
সকাল সাড়ে সাতটা মানেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়া। এ সময় আমার চলার পথের সঙ্গী হাজার হাজার কর্মব্যস্ত গার্মেন্টস শ্রমিক। বাসা থেকে বের হয়েই এসব মানুষের স্রোতে ভেসে ভেসে বাস স্টান্ডের দিকে যাওয়া। এ সময় সব অলিগলিগুলো মানুষের স্রোতে প্রবাহমান এক একটি নদী। এই স্রোতের মাঝখানে শুধু দাঁড়িয়ে থাকলেই চলবে ওরাই আপনাকে ধাক্কিয়ে পৌছে দেবে আপনার গন্তব্যের। সবার চেহারায় ব্যস্ততার ছাপ।
সকালের রাস্তার এইসব খেটে খাওয়া মানুষের উপর নির্ভর করে বেচে আছে আরো কিছু মানুষ। আমার বাসার নিচের রাস্তায়ই আছেন একজন অন্ধ ভিখারী নানী। যিনি ভোর ছয়টা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত ভিক্ষা করেন। আমার ধারণা এই ভিখারী নানীর ইনকাম অনেক চাকুরীজীবীর চেয়েও বেশি। আমার বাসার দারোয়ানের ধারণা নানী প্রতিদিন এক হাজার টাকার বেশী ইনকাম করেন।এই অন্ধ নানীর মত অন্তত আরো দশজন ভিখারীর জীবিকার উৎস এই সকাল বেলার ব্যাস্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ভাই বোনেরা।
পথে যেতে যেতে প্রতিদিন সকালে দেখা হয় একজন মাদ্রাসার খাদেম সাহেবের সাথে। যিনি তার ছোট্ট হ্যান্ডমাইক নিয়ে সবাইকে দোয়া করেন আর মাদ্রাসার এতিম বাচ্চাদের জন্য টাকা তোলেন। ওনার ভাষ্য এই টাকা আখিরাতে ৭০গুন হয়ে আপনার কাছেই ফিরে আসবে। গার্মেন্টস শ্রমিক ভাই বোনেরা আখিরাতে শান্তির আশায় তাকে দু হাতে টাকা দান করেন।
সাতসকালে রাস্তার পাশে দেখা মিলে পরোটা বিক্রেতা,সিংগাড়া বিক্রেতার। এদেরকে খুবই প্রয়োজন হয় শ্রমিক ভাইবোনেদের। অনেকেই এত সকালে বাসা থেকে নাস্তা সেরে আসতে পারেন না, তাই এই ভ্রাম্যমাণ পরোটা ও সিংগারা বিক্রেতাই এদের ভরসা।
রাস্তায় আরো দেখা মেলে কিছু আচার চাটনি, তেতুল, কাচা আম মাখা, পেয়ারা মাখা বিক্রেতা। বেশিরভাগ গার্মেন্টস কর্মীই যেহেতু মহিলা তাই তেতুল আচার বিক্রেতার বেচাবিক্রিও খুবই ভাল। এছাড়াও চা, সিগারেট বিক্রেতা, পান বিক্রেতা, শরবত বিক্রেতাসহ আরো কত মানুষ যে এদের উপর নির্ভরশীল তার হিসেব নেই।
এইদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা প্রতিদিন ৮-১৫ ঘন্টা পর্যন্ত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে। অথচ তাদেরকেও ঈদের বেতন বোনাসের দাবীতে রাস্তায় নামতে হয়। এই সামন্য রোজগেরে মানুষগুলোর উপরও আরো কিছু মানুষ নির্ভরশীল। এভাবেই এ পৃথিবীতে আমরা সবাই সবার নির্ভরশীল।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



