somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা শুধু ভাবিত হই

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে আমিও ভাবিত হই! কি অবাক হচ্ছ? হবারই কথা। সত্যি বলছি, আমিও ভাবিত হই। আমারও কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে। কোন দুষ্ট বিকেলের দুষ্ট স্বপ্ন নিয়ে গান গাইতে ইচ্ছে করে। পারিনা। সময় রহিম মাতালের মত বড্ড এলোমেলো। আমাকে কোনো প্রাপ্তির কাছাকাছি ঘেষতেই দেয়না। সুদূর প্রসারী কোনো স্বপ্ন নিয়ে জাল বুনতে আমারও বড্ড সাধ জাগে, ইচ্ছে করে কারও হাত ধরে কোনো লম্বা সময়ের পরিধি পেরিয়ে দিগন্তের প্রান্তসীমায় এসে নদীর জলে পা ভেজাতে। পারিনা। আমার প্রাপ্তিগুলো সময়ের কাছে ঋনগ্রস্ত।

স্বপ্নগুলো আমার নেহাতই আই.বি.এম এর দুর্বল কোনো প্রসেসর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অপারেটিং সিষ্টেমও ডস যুগের কাছাকাছি সময়কার। তাই চাইলেই আমি ভালো রেজুলেশনের ভালো কোনো রোমান্টিক ইমেজ কল্পনা করতে পারিনা। পারিনা নিজের নিয়তি নিয়ে গেম খেলতে। ভয় হয়। যদি হ্যাং করি? যদি প্রায় অর্ধেক নষ্ট প্রসেসরটি বাতিল হয়ে যায়? তখন মান্দাতার আমলের আই.বি.এম পার্টস পাবো কোথায়? প্রসেসর আমার আর সবার মত একটাই।

নিয়তি শালা সাংঘাতিক একচোখা ইয়াহিয়া খান। সুযোগ পেলেই আমার বিপরীতে রাগবি খেলার প্রতিপক্ষ সাজে। কখন, কোথায়, কিভাবে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়বে- ভাবতেই আমার রক্তে হিমালয়ের তুষার ঝড় নেমে আসে। আমি স্তম্বিত হই, মর্মাহত হই, ভাবিত হই; আমি কি এই পৃথিবীতে এতই ফেলনা? আমি সবার চোখে এতই অপাংক্তেয়?

... যতবার মতিঝিল থেকে রাতে বাড়ী ফিরেছি ততবারই আমার সার্চ ইঞ্জিন জীবনের সমার্থক অন্য জীবনের সন্ধানের গন্ধ পেয়েছে। ওদের লাইফ ষ্টাইল আদিমযুগের চেয়েও উন্মুক্ত, বিপদ সঙ্কুল, মানবেতর। সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকে এবং তিনি যদি আমারই মত তাদের ঘুমন্ত জীবনের ছবি দেখতেন তাহলে কাওরান বাজারের মোড়েই তিনি মুর্ছা যেতেন। না, তাদের জন্য কেউ অজ্ঞান-টজ্ঞান হয়না। তারা কেউ কোনোদিন কারও গল্পের বিষয়বস্তু হয় না। আমরা মানুষ। সৃষ্টিকর্তার চেয়েও আমরা মহান...! মাতাল চালকের মাতাল যন্ত্রের চাকায় পিষ্ট হয়ে কতজন অজানা গন্তব্যে চলে গেল.../যাচ্ছে। কেউ ক্ষুব্ধ হয়নি, কেউ প্রতিবাদ করেনি। এটা চিরন্তন সত্য যে, তাদের জন্মটাই ঝরার জন্য। বাদল দিনে ভেজার জন্য। শীতের দিনের সর্দি-কাশির জন্য। ক্ষুধার জ্বালা ভুলে থাকার জন্য। সস্তা দরের রঙিন স্বপ্ন দেখার জন্য। তাদের স্বপ্নগুলোতো আমার চেয়েও লো-রেজুলেশনের...। তো, তারা কি সেগুলোর প্রাপ্তির কাছাকাছি যেতে পারে...? নাহ। ...তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লিমিটেশন অনেক বেশি। অথচ এ নিয়ে তাদেরও মনে আক্ষেপ জাগে... এবং কেন অন্যদের মত তারা স্বাভাবিক জীবন লাভ করলো না তা ভেবে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। কিন্তু ঐ পর্যন্ত-ই। রাতের কথা- সকালে মাথার উপর ঝুড়িতে ফেলে ভুলে থাকাই তাদের নিয়তি। সৃষ্টিকর্তা কি এতই একচোখা, হিংসুক, কঞ্জুস...? স্বয়ং সৃষ্টির সেরা জীব যেখানে তাদের স্বজাতির দিকে মুখ তুলে চায় না, সেখানেই সৃষ্টিকর্তার আরাদনা...! ফু...। কিছুই করার নেই। আমাদেরও কিচ্ছু করার নেই। আমরা মাঝে মাঝে শুধু ভাবিত হই। বেশ এটুকুই। আমাদের লিমিটেশন অনেক বেশি কনজারভেটিভ, অনেক বেশি সৃষ্টিশীল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×