somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

BGMEA--একটি অনৈতিক ব্যবসায়ীদের সংঘটন!!

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

BGMEA(Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association)একটি অনৈতিক ব্যবসায়ীদের সংঘটন।এখানকার বেশিরভাগ ব্যবসায়ী (অবশ্যই সবাই নয়)একদিকে সরকারের সাবসিডি আরেকদিকে শ্রমিকদের শ্রমশোষণ দুটোই করে থাকে।এর আর একটি নজির হলো – হাতিরঝিলে অবৈধ বিজেএমইএ ভবন যেটা আপিলে হারার পরও নিলর্জ্জদের মত রাষ্ট্রপতির মার্জনা ভিক্ষার অপেক্ষায় আছে!যারা নিজেদের দক্ষতায় বিদেশের ক্রেতার কাছ থেকে পোশাকের দাম এক সেন্ট বাড়াতে পারে না সেখানে তারা শ্রমিকদের মাসিক বেতন কমদেয়ার জন্য এক হতে পারে।গতকাল থেকে আশুলিয়ায় যা হচেছ এটা খুবই বেদনাদায়ক।দিনদিন জীবনযাপনের খরচ বাড়ছে সেতুলনায় শ্রমিকদের বাৎসরিক আয় বাড়ছে না।প্রডাকশনের নামে অতিরিক্ত শ্রম শোষণ ও সেঅনুযায়ী মজুরী তারা দেয়না।এছাড়া অনিরাপদ পরিবেশ,শ্রমদূর্ঘটনা ঘটেই চলেছে তার কোন সুরাহা তারা করতে পারে না।তাদের জোটবদ্ধ অনিচ্ছায় সবচেয়ে দায়ী।অথচ তারা তাদের দায় স্বীকার না করে শ্রমিকদের হুমকিধামকি দেয়।গার্মেন্টেসের বড় বড় পদগুলোতে স্কীল ম্যানপাওয়ার বদলে তারা বিদেশ থেকে কর্মকর্তা আমদানি করে দেশের মানবসম্পদকে পিছিয়ে দিচ্ছে।তারা শুধু এদেশকে ওই শার্টের পেছনে “মেইড ইন বাংলাদেশ” বলে বিদেশে প্রসার ও বাংলাদেশে ব্র্যান্ড নামে শুধু প্রচার চালাচ্ছে আদতে এটা দিয়ে শোষণকে দীর্ঘমেয়াদী করাই তাদের লক্ষ্য।শুধু তাই কি তারা একই সাথে আরেকটি ব্র্যান্ড বিদেশের মাটিতে প্রচার করে যারা তা কখনই স্বীকার করতে চায় না সেটা হল” বাংলাদেশ হলো স্বস্তা শ্রমের দেশ” এই নেতিবাচক প্রচারণার কারণে ও বিদেশের ক্রেতারা পোশাকের খরচের দাম বাড়াতে পারছেনা।অথচ এর দায়ও তারা নেবে না।শ্রমআন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য তারা বলছে ফ্যাক্টরি বনধ করে দেবে!তবে দাও।এগুলি তো ফ্যাক্টরি নয় তাদের একটা একটা দোকান মাত্র!দোকান বন্ধ করলে কি আর এমন হয়!ততদিনে তাদের অনেকেরই ডুয়েল সিটিজেনশিপ,বিদেশে বিনিয়োগ ফাইভস্টার হোটেলের মত জীবনযাপন আর কি লাগে!আর একজন শ্রমিক তার সমস্ত শ্রমের বিনিময়ে সারা জীবন পলিথিনের নিচেই স্যাতঁস্যাতে পরিবেশই থেকে যাবে।তবে অবাক করার ব্যাপার সরকারও খুবই রহস্যজনক ভূমিকা পালন করে।বাণিজ্যমন্ত্রী রাত্রে বললেন,এইসব আশুলিয়ায় যেসব শ্রমিক থাকে তাদের আগামী তিনবছরের বাড়ীভাড়া বাড়বে না।সকাল হতে না হতেই বিজেএমইএর ঘোষণা শ্রমিকদের যারা আন্দোলনে যুক্ত তাদের কে চাকরিতে নেয়া হবে না,বেতন দেয়া হবে না আর ৫৫টি ফ্যাক্টরি বনধ থাকবে!সংঘবদ্ধ চোর ডাকাতরা বাস্তবজীবনে এসব ব্যবসায়ীদের চেয়েও মানবিক হয়।পরিবেশ তাদেরকে চোর ডাকাত বানিয়েছে আর এদেরকে বানিয়েছে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী!হাজার হাজার শ্রমিকে মৃত্যু,আগুনে পোড়া শ্রমিকের লাশ,দালান ধ্বসে পড়া কোনকিছুই আর বাদ রইল না।এখানে আরেকটা কথা না বললেই নয়, বাঙালির মত চোদমারানির জাত পৃথিবীতে খুব কম আছে! এরা নিজদেশে,দেশপ্রেম,নিজের ভাল পর্যন্ত নিজেরা বোঝেনা।এটা বলার কারণ—”গার্মেন্টেসে কর্মরত বাঙালি ম্যানেজমেন্ট!সবকিছু এরা বিদেশেীদের শিখিয়ে দেয় কিভাবে দুই নম্বরী করে করফাঁকি,শ্রমিকদের বেতন মেরে দেয়া,স্যালারিশীট তিন চারটে বানিয়ে রাখা ,কমপ্লায়েন্স এর নামে নয় ছয় করে,শ্রমিকের খাবার থেকে পার্সেন্টিজ খাওয়া এদের নিত্যদিনের ব্যাপার। আর এইরকম দূনীর্তিবাজ কর্মকর্তারা যে শ্রমিকদের মারখেয়ে চাকরি ছেড়ে পালিয়েছে এইরকম ‍উদাহরণ ইপিজেডে অনেক।এইসব গুটিকয়েক বাঙালি ম্যানেজমেন্ট নিজেরা যেমন দূনীতির্তে জড়িয়ে যায় ঠিক তেমনি বিদেশী মালিকদের ও শিখিয়ে দেয় কিভাবে লভ্যাংশ বাড়িয়ে এদেশে থেকে মুনাফা নিয়ে যেতে হয়।বাংলাদেশ নাকি বিশ্বে রেডিমেট গার্মেন্টেসের দুই নম্বর স্থান দখল করেছে।অথচ আর্ন্তজাতিক মানদন্ডের তুলনায় দুই একটি ফ্যাক্টরির নাম দিয়ে সার্টিফিকেট কিনে,পরিবেশ সার্টিফিকেট কিনে বাহবা কুড়ায়!”অনেকটা উপর দিয়ে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট” টাইপের।বলতে চাইলে আর কোটি শব্দ দিয়েও শেষ করা যাবে না।শুধু এই কথা বলতে হয়- শ্রমিকদের ওপর এই হুমকি ধামকি বন্ধ করা হোক।শ্রমিকদের শ্রমাধিকার ফিরিয়ে দেয়া হোক।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৩২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×