিওর কাধেই এসে পড়তো, এবং লিও তা সূচারুরূপে করতো।
এতক্ষণ লিওর গুনের কথা বললাম, এবার লিও দোষের কথাগুলো বলি। পড়াশুনায় মোটামুটি দ্বিতীয় শ্রেণী জুটিয়ে নেওয়া তার জন্য কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু ক্লাশে লিওর পাশে কেউ বসতে চাইতো না কারণ ওর গা দিয়ে দুর্গন্ধ বের হতো। আমরা যেখানে পরিপাটি হয়ে ক্লাশে যেতাম লিও সেখানে ময়লা জামা চুলিগুলি এলোমেলো, দেখে মনে হতো মাত্রই ঘুম থেকে উঠে এসেছে। দাতগুলো দেখলে মনে হতো কয়েক বছর ব্রাশ করেনা। ওর রুমমেট একবার আমাদের কাছে অভিযোগ করলো লিও ভাই সাতদিন ধরে গোসল করে না। লিও তখন হেসে রুমমেটেকে বললো এই তুই মিথ্যা কথা বললি ক্যান? আমিতো দশদিন গোছল করিনা। আসলে লিও নাওয়া খাওয়া ভুলে রাতের পর রাত জেগে নাটক লিখতো কবিতা লিখতো, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নাটকে অভিনয় এবং পরিচালনার কাজে নিয়জিত থাকতো।
ঢাকা আসার পর আমরা সবাই যখন জীবিকার টানে ছুটে চলছি। লিও তখন টিভি নাটক এবং সিনেমা বানানোর স্বপ্নে বিভোর। একদিন ফোন দিয়ে বললো আর টিভিতে আমার একটা নাটক হচ্ছে দ্যাখ। দেখলাম খুব ভাল নাটক বানিয়েছে,শহীদুজ্জামান সেলিম, আফসানা মিমিসহ বেশ কয়েকজন তারকা অভিনেতা অভিনেত্রীদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছে।আমি ভাবলাম লিও শেষ পর্যন্ত স্টার হয়েই গেল। এখনো ইউটিউবে খুঁজলে বেশকিছু নাটক পাওয়া যাবে তার।শুনেছি একটা সিনেমা বানানোর কাজেও হাত দিয়েছিল, কিন্তু শেষ করতে পারেনি অর্থের অভাবে।
কিছুদিন আগে আমার একবন্ধু বললো লিও একটা প্রতারক। ও আমার কাছ থেকে দশলাখ টাকা ধার নিয়েছিল নাটক বানাবে এবং লাভসহ ফেরত দেবে বলে, কিন্তু বছরের পর বছর ঘুরাচ্ছে টাকা ফেরত দিচ্ছে না। তাই ওর বিরুদ্ধে চেক ডিজওনারের মামলা করেছি। শুধু ওই বন্ধুই নয়, ছোটভাই বড়ভাই অনেকের কাছ থেকেই জানতে পারলাম লিও তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে নাটক বাননোর জন্য, তাই সবাই মামলা করেছে। এইসব মামালায় লিও কিছুদিন জেলও খেটেছে।
আসল ঘটনা হচ্ছে বিখ্যাত হওয়ার নেশায় ধার করে অনেক বেশী ইনভেস্ট করে ফেলেছিল। কিছু নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে বিক্রি করতে পারলেও টাকা পায়নি। আবার কিছু নাটক বিক্রি করতেই পারেনি। তাই আজ লিও ফেরারি আসামী। লিওর মত প্রতিভাবান ছেলের অনেক ভাল কিছু করার কথা ছিল , কিন্তু ওই যে কথায় আছে এই দেশে কবি সাহিত্যিক লেখকদের ভাত নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





