somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

বেকার জীবন(৩য় পর্ব)

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাশেদের দুটো টিউশনির মধ্যে ওসি সাহেবের ফ্যামিলি খুবই আন্তরিক হলেও অন্য পরিবারটি পুরোপুরি রোবট টাইপের। রাশেদের মনে হয় এই বাসার লোকজন প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটাও কথা বলে না। তকি আর তাসনীম দুইভাইবোন একসাথে পড়ে। তকি ক্লাস সেভেনে আর তাসনিম পড়ে ফোরে। পড়াশুনায় দুজনই খুবই ভাল, তাই খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয়না রাশেদকে। একটু দেখিয়ে দিলেই ওরা সহজেই আয়ত্ত্ব করতে পারে। এই বাসার মানুষগুলো যেমন রোবটিক এদের নাস্তাও তেমনি, পাউরুটির সাথে পনির খেতে দেয় বেশিরভাগ দিন। এটা খুবই জঘন্য খাবার রাশেদের কাছে। ফেরত দিলে যদি পরবর্তীতে নাস্তা না দেয় এই ভয়ে চোখ বুজে ওষুধের মত গিলে ফেলে। আসলে নিজের ইনকামের টাকা খরচ করে বিকেলের নাস্তা করার অবস্থা নেই তার,তাই টিউশনির দুইবাসা যে দেয় নাস্তা সেটাই তার ভরসা।

এরই মধ্যে চাকুরী খুজতে ব্যাপকভাবে লেগে পড়েছে রাশেদ। সাপ্তাহিক চাকুরীর খবরে যতগুলো সার্কুলার থাকে সবগুলোতে তার এপ্লাই করা চাই ই চাই। বেশিরভাগ চাকুরীতেই অভিজ্ঞতা চায়, সে জানে তাকে ডাকবে না, তবুও সে এপ্লাই করে ব্যাংক ড্রাফট পাঠায়। তার ইনকামের একটা বড় অংশই চলে যায় এই ব্যাংক ড্রাফটের পিছনে।

একবার চাকুরীর খবর পত্রিকায় সার্কুলার ছিল একটা গার্মেন্টস বায়িংয়ে বেশ ভাল বেতনে কিছুলোক নিয়োগ করা হবে ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে। এমন একটা বিজ্ঞাপন দেখে সেও যায় ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য যায়। একসময় ডাক পড়ে রাশেদের। ইন্টারভিউ নিচ্ছেন একজন মহিলা, বেশ কিছু সহজ সহজ করেন তিনি।রাশেদ সবগুলোই প্রশ্নই ভালভাবেই উওর দেয়। উনি একটা ফর্ম পুরণ করতে বলেন,রাশেদের ফর্ম পুরণ শেষ হলে মহিলা বলেন
-আপনার চাকুরী হয়ে গেছে, আপনি আগামী মাস থেকে দশ হাজার টাকা এবং তিন মাস পর আঠারো হাজার টাকা বেতন পাবেন।
রাশেদ বেশ খুশি এত সহজেই চাকুরী পাওয়া গেল। কিন্তু সেই মহিলার পরের কথাটা শুনে আর চাকুরী করার ইচ্ছা রইলো না। মহিলা এরপর বললেন
-আপনি যেহেতু ফ্রেশ, আপনাকে ফর্ম বাবদ এক হাজার এবং তিন মাসের ট্রেনিং বাবদ দশ হাজার টাকা জমা দিতে হবে।
এবার রাশেদের বুঝতে বাকি রইলো না যে এটা একটা দুই নম্বর কোম্পানি।
রাশেদ তখন বললো
-আমার চাকুরী চাই না, আমার কাগজ পত্রগুলো ফেরত দিন।
তখন আরও দু তিনজন ছেলে রুমে প্রবেশ করলো এবং একজন বললো
-ফর্ম যেহেতু পুরণ করেছেন তখন এক হাজার টাকা আপনাকে দিতেই হবে।
কিন্তু সে একটাকাও দিতে রাজী নয়।ওই ছেলেগুলো তখন টাকা না দিলে কোনমতেই তাকে বাইরে যেতে দেবে না।ওদের একজন আবার রাশেদের হাতের ফাইল কেড়ে নিলো, এবং মুল সারর্টিফিকেট খুজতে লাগলো। মুল সারর্টিফিকেট বাসায় রেখে গিয়েছিল তাই রক্ষা। রাশেদ তখন যে ওসি সাহেবের মেয়েকে পড়ায় ওনাকে ফোন দিয়ে সংক্ষেপে নিজের বিপদের কথা বললো এবং সাহায্য চাইলো। ওসি সাহেব তখন ওই মহিলার হাতে ফোনটা দিতে বললেন। ওসি সাহেব মহিলাকে বললেন
-রাশেদ আমার আপন ভাতিজা ওর যদি কিছু হয় তবে তোদের সবকটাকে জেলের ভাত খেতে হবে।
ওসি সাহেবের কথা শুনে মহিলার চেহারা বাংলা পাচের মত হয়ে গেল, এবং রাশেদকে চলে যেতে বলে।


এ পর্বের শিক্ষাঃ

বেকারদের জন্য প্রতারকরা চারিদিকে প্রতারনার জাল বিস্তার করে রেখেছে, তাই কোম্পানি সম্পর্কে আগে ভালভাবে খোঁজ খবর নিয়ে তবেই ইন্টারভিউ দিতে যাবেন। এবং বিপদে সাহায্য করতে পারে এমন পরিচিত জনের মোবাইল নম্বর অবশ্যই সাথে রাখবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৩০
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য সাইলেন্ট ইকো

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফিকশনাল ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্রতিষ্ঠান, স্থান, সাল ও অপরাধের মোটিভ লেখকের কল্পনানির্ভর। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা অমীমাংসিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×