somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কমলদহের কোমলদেহে

১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সৃষ্টির প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে অপার বিস্ময়।বর্ষাকালে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ঝর্ণাদর্শনের সৌভাগ্য কতজনেরই বা হয়।ঝর্ণার ভান্ডার হিসেবে খ্যাত সীতাকুণ্ড মিরসরাইয়ের অন্যতম একটি ঝর্ণা বড় কমলদহ।বর্ষায় এই ঝর্ণা যেন তার প্রকৃত রূপ-যৌবন পুরোপুরিভাবে ফিরে পায়।সীতাকুন্ড-মিরসরাই রেন্জের ঝর্ণাসমূহ দেখতে চাইলে চট্টগ্রাম শহর থেকে ভোরে এবং ঢাকা থেকে এমন সময়ে রওনা দেয়া উচিত যাতে সকাল ৭-৮টার মধ্যে সীতাকুন্ড পৌছানো যায়।তাহলে দুপুরের মধ্যে ট্রেইল শেষ করে বিকেলে পার্শ্ববর্তী অন্য কোন স্পট থেকেও ঘুরে আসা যাবে।বড় কমলদহ ঝর্ণায় যেতে হলে চট্টগ্রামের একে খান থেকে অথবা ঢাকা থেকে আসার পথে সীতাকুন্ড বড় দারোগারহাট স্টেশনে নামতে হবে। বড়দারোগার হাট মোটামুটি বড় একটা বাজার।প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র এখানে পাওয়া যাবে এবং সকালের নাস্তাটাও এখানে ভালভাবে সেরে ফেলা যাবে।



বড়দারোগার হাট স্টেশনে নেমে উত্তর দিকে (ঢাকার দিকে) পাঁচ মিনিট হাঁটলেই হাতের ডানপাশে একটি ইটভাটা দেখা যায়।ইটভাটার পাশের সড়ক দিয়েই কমলদহের যাত্রা শুরু।একেবারে গ্রামীণ বাড়িঘরের মাঝ দিয়ে ইটের সড়কটি চলে গেছে।কিছুদূর পর পরই স্থানীয় গাইডদের দেখা যায়।কেউ চাইলে এখান থেকে গাইড নিয়ে নিতে পারেন।কিছুদূর পথ এগোলেই চোখে পড়বে ঢাকা চট্টগ্রাম রেললাইন।রেললাইন পার হয়ে মেঠোপথ ধরে হাঁটতে থাকলে সামনের পাহাড়গুলো চোখের রেটিনায় স্পষ্টতর হতে থাকবে।পাহাড়ে প্রবেশ করা মাত্রই বামপাশের পথ ধরে ঢুকতেই দেখা মিলবে বড় কমলদহের ঝিরিপথ।



ঠান্ডা এবং স্বচ্ছ জলের ধারা, পাথর বিছানো ঝিরিপথ যেন কমলদহের অভ্যর্থনাকারী। ঝিরিপথের দুইপাশে দেখা যাবে কলাবাগান, বিভিন্ন ফলের বাগান,শাকসবজির ক্ষেত।ঝিরিপথ ধরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগোলেই দেখা মিলবে বিশাল আকৃতির ঝর্ণা।লোকমুখে বড় কমলদহ নামে পরিচিত হলেও এটি মূলত রূপসী ঝর্ণা।রূপসী ঝর্ণার রুপ-লাবণ্য দেখেই বুঝা যায় নামকরণের যথার্থতা।এই রূপসীর মোহেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকেরা।উপরের তিনটি ধাপ বেয়ে নেমে আসা পানি নিয়ে নিচে তৈরী হয়েছে জলাধার।সেখান থেকে জলধারা সেই পুরনো চেনা পথে বয়ে চলে আপন গতিতে।



বাকী ঝর্ণাগুলো দেখার জন্যে সরাসরি ঝর্ণা বেয়ে উপরে উঠা যায় আবার ঝর্ণার পাশে পাহাড়ের গা বেয়েও উপরে উঠা যায়।বড় কমলদহ ট্রেইলের এটিই কিছুটা বিপজ্জনক পথ।বর্ষাকালে মাটি পিচ্ছিল থাকায় ঝর্ণা বা পাহাড়ের গা বেয়ে উপরে উঠার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।এ ধাপটি পার হলে অনায়াসে আরো তিনটি ঝর্ণা দেখা যায়।পাহাড়ের গা বেয়ে উপরে উঠে হাঁটতে হাঁটতে আবার নিচে নামলে ঝিরিপথের দেখা পাওয়া যাবে। সেই ঝিরিপথ ধরে কিছুদূর এগোলেই একটি মোড় পাওয়া যাবে যেখান থেকে সোজা এবং হাতের বামদিকে মোট দুটি রাস্তা পাওয়া যাবে।সবগুলো ঝর্ণা দেখার ইচ্ছা থাকলে বামপাশের ঝিরিপথে প্রথমে যাওয়া উচিত।ঝিরিপথ ধরে পানিতে পা বুলিয়ে হাটতে হাটতে চোখে পড়বে দুই পাশের ঘন বন জঙ্গল আর কানে ভেসে আসবে নানা রকম পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ।নুয়ে পড়া বৃক্ষরাজি দেখে মনে হয় অতিথিদের স্বাগত জানাতে ভালই প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।এ যেন একেবারে প্রকৃতির মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া।



ঝিরিপথ ধরে দশ মিনিটের মত হাটলে হাতের ডান পাশে আরো একটি ঝিরিপথ দেখা যাবে।তবে এ ঝিরিপথের ঝর্ণাটি ফিরে আসার পথে দেখা উত্তম।তাই সোজা আরো কিছুদূর এগোলেই দেখা মিলবে ২য় ঝর্ণা ছাগলকান্দার।এটিই সম্ভবত কমলদহের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্ণা।অনেক উপর থেকে ঝর্ণার পানি নিচের বড় বড় পাথরগুলোর গায়ে পড়ে স্ফুলিঙ্গের মতো ছিটকে পড়ে।রূপসী ঝর্ণার মতো এই ঝর্ণার সামনেও ছোট্ট পুকুরের মত পানি জমে থাকে।পানির পরিমাণ একেক সময় একেক রকম থাকে।তাই সাঁতার না জানলে লাঠি দিয়ে পানির গভীরতা মেপে মেপে ঝর্ণার নিচের বড় পাথরগুলোর কাছে পৌঁছাতে হবে।এবার সেই পাথরগুলোর উপর দাঁড়িয়ে ইচ্ছেমত ঝর্নাস্নান করতে পারেন। ঝর্ণার পানি যখন প্রবল বেগে শরীরে এসে আঘাত করে তখন অন্যরকম এক অনুভূতি হয়।




ছাগলকান্দায় কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ফেরার পথে আগের ফেলে আসা ঝর্ণা দেখতে যাওয়া যায়।এটি ছোট একটি ঝর্ণা, তাই এখানে খুব বেশি সময় নষ্ট না করে অন্য ঝর্নাগুলো দেখতে যাওয়া উত্তম।ফেরার পথে হাটতে হাটতে দেখা মিলবে সেই প্রথম মোড়ের যেখান থেকে ২য় আর ৩য় ঝর্ণা দেখার জন্য যাওয়া যায়।এবার অন্য পথটি ধরে ১৫ মিনিটের মতো হাটলেই পৌঁছে যাবেন ৪র্থ ঝর্ণায়।এটিও অনেকটা ২য় ঝর্ণা ছাগলকান্দার মত। ক্লান্তির কারণে বেশীরভাগ পর্যটক এ ঝর্ণা দেখে ফিরে আসেন।সামনের ঝর্ণাগুলো আর দেখতে পারেন না।তবে সময় এবং শক্তি থাকলে এ ঝর্ণার পাশে পাহাড়ে উঠার পথ খুঁজে নিয়ে আরো কয়েকটা ঝর্ণা দেখা যায় এবং একেবারে নারায়ণ আশ্রম হয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ফটিকছড়ি হয়ে বের হওয়া যায়।

সীতাকুন্ড বড়দারোগার হাটে ভালমানের বেশ কিছু খাবার হোটেল আছে।যেখানে হরেক পদের তরকারী পাওয়া যায়। তাই ঝর্ণা দেখা শেষে ক্লান্ত হয়ে বড়দারোগার হাটে এসে পেটভরে দুপুরের খাবার খেতে পারেন।আবার এখান থেকে কেউ চাইলে অল্প সময়ের মধ্যে পার্শ্ববর্তী গুলিয়াখালী সী-বিচেও ঘুরে আসতে পারেন।



সতর্কতা:
ট্রেকিং এরজন্য মানানসই জুতা পড়ে যাওয়া উচিত।লাঠি সাথে রাখা উত্তম।ব্যাগ যত সম্ভব হালকা রাখতে হবে।কখনো অতিআত্মবিশ্বাসী হওয়া যাবে না।সাঁতার না জানলে গভীর পানিতে নামা উচিত নয়। বেশ কয়েকজন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনাও আছে এখানে।একসময় রূপসী ঝর্ণার সামনের জায়গায় রাতে ক্যাম্পিং করা যেতো কিন্তু সম্ভবত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে এলাকাবাসী এখন রাতে অবস্থান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।চিপস,বিস্কুটের প্যাকেট,পানির বোতল,প্লাস্টিক পণ্য তথা পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে এমন কোন কিছু ফেলে ঝর্ণার প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৮:৪২
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×