somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তাসিন , সবার থেকে আলাদা
ছোট্ট জীবনে অনেক ভাঙ্গাগড়া দেখেছি । আমার সৃষ্টিকর্তা ,অস্তিত্ব রক্ষাকারী আল্লাহ্‌ কে ছাড়া কাউকে ভয় করিনা। বর্তমানের মানুষ ও দেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা মাথায় ঘুরে। দেখা যাক, কিছু করা যায় কিনা ?

জঙ্গি সংগঠন কি আসলেই ইসলামের শিক্ষা মানে ?????

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে, বর্তমান বিশ্বে ইসলামকে খারাপ ভাবে তুলে ধরা হয় । কিন্তু ইসলাম কখনই এইসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে সমর্থন করেনা। বরং ইসলামের ধর্মগ্রন্থগুলোতে যেকোন মানবতা বিরোধী কাজকে অত্যন্ত ঘৃনীতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সত্যিকারের মুসলিম কখনই এইসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করবে না। যেসব ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের কথা বলা হয়, তারা আদৌ ইসলাম মানেনা । কারণ , তারা ইসলামের শিক্ষার বাইরে কাজ করছে। তারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত । এছাড়া, তাদেরকে কখনই দেখা যায় না অসহায় মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে। তাদের মাঝে যদি আসলেই ইসলামের শিক্ষা থাকতো, তাহলে তারা আগে অসহায় মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতো। তারা রোহিঙ্গা, ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন প্রভৃতি দেশের মুসলিমদের পাশে দাঁড়াত। এর থেকেই প্রমাণ হয় যে, তারা আসলেই মুসলিম নয় । তাদের ঈমান নেই।

এইখানে আমি শুধুমাত্র কোরআনের কয়েকটা রেফারেন্স দিলাম, ইসলাম কি বলে, মানবতা নিয়ে ..............


"আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, যেখানে সে স্থায়ী হবে এবং তার প্রতি আল্লাহর গযব ও অভিসম্পাত এবং তিনি তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন"। (সূরা নিসা, আয়াতঃ ৯৩)

"আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করো না। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত।" (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াতঃ ৩৩)

"নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতিরেকে, কেউ কাউকে হত্যা করল্‌ সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানব গোষ্ঠীকে হত্যা করল। আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানব গোষ্ঠীকে রক্ষা করল" (সূরা মায়েদাহ, আয়াতঃ ৩২)


এমনকি যুদ্ধ চলাকালীন সময়েও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে । শুধু তাই নয়। শত্রুরা শান্তি চাইলে, সেটার প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যুদ্ধের পুরো পরিস্থিতিটা তাদের উপর দেয়া হয়েছে। শান্তিটাও তাদের উপর। তারা শান্তি চাইলে , শান্তি ; যুদ্ধ চাইলে , যুদ্ধ । ইসলাম সবসময় শান্তির পক্ষে।


“আর তোমরা আল্লাহর পথে ঐ সমস্ত লোকদের সাথে যুদ্ধ কর, যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসে। এবং সীমালঙ্ঘন কর না। আল্লাহ তো সীমালংঘন কারীদেরকে ভালবাসেন না।” (সূরা বাক্বারা, আয়াতঃ ১৯০)

"আর যদি তারা সন্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে তুমিও সে দিকেই আগ্রহী হও এবং আল্লাহর উপর ভরসা কর। নিঃসন্দেহে তিনি শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত। ( সুরা আনফাল, আয়াতঃ ৬১)

"যদি কোন কাফির (অমুসলিম) তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থণা করে, যদি তারা শান্তি চায়, তাহলে তোমরা তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দাও"। (সূরা তওবা : আয়াত ৬)

"আর তাদেরকে হত্যা কর যেখানে তাদেরকে পাও এবং তাদেরকে বের করে দাও যেখান থেকে তারা তোমাদেরকে বের করেছিল। আর ফিতনা হত্যার চেয়ে কঠিনতর এবং তোমরা মাসজিদুল হারামের নিকট তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো না, যতক্ষণ না তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সেখানে লড়াই করে। অতঃপর তারা যদি তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তবে তাদেরকে হত্যা কর। এটাই কাফিরদের প্রতিদান"। (সূরা বাক্বারা, আয়াতঃ ১৯১)

"তবে যদি তারা বিরত হয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। (সূরা বাক্বারা, আয়াতঃ ১৯২)

"আর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর যে পর্যন্ত না ফিতনা খতম হয়ে যায় এবং দীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। সুতরাং তারা যদি বিরত হয়, তাহলে যালিমরা ছাড়া (কারো উপর) কোন কঠোরতা নেই।"(সূরা বাক্বারা, আয়াতঃ ১৯৩)


শুধু সাধারন মানুষ নয়, এমনকি গর্ভের সন্তানকে হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে ।


"দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্নক অপরাধ।" [ সুরা বনী-ইসরাঈল, আয়াতঃ ৩১ ]

দ্বীনের ব্যাপারেও জোর-জবরদস্তী করতে নিষেধ করা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য আছে । অমুসলিমদের সাথে ভালো ব্যবহার ও ন্যায়বিচার করার জন্য আলাদাভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাঙ্গা তো দূরের কথা, খারাপ ব্যবহারই করা যাবেনা ।

“ ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা মুমতাহিনা, আয়াতঃ ৮)

“ দ্বীনের ক্ষেত্রে জোর-জবরদস্তী করা যাবে না। হেদায়েত এবং গোমরাহি স্পষ্ট হয়ে গেছে। যে ব্যক্তি ‘তাগুত’ কে অস্বীকার করল সে এমন ‘মজবুত হাতল’ ধরল যা কখনো বিচ্ছিন্ন হবার নয়।” (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ২৫৬)

এমনকি ,ইসলামে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নাই; সকল মানুষ সমান। প্রতিটা মানুষকেই সন্মান দিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী হিসাবেও থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। যে ইসলামকে জানে, বুঝে, সে কখনও মানুষ হত্যা করতে পারে না এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী হিসাবেও থাকতে পারেনা । কারণ, এই ব্যাপারে বারবার নিষেধ করা হয়েছে । একজন সত্যিকারের ধার্মিক মুমিন কখনও এমন করে না।

“হে মানুষগণ, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মাঝে আল্লাহর নিকট সেই সবচেয়ে বেশী সম্মানিত যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহ ভীরু।” (সূরা হুজুরাত, আয়াতঃ ১৩)

শুধু কাফিরদের বিরুদ্ধে নয়, মুমিনদের কেউ ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। ইনসাফ করতে বারবার বলা হয়েছে ।


"যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ইনছাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনছাফকারীদেরকে পছন্দ করেন"। [(সুরা হুজুরাত ,আয়াত: ৯ )

অতএব বোঝা যায়, ইসলাম কখনও মানবতা বিরোধী কার্যকলাপ কে সমর্থন করে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×