somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংবিধান সংশোধনঃ চিল্লাচিল্লি ও জনগণ

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সংবিধান নিয়ে কথা বলতে হলে সংবিধান কি সেটাইতো আগে জানা উচিত।সংবিধান দিয়ে কি করে?সংবিধান না থাকলে রাষ্ট্রের কি ক্ষতি হয় ?কেনই বা সংবিধান আসছে? যাই হোক এসব কথা বলতে হলে অবশ্যই সংবিধান জানতে হবে।সংবিধান হল রাষ্ট্রের আচার আচরণ (সংকীর্ণ অর্থে)।সংবিধান লিখিত বা অলিখিত হতে পারে।লিখিত হলে সুবিধা আপনি তা দ্রুত তা পড়তে ও জানতে পারেন।লিখিত না হলে শাসক গোষ্ঠী জনগণ নামক গোষ্ঠীর চৌ্দ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করত আর এ থেকে বাঁচার জন্য সংবিধান প্রয়োজন।যাতে তারা অযথা জনগণের গলা চেপে না ধরতে পারেন।মানুষ সবসময় মুক্ত জীবনের সন্ধান চাই,তার স্বাদ পেতে চাই,তাকে পাখির মত দেখতে চাই।কিনতু মানুষকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া ও বোকামি এর অন্যতম কারণ হল মানুষ স্বভাবতই হিংস্র আবার স্বভাবতই পরোপকারী।বাংলাদেশে সংবিধান এ পর্যন্ত যতবার সংশোধন হয়েছে তার বেশিরভাগই হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য।এটা যদি না করত আমার মত একজন নগণ্য এ কথা বলতে পারতাম না।বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা কেউ এ কর্দয় কাজ থেকে মুক্ত নয়।হুটহাট কোন কাজ করলে মানুষের মনে সন্দেহ আসে তাছাড়া অনেক কাজ একত্র করে সংবিধান সংশোধন করা উচিত।এবারের সংবিধান সংশোধন যতটা না রাষ্ট্রের মৌলিকত্ব অর্জনের তার চেয়ে আইনমন্ত্রীর পারফরমেন্স কে বড় মনে হচ্ছে।আবার এর বিরোধিতাকারীরাও যে ভালো মানুষ সেটা ও ভাববার অবকাশ নেই।সব গোষ্ঠীই সবসময় তার স্বার্থরক্ষা করতে চাই ।তাই এরা ও তার বিরোধিতায় নেমেছে।এখানে জনগণের লাভ-লোকসানের কিছুই নেই।আনোয়ার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলায় বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থাপনায় কত বড় ক্ষতি হয়েছে শুধুমাত্র সংবিধানের দোহাই দিয়ে তা ও ভুলে গেলে চলবে না ।এক্ষেত্রে এরশাদকে আমি সবচেয়ে বড় কৃত্বর্ত দিতে পারি সেই একমাত্র রাষ্ট্রপতি যিনি কিনা প্রতিটি বিভাগে একটা করে সুপ্রিম র্কোট এর হাইর্কোট বিভাগের বেঞ্চ বসানোর জন্য চিন্তা করেছিলেন কিন্তু এইসব বিচারপতি ও আইনব্যবসায়ীদের জন্য হতে পারে নি।আর এখন সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে সেদিন যদি সে কাজটি সংসদ দিয়ে করিয়ে নেয়া যেত আজ বাংলাদেশের টেকনাফ বা তেঁতুলিয়ার মানুষকে গলায় দড়ি দিয়ে ঢাকার সুপ্রিম বা হাইকোর্ট চত্বরে যেতে হত না।একজন মানুষ বিচারের নামে নিঃস্ব হওয়ার জন্য বিচারবিভাগের কাছে যায় না ।সে বিচার পাওয়ার জন্য যায়।আসল কথায় ফিরে আসি …. অনেক বড় বড় সংবিধান বিশেষজ্ঞ আছেন যারা বড় বড় কথা বলেন হ্যাঁ বলেন তাদের স্বার্থের কথা জনগণের কথা বলেন না।তারা রাষ্ট্র থেকে কিভাবে সুবিধা আদায় করবেন তার কথা বলে এই জন্যে তাদের কথার ও সম্মান জানানোর আর কিছু নাই।গতকাল সর্বদলীয় আইনজীবী ফোরাম সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন ভাল কথা ।আপনারা বলছেন এই সংশোধনে গণতন্ত্র রক্ষা হবে না।আজব কথা ।আরে বাবা আপনারা নিজেরা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন তার পর রাষ্ট্রের সমালোচনা করেন ।আপনারা দলবাজ,দলীয় গুন্ডার মত বিচারবিভাগের হামলা চালান মিছিল মিটিং করেন তখন কোথায় যায় আপনাদের গণতন্ত্র নামক গণিকাতন্ত্র!!বাংলাদেশের কোন বিচারপতি কি নিজ দায়িত্ব নিয়ে গ্রামে –গঞ্জে গেছেন? সাধারণ মানুষের উপকার করার জন্য যাননি।কিন্তু ভারত সরকার বিচারপতিদের মাসে মাসে রাস্তায় বের করে সাধারণ মানুষের উপকার করার জন্য বেঞ্চ থেকে মেঠো রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছেন।আর গণতন্ত্র এর কথা বললে এ পদ্ধতি সর্বোত্তম পদ্ধতি আমেরিকা বা বৃটেন যাদেরকে গণতন্ত্রের পিঠস্থান বলে এখানে সংসদের মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিসংশনের ব্যবস্থা আছে।আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানে ও তা আছে ।তাহলে এত প্রতিবাদ করার কি আছে ?আসলে এই প্রতিবাদের মধ্যে জনগণের কোন লাভ নেই যারা করছেন তারা তাদের স্বার্থ আর গোষ্ঠীগত অহমিকা প্রদর্শনের জন্য করছে।নিছক বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা।রাষ্ট্র তার আগের মৌলিক অবস্থায় ফিরে গেল।আসলে কথা হল আমাদের নিজেদের চরিত্র নিয়ে আমরা সবসময় সন্দিহান।আমাদের মত ৩৬০০ রকমের চরিত্র পৃথিবীতে আর কেউ ধারণ করে কিনা আমার জানা নেই মুহূতেই আমরা পাল্টে যায়।এই শয়তান এই ফেরেশতা।জনগণ উপকার পেতেএই বিচার ব্যবস্থা থেকে যদি এর বিকেন্দ্রীকরণ করা যায়।যার যার এলাকায় থেকে যদি যা সত্যিকারের বিচার পায়।এখানে বিচার মানে তালগাছ আমার ।ঘুষ,দূনীর্তি বিচার সবই এক ঘরে বসবাস করে যখন যে যেটা চা্য় তাকে সেটা দেয়া হয় আর তা না হলে আপনার আর রক্ষা নাই ।তাই সংবিধান সংশোধন আমার কাছে গোষ্ঠীগত দ্বন্দব ছাড়া আর কিছু মনে হয় না জনগণ তাদের চিল্লাচিল্লি দেখে হাসে আর ভাবে কাক কাকের মাংস খায় না তবে মানুষ মানুষের মাংস খায় ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×