
শিবাজী ভোঁসলে বা ছত্রপতি শিবাজী রাজে ভোঁসলে ছিলেন মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। শিবাজী বিজাপুরের আদিলশাহি সালতানাতের সাথে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সাথে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এবং হেরেও যান। তিনি একটি স্বাধীন মারাঠা সাম্রাজ্যের পত্তন করেন যার রাজধানী ছিল রায়গড়ে। তিনি ১৬৭৪ সালে মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজা হিসেবে মুকুট ধারণ করেন।শিবাজী হিন্দাভী স্বরাজ্যের মতবাদকে সমর্থন দান করেন। তিনি মারাঠা শাসন পুণঃপ্রতিষ্ঠা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তিনি তার সুশৃঙ্খল সামরিক বাহিনী এবং সুগঠিত শাসন কাঠামোর মাধ্যমে একটি দক্ষ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি একজন কুশলী সামরিক কৌশলবিদ ছিলেন এবং গেরিলা যুদ্ধের ধারণার সূচনা করেন।শিবাজী ১৬২৭ সালের ৬ই এপ্রিল বা ১৬৩০ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে জেলার জুন্নার শহরের নিকটে শিবনেরি পার্বত্য দুর্গে জন্মগ্রহণ করেন। কিংবদন্তি অনুসারে, শিবাজীর মা শিবাই দেবীর নামানুসারে তার নামকরণ করেছিলেন কারণ তিনি শিবাই দেবীর নিকট একটি স্বাস্থ্যবান সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন।শিবাজীকে এই স্থানীয় দেবতার নামে নামকরণ করা হয়েছিল।শিবাজীর পিতা শাহজী ভোঁসলে দাক্ষিণাত্যের সালতানাতগুলোর অধীনে কর্মরত একজন মারাঠা সেনাপতি ছিলেন। তার মা জিজাবাই সিন্দখেদের লখুজীরাও যাদবের কন্যা ছিলেন। শিবাজীর জন্মের সময় দাক্ষিণাত্যের শাসনক্ষমতা তিনটি ইসলামি সালতানাতের অধীন ছিল, বিজাপুর ও আহমদনগর এবং গোলকুন্ডা। শাহজী প্রায়ই আহমদনগরের নিজামশাহী বংশ বিজাপুরের আদিলশাহী বংশ এবং মুঘলদের মধ্যে দল পরিবর্তন করতেন কিন্তু তিনি সবসময় পুনেতে তার জায়গির এবং একটি ছোট্ট সেনাবাহিনী নিজের সঙ্গে রাখতেন।

বাল্যকালেই মহারাষ্ট্র দেশ সম্পর্কে এবং স্থানীয় পার্বত্য মাওয়ালি জনগোষ্ঠীরর সাথে শিবাজীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয়। এই মাওয়ালিদের নিয়েই তিনি সর্বপ্রথম বিশ্বস্ত এক সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। ১৬৪৭ সালে কোণ্ডদেবের মৃত্যুর পর শিবাজী রাজ্যজয়ে মনোনিবেশ করেন। রোলিনসন মনে করেন যে বিদেশী শাসন থেকে স্বদেশকে মুক্ত করাই শিবাজীর রাজ্যজয়ের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। সম্পদের লোভে লুঠতরাজ করা তার অভিপ্রেত ছিল না। সরদেশাই বলেন সারা ভারতে হিন্দু সাম্রাজ্য স্থাপন করাই শিবাজীর লক্ষ্য ছিল।রতাপগড়ের যুদ্ধ ১৬৫৯ সালের ১০ই নভেম্বর বর্তমান ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের সাতারা শহরের নিকটে প্রতাপগড়ের দুর্গে মারাঠা রাজা শিবাজীর সৈন্যবাহিনী এবং বিজাপুরের সেনাপতি আফজাল খানের সৈন্যবাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়। মারাঠারা সংখ্যাস্বল্পতা সত্ত্বেও বিজাপুরি বাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। এটি ছিল কোনো প্রধান আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে মারাঠাদের প্রথম বিজয়।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



