somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

মহান মে দিবসে কৃষক ও শ্রমিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

০১ লা মে, ২০১৮ সকাল ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ। কোন সোনারকাঠি রুপারকাঠির স্পর্শে নয়। আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষের শ্রমে ঘামে এগিয়ে যাচ্ছে আমার সোনার বাংলাদেশ। ক্রিকেটার মাশরাফি একবার বলেছিলেন আমরা এই দেশের জন্য করেছি? আমরা শুধুমাত্র এই দেশের মানুষকে আনন্দ দিয়েছি, কিন্তু প্রকৃত বীরতো তারাই যাদের শ্রমে ঘামে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। মাশরাফির এই বক্তব্য ভারতসহ অনেক দেশের মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করেছে,সবাইকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। আজকে আলোচানার বিষয় ক্রিকেট নয়,আমার দেশের এই সব শ্রমজীবী মানুষকে সম্মান জানানো।

কৃষক :

গ্রামে বাড়ি হওয়ায় আমি নিজেও কৃষি কাজের সাথে সরাসরি জড়িত, তাই আমি জানি এক কেজি চাল উৎপাদন করতে কৃষকের কি পরিমাণ পরিশ্রম হয়। শহুরে একটা বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করেন চাল কোথায় পাওয়া যায়? সে বলবে দোকানে। কথা সঠিক, চালতো দোকানেই পাওয়া যায়। এই চালকে দোকান পর্যন্ত নিয়ে আসার পিছনে কৃষকের যে অমানুষিক পরিশ্রম জড়িত রয়েছে তা কি কেজিতে ৬০ দিয়ে মেটানো যায়? আবার আপনার আমার দেওয়া এই ৬০ টাকা অর্ধেক চলে যায় মধ্যস্বত্তভোগীদের দখলে। কোন কোন সময় কৃষক তার প্রকৃত উৎপাদন খরচও পান না। তবুও তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করে যান। একজন শিশু কাদামাটির মত, তাকে অবশ্যই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানানোর পাশাপাশি মানুষ বানান। আমরা যে খাবার খাচ্ছি তার পিছনে কৃষকের কি ত্যাগ জড়িত রয়েছে তা তাকে বোঝান এবং কৃষকের কাছে কৃতজ্ঞ হতে শেখান।

শ্রমিক :

প্রতিদিন আমি যে সময়ে অফিসে বের হই গার্মেন্টস শ্রমিকরাও একই সময়ে তাদের কাজে হয়,রাস্তায় পা ফেলার জায়গা থাকে না এত মানুষ। বেশিরভাগই মহিলা। যারা একসময় শুধুমাত্র ঘরের কাজ করে সময় কাটাতো, তারা আজ ঘরে বাইরে সমানতালে পরিশ্রম করে যাচ্ছে,যে অর্ধেক জনগোষ্ঠী একসময় ঘরের কাজে সময় কাটাতো আজ তারাই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। যাদের অমানুষিক পরিশ্রমের ফলেই আমরা আজ সুন্দর পোষাক পরতে পারছি। আমার দেশের ১কোটি শ্রমিক পৃথিবীর বিভিন্নদেশে নানা পেশায় নিয়জিত থেকে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করছে। পরিবার পরিজন ফেলে হাড়ভাংগা খাটুনি খেটে অর্থ উপার্জন করছে, যা অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

দেশ প্রাতি বছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পড়ে কিন্তু আমরা ভয় পাইনা, আমাদের এই সাহস কে দিয়েছে? দিয়েছে আমাদের কৃষক, আমাদের শ্রমিক। আমাদের কৃষক যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দমে যান না,সব ফসল নষ্ট হয়ে গেলেও আবার নতুন উদ্যমে ফসল ফলান। আমাদের মুখে খাবার তুলে দেন।শ্রমিকও তার পরিশ্রমের হাত সবসময় সচল রাখেন।

তাই আমাদের সবার উচিৎ এইসব
মেহনতি মানুষকে ভালবাসা,এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। মহান মে দিবসে এইসব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৮ সকাল ১১:৪৭
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×