ধরুন আপনার কাছে একটি বেলুন আছে, যেটাকে ফুলিয়ে বড় করতে হবে। আপনি একটা বেলুনকে কতটা বড় করতে পারবেন?
উত্তর সহজ, বেলুনটি নিজের সহনীয় মাত্রা পর্যন্তই বড় হবে। তারপর ফেটে যাবে।
এবার ইতিহাসের দিকে তাকাই। ‘মহাবীর আলেকজেন্ডার’, কী ছিলনা তার! একজন রাজার সবচেয়ে বড় যে আত্মতৃপ্তি, মস্ত বড় রাজত্ব, সে রাজত্ব তার ছিল। পৃথিবীর কোনায় কোনায় তার রাজত্ব ছড়িয়ে ছিল। ছোট ছোট রাজ্যগুলো তার সম্রাজ্য গিলে খাচ্ছিল। কিন্তু সেটা বেলুনের মতই একসময় ফেটে গেছে। কারণ সেটা আর সহ্য করতে পারছিল না। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। নিজে মারা গিয়েছিল নিজ ঘরে শত্রুতার শিকার হয়েই, তারপর ভেঙ্গে গিয়েছিল তার রাজ।
বৃটিশ সম্রাজ্যের কথাই ধরুন। আমেরিকা, চীন, ভারত, আফ্রিকার কিয়দাংশ ও অস্ট্রেলিয়া। কোথায় ছিলনা তাদের রাজত্ব। সেটাও বেলুনের মতই আর ফুলে ফেপে উঠা সম্ভব হয়নি। এক এক করে স্বাধীন হয়েছে। এখন নিজেদের খুব কাছের স্কটল্যান্ড স্বাধীনতার জন্য চোখ রাংগাচ্ছে।
বর্তমান আধুনিক যুগ অতীত যুগের রাজ্য দখলের মত নয়। আমেরিকা চাইলে বাংলাদেশ দখল করতে পারবে না। আফগানিস্তান , ইরাক , সিরিয়া শুধু ধ্বংসই করেছে কিন্তু নিজের করতে পারেনি। তারা সেটা নিজেরাও চায়নি, কারণ সেটা সম্ভব না। ঠিক এমনি ভাবে অন্য দেশও বাংলাদেশকে দখল করতে পারবে না। সেটা হবে আত্মঘাতী। বেলুনের মতই।
পৃথিবীর বড় দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের প্রতিবেশী দেশগুলো কতটা সুখী আছে। স্কটিশরা স্বাধীনতা চেয়েও পাচ্ছেনা। তাইওয়ান স্বাধীন হবার পরেও পরাধীন, মেক্সিকো যুক্তরাষ্টকে নিয়ে কখনোই সুখী নয়। কিন্তু এরা নিজেদের একটা শক্ত অবস্থান তৌরী করেছে। তাইওয়ান পৃথিবীর অন্যতম উন্নত প্রযুক্তির দেশ। চীন চাইলেও তাদের গিলতে পারছে না। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি কে নিজের মত করেই সাজিয়েছে। সার পৃথিবীতে তারা একটি ব্রান্ড।
বেশ কিছুদিন ধরেই উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতি থেকে শুরু করে ব্লগ, মিডিয়া সব জায়গাতেই ভারতের বাংলাদেশ নিয়ে অসম্ভব কিছু সম্ভাবনা বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে উড়ছে। নানা কারনেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সাথে আমাদের আমদানী রপ্তানী বাণিজ্য কখনোই স্বাভাবিক ছিলনা। ভারত “CONTROL WATER, CONTROLED EVERYTHING “ এই নীতিতে আছে। নানা কারণ দেখিয়ে তারা আমাদের নদীর পানি শাসন করছে। ভারত বড় দেশের ফ্রাঙ্কেস্টাইন চরিত্র দেখিয়েছে, কিন্তু আমরা নিজেদের বাঁচানোর জন্য কতটা কাজ করেছি। আমরা বেশি বেশি খাল খনন করে বর্ষা মৌসুমে পানি আটকিয়ে রেখেছি কি? বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের ট্রানজিট সহ নানা বিষয়ে একচোটিয়া আধিপত্য খুব অস্বাভাবিক তা বলা যাবেনা। এটা আমাদের উন্নয়ন ছাড়াও সার্বভৌমত্য নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু আমরা কি আমাদের নিজেদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যরকম ভাবে তুলে ধরতে পেরেছি? সবাই জানে আমাদের সস্তা শ্রম আছে, কিন্তু আমাদের মেধাবীরা সারা পৃথিবীতে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে মেধা দিচ্ছে , সেটা কতটা স্বীকৃত। এক ডঃ ইউনুস সারা পৃথিবীতে একটু সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশী হিসেবেই, আমরা তাকে এদেশে ঢুকতে দেয়াও পছন্দ করিনা। তার চাইতে কি বড় কুলাঙ্গার এদেশে বাস করছেনা? ভারত আমাদের জোড় করে তাদের টিভি চ্যনেল , নাটক, সিনেমা, গান ঢুকিয়ে দেয়নি, আমরাই তা স্বতস্ফুর্তভাবে গ্রহণ করেছি। উল্টো আমরা নিজেদের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করতে শিখেছি, শিখাচ্ছি। বড় দেশের সংস্কৃতি ছোট ছোট সংস্কৃতিকে গিলে খাবেই। আমাদের দেশের উপজাতীয় সংস্কৃতি কতটুকু টিকে আছে, আবার আমরা ভারতের মাঝে ডুবে যাচ্ছি, ভারত ডুবছে আমেরিকান সংস্কৃতিতে। কারণ তারা তাদের কাছে পুঁটি মাছ।
সবশেষে প্রথম কথাতেই ফিরে যাচ্ছি, ভারত যদি ভুলেও কখনো আমাদের গিলে খেতে চায় তাহলে সেটা অসহনীয় হয়ে উঠবে বেলুনের মতই। তখন তাদের ভাবতে হবে শুধু বাংলাকে নিয়েই নয়, তামিলদের মত প্রতিষ্ঠিত ভাষা, সংস্কৃতি, সিনেমা ও ঐতিহ্য নির্ভর জাতি কে নিয়েও। যেমনটা ভাবতে হচ্ছে স্কটিশদের নিয়ে বৃটিশদের।
…………………………………………………………..
৭ই জুলাই, ২০১৬
2:50 PM.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

