
ঈদ মানেই নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে যাওয়া, সেটা যত কষ্টই হোক। কত ঝক্কিঝ্যমেলার পর অবশেষে ছায়াসুনিবিড় নিজ গ্রামে পৌছানো। যানজট আর ধুলাবালির শহরে হাপিয়ে ওঠা মানুষগুলো মাত্র কয়েকদিনের স্বস্তি আর প্রিয়জনের সানিধ্য পাওয়ার লোভে শত বাধা অতিক্রম করে নিজে গ্রামে ফেরে।
আমাদের গ্রামটা সত্যিকারের গ্রাম বলতে যা বোঝায় তার সব বৈশিষ্ট্যই আছে। আছে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ,সবুজ বন বনানী, গাছে গাছে পাখিদের গান। গ্রামের প্রতিটির বাড়ির উঠানের পাশেই গাছে গাছে ঝুলে আছে আম, কাঠাল,নারকেল, জাম্বুরা,পেয়ারসহ কত্ত কত্ত ফল। যেগুলো খাওয়ার জন্য ফরমালিন নামক বিষের কথা একবারও ভাবতে হয় না। টিউবওয়েল চাপলে গপ গপ করে বেরিয়ে আসে বিশুদ্ধ পানি যা পান করা যায় নিশ্চিন্তে। পথের পাশে দুষ্টু কাঠবিড়ালীর নির্ভিক ছোটাছুটি,কিংবা বুনো কবুতর, শালিকের নিশ্চিন্ত মনে খাবার খোজা।এবারতো একটা কচ্ছপকে রাস্তাপার হতে দেখলাম। একটু ভাবুন আপনার চোখের সামনে দিয়ে একটা কচ্ছপ রাস্তা পার হয়ে যাচ্ছে এমন দৃশ্য কজনে দেখেছেন?
ঈদ মানেই ছোটবেলার সব বন্ধুদের একসাথে পাওয়া। এদের অনেকেই ঢাকায় থাকে কিন্তু যান্ত্রিক এই শহরে দেখা হওয়ার সুযোগ এবং সময় কোথায়? বছরে দুই ঈদই সবাইকে মিলিয়ে দেয়। কত্ত কত্ত গল্প, ছেলেবেলার স্মৃতিচারন ,বর্তমান সময়ের গল্প আরও কত কি!
গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে গেছে স্রোতহীন শান্ত নদী নবগঙ্গা।নদী ভাঙন নেই, তাই নদীটি এলাকাবাসীর জন্য শুধুই আশির্বাদ। নদীতে এখনও ব্রীজ নেই, তাই ডিঙি নৌকাই এলাকাবাসীর নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। ছেলেবেলার সেই তপু'দাই এখনও খেয়াঘাটের মাঝি। বংশপরস্পায় তপুদারাই এই এলাকার মানুষকে নদী পার করে যাচ্ছেন।
গ্রামে ছোট্ট একটা বাজার। গ্রামবাসী নিজ আঙিনায় লাগানো গাছের কচি লাউ,নিজের পরম যত্নে পালিত লাল গরুটার টাটকা দুধ, কিংবা ধান পাট বিক্রি করার জন্য এই বাজারেই আসে। আবার সেই টাকা দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বাজারের শান বাধানো বটতলা বসে চায়ের সাথে আড্ডা।
ঈদ মানেই বারবার ফিরে যাওয়া নাড়ির টানে নিজ গ্রামে একটু শান্তির আশায়।
বিঃদ্রঃ
গত আটমাসে সামুর ব্লগারা আমাকে আপন করে নিয়েছেন পরম ভালবাসায় এজন্য সকলের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ইদানিং সামুতে সময় বেশি সময় দিতে পারছি না তাই সবার লেখা পড়া ও মন্তব্য করা হচ্ছে না সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত আশাকরি খুব তাড়াতাড়িই আবারও নিয়মিত হতে পারবো।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




