somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গরু মেরে জুতো দান!!

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গরু মেরে জুতো দান!!
ইউরোপ নিজেদের খোঁড়া গর্তে নিজেরাই পড়েছে।কতক দেশে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে মানুষকে নি:স্ব করে এখন ত্রাতার ভূমিকা পালন করছে!এত বড় কলোনিয়াল র্দুবুদ্ধি নিয়ে ইউরোপ বড় হয়েছে,সে চরিত্র তা আজও ছাড়তে পারেনি!ইউরোপের ইতিহাস যেমন আলোক উজ্জ্বল তেমনি ১৫ শতকের ভয়াবহ অন্ধকার ও বটে। শরণার্থীর নামে ইউরোপ আর আমেরিকার যৌথ দাস ব্যবসা আবারো শুরু করেছে।লোভ আর অসঙ্গতি যে সহজে দূর করা যায় না প্রগতির আড়ালে ইউরোপ আবার নতুন করে উদাহরণ তৈরী করল।অর্থনীতির মন্দাভাব আর কমখরচে পণ্য উৎপাদনে এরাই তো ভরসা।কম জ্বালানি খরচ,কম শ্রমিক খরচ সবকিছু মিলিয়ে অন্য দেশ দখল করে মানুষকে নি:স্ব করে আজ ইউরোপ বাণিজ্যিক মানবিকতাকেই প্রর্দশণ করল।শরণার্থীদের জন্য যে তহবিল ঘোষণা করছে আসলে তা হল- বিনিয়োগ!আগে আফ্রিকা বা এশিয়া থেকে তারা শ্রমদাস সংগ্রহ করত।তখন তাদেরকে মজুরি না দিয়ে খাটিয়ে মারত।এখনকার র্পাথক্য হল, থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আগে করে পরে বেতন আর সুযোগ সুবিধা কম দিয়ে পণ্য উৎপাদন বা শ্রম বিনিয়োগটা আগেভাগেই দখল করে রাখল এই যা,আর কিছু নয়। এর ফাঁকে জঙ্গী উৎপাদন আর তাদের নির্মূল না করে সমস্যার গোড়ায় হাত না দিয়ে হঠাৎ করে যে প্রেম ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মত উদগীরণ করল তার পেছনে যে স্বার্থ আছে তা সহজেই অনুমেয়।ইরাক,আফগানিস্তান,লিবিয়া,তিউনিসিয়া,মিশর,সিরিয়া সব দেশ আজ শেষ!যে তখাকথিত আইএস.বা তালেবান বা আলকায়েদা সব সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরী করে মানবিক পৃথিবী চর্চ্চার বদলে এক গোষ্ঠী বা জাতিকে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি করে তোলা সব তাদেরই কাজ।ধর্মীয় অনুশীলন ইউরোপ আর আমেরিকা বা পাশ্চাত্যরা তেমন একটা পাত্তা দেয় না।তাদের কাছে এসবের চেয়ে মানবিক গুণাবলী অনুশলীন আর কাজই বড়।অথচ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুশীলনে বুঁদ করে রাখা,অন্য জাত গোষ্ঠী থেকে তাকে আলাদা করে রাখা,একদিকে জঙ্গি বলে মারা অপরদিকে অন্যকে হত্যার জন্য আবার তাদের পেছনে অর্থ আর অস্ত্র দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করা ও ইউরোপ আর আমেরিকার নব্য মানবিকতা!! অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধে হয়ত ইউরোপ অংশগ্রহণ করে না কিন্তু পরোক্ষ অর্থযোগানদাতা হিসেবে বা জাতিসংঘে আইনগত সহায়তা দেয়ার জন্য ঠিকই আমেরিকার সাথে এক জোট হয়ে কাজ করে!আগেরকার যাদের উপনেবিশ ছিল তারাই পরবর্তীতে সেই উপনিবেশের ভালমন্দের দায়ভার তারা আজ গ্রহণ করে ছাড়ে। কমনওয়েলথ নামক সংগঠনের প্রতীক হিসেবে এখন ইংল্যান্ডের রাণী দাঁড়িয়ে !! ভাগ্য ভাল যে কানাডা আর অস্ট্রেলিয়ার মত ভাড়া দিতে হয় না বাংলাদেশকে!! সারাবিশ্বের কলোনিয়াল দেশগুলো থেকে চুরি করা,লুটপাট করা অর্থ দিয়ে তারা আজ বড় হয়েছে আর এখন তৃতীয় বিশ্বের নাম দিয়ে শ্রেনীবিভাগ করে আবার তারা কিছু অর্থ সাহায্য দিয়ে তাদের পুরনো পাপকে কিছুটা হালকা করছে।কিন্তু স্বীকার করবে না যে আমরা আজ যে শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত নিয়ে যে দাঁড়িয়ে আছি তা তোমাদের কাছ থেকে লুটপাট করে ।সে টাকায় তারা বিজ্ঞান,প্রযুক্তি,বাণিজ্যিক উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে ।ঐ পরিমাণ অর্থ যদি সাবেক কলোনিয়াল দেশগুলোর থাকত তাহলে তারা ও আজ ইউরোপ আর আমেরিকার মত বিজ্ঞানী,চিকিৎসক,অর্থনীতিবিদ, প্রযুক্তিবিদ তৈরী করতে পারত। তৃতীয় বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ তো তিনবেলা খাওয়া পাওয়ার জন্য জীবন শেষ করে দেয় এসব সৃষ্টিশীল কাজ করার তাদের সময় কোথায়।তারপরও তো পৃথিবী একবারেই যে কিছু দেয়নি তাতো নয় শিল্প, সাহিত্যিক, গণিতবিদ, পরমাণুবিদ, অর্থনীতিবিদ কি দেয়নি!! মাত্রাগত ভাবে ধরে নেয়া হয় অন্যান্যদের চেয়ে ইউরোপ একটু হলে ও প্রগতি বা মানবতাবাদি এটা অনেকই বিশ্বাস করে । হাজার অসঙ্গতির ভেতর এই মানবতাবাদী উদাহরণ তৈরী করতে শুধু ইউরোপই পারে এমন ধারণা ঊন ও অমূলক।।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×