somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তরুন ইউসুফ
কাব্যগ্রন্থ : ট্রাফিক সিগন্যালে প্রজাপতি, না গৃহী না সন্ন্যাসী; রম্যগল্পগ্রন্থ : কান্না হাসি রম্য রাশি। ছোটদের বই : রহস্যে ঘেরা রেইনফরেস্ট ইতিহাস গ্রন্থ: শেরে বাংলা ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কিছু দুষ্প্রাপ্য দলিল

নিতম্ব

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গোল্ডলিফের নিতম্বে আরামসে একটা দম দিয়ে লম্বা ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে আয়েশি ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল মাহমুদ হোসেন। অফিসে ঢোকার প্রাক্কালে এই নির্দিষ্ট জায়গাটিতে দাঁড়ানো রোজকার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে তার। জায়গাটি অফিস থেকে একটু দূরে চার রাস্তার সংযোগস্থল। প্রতিদিন সকালের এই সময়টিতে এই রাস্তা দিয়ে অসংখ্য মানুষের যাতায়াত সংঘটিত হয়। কত কিসিমের মানুষ। নারী-পুরুষ, অফিসগামী, স্কুল কলেজগামী ছাত্র ছাত্র্রী, চোর-বাটপার, ভদ্র-অভদ্র। মাহমুদ হোসেন এখানে দাঁড়িয়ে এসব যাতায়াত অবলোকন করে। তবে তার দৃষ্টি সতর্কভাবে একটি বিশেষ শ্রেনীর চলাফেরার প্রতি নিবিষ্ট থাকে। নারী শ্রেনী। এই মধ্যবয়সের আছড়ে হঠাৎ করে মাহমুদ হোসেনের নারীদের নিতম্বের প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ জন্মেছে। চলন্ত কোন কমবয়সী নারীর নিতম্ব প্রায়শই সে নিবিষ্ট মনে প্রত্যক্ষ করে দারুণ একটা আনন্দ পায়। এই জায়গাটি তার এই খানিকটা নিষিদ্ধ আনন্দ পাবার অন্যতম উৎসস্থলও বলা যেতে পারে।
মাহমুদ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। স্ত্রী মায়মুনাকে নিয়ে তার আপাত সুখের সংসার। তবে মায়মুনা সুন্দরী কি না কিংবা সুন্দরী হলেও কতটুকু সুন্দরী তা নিয়ে আজকাল প্রায়ই সে দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যায়। অন্য নারীর নিতম্ব প্রত্যক্ষকালে প্রায়ই সে মায়মুনার নিতম্বের সাথে তুলনা করে। কিন্তু এই তুলনায় সে খুব বেশি যুত পায় না। তার কারন তখন মায়মুনার অবয়ব কোন এক বিচিত্র কারনে সে মনে করতে পারে না। তার সামনে শুধুমাত্র প্রত্যক্ষরত অবয়বটি প্রকটরূপে ধরা দেয়। এটা নিয়ে মাহমুদ হোসেন বেশ একটা অস্বস্তি আর অপরাধবোধে ভোগে। তবে কি সে মায়মুনাকে ভালবাসেনা? তবে কি তাদের এই পাশাপাশি থাকা শুধুই জৈবিক প্রয়োজনে? তবে কি মায়মুনার মধ্যে আর আকর্ষন খুজে পায় না সে?
অবশ্য বেশ সুন্দরি একটা মেয়ে তার নিতম্বে অত্যধিক আন্দোলন তুলে মাহমুদ হোসেনের সামনে দিয়ে হেটে গেল, ধুমপান করতে করতে তার এই দার্শনিক চিন্তা খুব বেশি আগানোর সুযোগ পায় না। মেয়েটির চলন বড় বেশি আকর্ষনীয় একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে সঙ্গমরত অবস্থায় প্রত্যক্ষকৃত মায়মুনার নিতম্বের সাথে মেয়েটির তুলনা করতে করতে এত বেশি নির্লজ্জ হয়ে মেয়েটের চলার দিকে চেয়ে থাকে যে, সে যে অনেক পথিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলে তা বুঝতে পারে না।
মাহমুদ হোসেন এত বেশি বেখায়াল হয়েছিল যে তিনজন হিজড়া যে তাকে ঘিরে ধরেছে সে বুঝতে পারেনি। ঘিরে ধরা হিজড়াদের একজন দুইটা তালি দিয়ে ”এই মিনসে খাড়ায়া খাড়ায়া মাইয়াগো পাছা দেখতাছো আমগো টাকা দেও” বলার পর সে সম্বিত ফিরে পায় এবং ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। তার চমকে ওঠা খানিকটা কৌতুকপূ্র্ণ হওয়ায় অন্য দুজন হিজড়া মেয়েদের মত হাসির হিল্লোল তুলে একে অপরের গায়ে ঢলে পরে। তাড়াহুড়া করে পকেট থেকে একটা দশ টাকার নোট বের করে লিড নেয়া হিজড়ার দিকে এগিয়ে দেয় সে। হিজাড়াটি দশ টাকা নিতে অস্বিকৃতি জানিয়ে একশ টাকা দাবি করে বসে।
মাহমুদ হোসেন এবার খানিকটা রেগে গিয়ে একশ টাকা দেবে না জানাতেই অকস্মাৎ লিড নেয়া হিজড়া এমন কাজ করে বসে তা মাহমুদ হোসেন কখনও কল্পনাই করেনি। হিজরাটি তার পড়নের স্কার্ট তুলে লোমশ পশ্চাদ্দেশ উন্মুক্ত করে মাহমুদ হোসেনের দিকে এগিয়ে ধরে বলে ” পাছা দেখার এত শখ শালা দেখ”।
মাহমুদ হোসেন বেদিশা হয়ে কোন উপায় না দেখে ঝেড়ে দৌড় লাগায়। দৌড়াতে দৌড়াতে আশ্চর্য হয়ে মাহমুদ হোসেন লক্ষ্য করে এযাবত মায়মুনার অবয়ব মনে করতে না পারলেও এই মুহূর্তে মায়মুনার পনের বছর আগের অবয়ব তার মনে পড়েছে।
পনের বছর আগের এক দিনে মাহমুদ হোসেন বিয়ে করার জন্য পরিবারের সাথে মেয়ে দেখতে গিয়েছিল। মেয়েটি ছিল মায়মুনা। মায়মুনা খুব বেশি সুন্দরী বলা যায় না। কিন্তু মায়মুনাকে মাহমুদ হোসেনের মা একটু হেঁটে দেখাও বলাতে যখন মায়মুনা তাদের সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল তখন মায়মুনার নিতম্বের আন্দোলিত সৌন্দর্য দেখে মাহমুদ হোসেন ওই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মায়মুনাকেই সে বিয়ে করবে।
যদিও মাহমুদ হোসেনের মা মেয়ে দেখে অতটা পছন্দ না হওয়ায় বিয়েতে নিমরাজি ছিল।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:২৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঘুমিয়ে আছে কারা

লিখেছেন আরমান আরজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫




এখানে ঘুমিয়ে আছে কে?
আমি তো দেখছি সবাই জেগে
চাঁদ সূর্য হতে শুরু করে এ্যমাজন বনের অদ্ভুত প্রজাপতিটিও
ভিনগ্রহের শত বছর আয়ুর বাসিন্দারা
প্রতিটি ধূলিকণা এমনকি অদৃশ্য পবনও
গভীর সায়রের মৎস্যকন্যা হতে শুরু করে বিস্তৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×