somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিতে ও স্বপ্নে কক্সবাজার

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোথায় আছো? আমি জানি যে সে সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার গেছে। তবুও জিজ্ঞেস করলাম বেশি কিছু জানার জন্য। কিন্তু সে বেশি কিছুই জানালো না। উত্তরে বললো, এখন বাসাতে। ঢাকা চলে এসেছি আজ সকালেই। ফেসবুকে দেখিছি, ওরা বেশ মজা করেছে। তবে কয়েকজনকে চিনতে পারিনি, তাই জিজ্ঞেস করলাম, কে কে গিয়েছিলে? সে সংক্ষিপ্ত পরিচয়ে পরিচয় করালো। আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও কখনও আমাদের সম্পর্কের সম্মোধন তুমি থেকে তুই-এ নামেনি।

মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগের কথা যখন আমরা ছয় বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম কক্সবাজার! কোন মেয়ে বান্ধবীও ছিল না। আর এখন দুজন বাদে চার জনেই বিবাহিত। বিয়ের আগে থেকেই কর্ম ব্যস্ততার জন্য একে অন্যের খোঁজ খবর একটু কমই হতো, তবে মাসে একবার করে আমরা কোন না কোন বাহানায় মিলিত হতাম। কিন্তু বিয়ের পর সে ফুসরত মেলা বেশ ভার হয়ে গেছে।

অতীত রোমন্থন করার মজাই আলাদা আর সেটা যদি ভাল কিছু হয় তাহলে তো কথাই নেই। বন্ধুমহলে অনেক বন্ধু থাকলেও কক্সবাজার আমরা সেবার ছয়জনেই গিয়েছিলাম। আর সেটা ঠান্ডার সময়েই। দারুন ছিল সেই যাত্রা। দুটো ডাবল বেডের রুম নিয়ে ছিলাম ছয়জন। একরুমে তিনজন করে। সেটাও যেন এক মজার ঘটনা। দুটো বেড জোড়া লাগিয়ে যে তিনজনের মধ্যে একটু বেটে তাকে শোয়ালাম দুজনের মাঝখানে। বড় দুজন লেপ টানাটানি করে ঠিক করে নিয়েছি এমন সময় ছোট জন বলে কিনা ঠান্ডা লাগছে, আমি মাঝখানে থাকবো না।

দুজনে ওর কথায় পাত্তা দিলাম না, হাসতে শুরু করলাম। একটু পরে সে বলা শুরু করলো, সিরিয়াসলি আমার ঠান্ডা লাগছে। আসলে হয়েছে কী, সে তো দুই বেডের মাঝ খানে শুয়েছে, সেই মাঝখান দিয়েই ঠান্ডা ঢুকছে! সে মাঝখানে থাকবে না বলে বিছানার কোণায় গিয়ে বসে বলতে থাকলো সারারাত সে ওভাবেই থাকবে। কি আর করার, বাধ্য হয়েই আমাদের লম্বা দুজনের ব্যাগ থেকে শীতের কাপড় বের করে বেডের মাঝখানের ঠাণ্ডা প্রবাহ বন্ধ করতে হল। নিজে শুয়ে দেখালাম দুজনের চেয়ে সেই বেশি আরামে থাকবে - এমনটি বুঝিয়ে আশ্বস্ত করার পরেই তাকে শোয়ানো গেল। আর আমাদের শয়ন লীলার পুরো কথাবার্তা শুনে পাশের রুমে থাকা বাকি তিনজনের হাসির ইতি ঘটলো।

সকালে উঠে নাস্তা খেতে, সমুদ্র সৈকতে হাটতে, ঘোড়া বা মোটর বাইকে করে চড়ে বেরাতে, সমুদ্রের লোনা পানিতে গোসল করতে, গোছলের পর প্যান্টের পকেটে বালি জমেছে দেখতে, তীরে ভেজা বালিতে ঘুগরি পোকার নিপুন শৈলী দেখতে, দুপুরের খাবার খেতে, পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সমুদ্রের শেষ সীমা দেখার বৃথা চেষ্টা করতে, তীরে মাঝারী বা বড় প্রবালের উপর বসে থাকতে, শান্ত নিশ্চুপ সেই ক্ষণে একমনে সূর্যাস্ত দেখতে, সাফারি পার্কের গহীনে গিয়ে প্রানীদের দেখতে, রাতের খাবার খেয়ে তারপর হোটেলের রুমে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে নিতে কত শত স্মৃতি যে অলিখিত থেকে যাবে কক্সবাজারের মাত্র ঐ তিন দিনের ট্যুরে সে শুধু উপরওয়ালাই জানেন।

আমাদের মধ্যে এক বন্ধুর ছিল একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, আর একজনের ছিল সাইবার শট। এদুটো দিয়ে অনেক ছবি তুলেছি আমরা। সদ্য কেনা ক্যামেরার উদ্যমতা, আর এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে শিক্ষক কিংবা বড় ভাইদের কাছে বেশ কিছু ক্যামেরার ব্যাকরণ শিখে সেগুলোর পুরো ইস্তেমাল করা হয়েছে। ক্যামেরার মেমরি ফুল করা হয়েছিল। আর আমাদের পাঁচ জনের হাতেই তখন ছিল ক্যামেরাওয়ালা ফোন, এসব দিয়েও কম ছবি তোলা হয়নি। অবশ্য একজনের ছিল টাচ ফোন। সেটারও একটা কাহিনী মনে পড়ছে, ধীরে ধীরে বলছি।

রাতে আমাদের মধ্যেই একজন কথায় কথায় জানালো তার একটা বান্ধবী কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে আগামীকাল কক্সবাজারে আসছে। অচীন জায়গায় এসেও চেনা বান্ধবীর দেখা হবে, সে তো দারুন ঘটনা। এমন ভাবতে ভাবতে সুখ সুখ ভাব নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে তার পৌঁছার সংবাদ পেলাম। কিন্তু ছাত্রীদের বাইরের কারো সাথে যোগাযোগ করে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে দুপুরে স্যারেরা সমুদ্র স্নানের জন্য সবাইকে নিয়ে যাবেন, তখন দেখা হওয়ার একটা সবর্ণ সুযোগ রয়েছে বলে জানালো।

গোছল করতে করতে এগিয়ে এলো আমাদের কাছে। দেখা হলো। ছবি তুলে চাইলো। অনেক ছবি তোলা হচ্ছে, ডিএসএলআর দেখে ঐ বান্ধবী তার আরও বান্ধবী-ম্যাডামকে ডেকে ডেকে ছবি তুলতে শুরু করলো। সমুদ্রের দিকে দু-এক পা করে এগিয়ে যেতে যেতে আমাদের বন্ধু তাদের ঢেউয়ের মধ্যে সুন্দর সুন্দর ছবি তুলতে তুলতে পকেটে যে টাচ ফোনটা ছিল তা বেমালুম ভুলে গেল। একটু পরেই টের পেলেও ঢাকায় ফিরে ডাক্তার দেখিয়েও সেই ফোনের শেষ রক্ষা হয়নি। বান্ধবীরা ফোনের এই ট্রাজিক কাহিনী জেনেছিল অনেক পরে। সরি বলেছিল। তবে ঢাকায় ফিরেই ক্যামেরা দিয়ে তাদের তোলা ছবি পৌঁছে দেয়া হয়েছিল আন্তরিকভাবেই।

দুপুরে সমুদ্রে গোছলের পর রাতে দেখা করতে গিয়েছিলাম ঐ বান্ধবীর হোটেলের নিচে। স্যার ম্যাডামদের কড়া শাসন আর বিধিনিষেধ থাকায় নামতে পারেনি। দেখা করতে পারেনি ঢাকা থেকে এতো দূরে আসা কাকতালীয়ভাবে ভ্রমনের দিনক্ষণ মিলে যাওয়া আপন বন্ধুটির সাথে। সে বেলকনিতে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে আর নিচে চায়ের দোকানে সামনে দাড়িয়ে আমার বন্ধু ওভার ফোনে কথা বলছিল। আমি চা খাচ্ছিলাম। তাদের অনেকক্ষণ ধরে কথা হলো তবে দেখা হল না। তারা পরদিন রাঙ্গামাটি চলে যায়। অনেক সকালে যাওয়ায় আমাদের সাথে দেখা হয়নি।

এরপর থেকে আমার বন্ধুর ঐ বান্ধবীর সাথে আমার আর কোনদিন দেখা হয়নি। দেখা হবে কিনা তাও জানিনা। ঐবারের মত করে ঐ ছয়বন্ধু মিলে কক্সবাজার আর যাওয়া হয়নি, যদিও অন্যভাবে (বিয়ের পর শুধু বউকে নিয়ে হানিমুনে) যাওয়া হয়েছিল। যদি সুযোগ হয় তাহলে সবার বিয়ে সম্পন্ন হলে বউ নিয়ে একসাথে যাব একবার বলে আশা করছি। যদিও এরই মধ্যে দুজনের বাচ্চাও ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। সমস্যা নেই, আশা যখন করেছি, পূরণ হতে শুধু সময় প্রয়োজন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×