দেওলিয়া হয়নি, তারপরও কেনযে বার বার নিজেকে তার দেওলিয়া মনে হয়। কি হারিয়েছে সে? কি ছিল তার? সে মগ্ন হয়, মাতাল হয়। আত্মকেন্দ্রিক বলতে যা বোঝানো হয়, তা সে নয়। কালে ভাদ্রে যে দুয়েকবার সে আত্মকেন্দ্রিক হয়েছে, তা কেবল পিছুটানদের কথা ভেবে। নিজের সুখ-শান্তি, আশা-নিরাশা, স্বপ্ন-দুঃস্বপ্নের কোনো দাম নেই তার। তার জন্ম হয়েছে গুটিকয়েক প্রিয়মুখের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। নিজের হাসি তার ফুটুক কিংবা না-ই ফুটুক তাদের প্রতি যত্নবান হবার জন্য। সে চেষ্টাই করে যাচ্ছে সে প্রতিনিয়ত। এত দায়ভার না থাকলে কবেই সে বিশ্ব সংসারে হাফুস হয়ে যেত! হরিপদ কেরানী হয়ে স্বপ্ন দেখতো কিংবা লুলু পাগলার মত দেশান্তরে ঘুরে বেড়াতো। মানুষ দেখতো, মানুষের কান্না-হাসি দেখতো... মানুষের চিরন্তন আবেগকে প্রশ্রয় দিত!
দায়িত্ব নিতে সে ভয় পায়? উহু সে দায়িত্ব নিতে জানে। তারপরও সব দায়িত্বের দায়ভার সে স্বীকার করেনা। আত্মকেন্দ্রিক সময়গুলোয় সে নিজেকে হয়তো কিছুটা চিনে। চিনে বলেই হাহাকারময় জীবনটা নিয়ে সে ধাবিত হয়। রোবোটিক কাজকর্মের মাঝেও সে কিছুটা সময় বন্ধুদের মাঝে কাটায়। তার প্রত্যেকটা বন্ধু এফ-ফাইভ। তার অসহ্য জীবনে ওরা তাকে রিফ্রেস দেয়। তার অজানা দুঃখগুলো না জেনেও তাকে গানের ভাষায় প্রেরণা দেয়। সে স্বাপি্নক হয়, সে কল্পোবিলাসি জীবনে নোঙর ফেলে, সে বুকভাসা প্রেরণা নিয়ে বাড়ি ফেরে।
বেঁচে আছে; তারপরও বোঝার উপায় নেইযে- সে মারা গেছে! শতরূপী মনটা থেকে বেরিয়ে আসা তার আবেগী হাসি মানুষকে দ্বিধান্বিত করে। তারা ভ্রু নাচিয়ে মৌলিক প্রশ্ন করে, পরিবর্তন তাদের চোখে এড়ায় কিংবা এড়ায় না। মানুষগুলোকে দ্বিধান্বিত সে করে নিজ প্রয়োজনে। নিজ প্রয়োজনে সে ঠকে, বোকা সাজে, চালাক হয়, আবেগী হয়, কঠিন হয় আরো কত কিছু...! এ এক বহুজাগতিক রহস্য! বিরাট ধাঁধা- পরিবর্তনহীন এক রঙের জীবনটা নিয়ে সে কিভাবে এত সৃষ্টিশীল স্বপ্ন দেখে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


