somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ট্রাবিড়ের ছাগলগুলি-1

২৫ শে মে, ২০০৬ ভোর ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই ট্রাবিড়কে ছাগলা বলিত। সে কখন কি বলিত, কি করিত, আর কি খাইত; তাহার স্থিরতা ছিলনা। লেখাপড়া না জানিত, এমন নহে। কিছু ইংরেজী, কিছু সংস্কৃত জানিত। কিন্তু যে বিদ্যা কপচালে রস বাহির হইবে না, সে বিদ্যা কি বিদ্যা? আসল কথা এই, রাস্কেলরা যে পথে হাঁটে সে পথে তার যাওয়া-আসা চাই। কত বড় বড় মূর্খ, কেবল নাম দস্তখত করিতে পারে, তাহারা তালুক মুলুক করিল---আমার মতে তাহারাই পন্ডিত। আর ট্রাবিড়ের মত বিদ্বান, যাহারা কেবল কতকগুলো বহি পড়িয়াছে, তাহারা আমার মতে গন্ডমূর্খ।

ট্রাবিড়ের একবার চাকরী হইয়াছিল। ছাগলা মানুষ এবং উহার মুখে ইংরেজী কথা শুনিয়া একজন সাহেব ডাকিয়া লইয়া গিয় একটি কেরানীগিরি দিয়াছিলেন। কিন্তু ট্রাবিড় চাকরি রাখিতে পারিল না। আপিসে গিয়া, আপিসের কাজ করিতনা। সরকারি বহিতে কবিতা লিখিত--- আপিসের চিঠিপত্রের উপরে রাস্কেলধমর্ী লেখকদের বচন তুলিয়া লিখিয়া রাখিত; বিল বহির পাতায় উলঙ্গ ছবি আঁকিয়া রাখিত। একবার সাহেব তাহাকে মাস কাবারের পে-বিল প্রস্তুত করিতে বলিয়াছিলেন। ট্রাবিড় বিল বহি লইয়া একটি স্বচিত্র প্রবন্ধ রচনা করিল। উহাতে সবাইকে উক্ত প্রবন্ধের অনুসারি হওয়ার আহবান করিল। সাহেব দেখেন তার ব্যবসার নিম্নদেশে বাঁশ ঢুকিতেছে, তখনই ট্রাবিড়কে মানে মানে বিদায় দিলেন। ট্রাবিড়ের চাকরি সেই পর্যন্ত। মান সম্মান রক্ষার বড় প্রয়োজন ছিল না তার। ট্রাবিড় কখনো কারো লেখা দারপরিগ্রহ করে নাই। স্বয়ং যেখানে হয়, একটি কলম আর কাগজ এবং আধ ভরি গঞ্জিকা পাইলেই হইত। অ-বাক নামক একজন মহান মানব তাকে বড়ই স্নেহ করিতেন। অনেক দিন সে তাহার ছায়াতলে আশ্রিত ছিল। তাহাকে তিনি ছাগলা বলিয়াই যত্ন করিতেন। কিন্তু তিনিও ট্রাবিড়কে রাখিতে পারিলেন না। সে কোথাও স্থায়ী হইত না। একদিন প্রাতে উঠিয়া পুরোপুরি উদম হইয়া কোথায় চলিয়া গেল! কোথায় গেল? সে এ পর্যন্ত আর ফিরে নাই।

তাহার একটি দপ্তর ছিল। সামহোয়্যার ইন ব্লগ নামক উচ্চ পঁচনশীল স্থানে সে যাবেই। কারন উক্ত জায়গা হতে মাঝে মাঝে যে সুভাশ ভাসিত, উহা তার ছাগলামীটায় মাতাল শক্তি জোগাইতো। ট্রাবিড়ের কাছে ছেঁড়া কাগজের প্রচুর কদর ছিল। দেখিলেই তাহাতে কি মাথা মুন্ড লিখিত, কিছু বুঝিতে পারা যাইত না। কাগজগুলি একখানি মসীচিত্রিত, পুরাতন, জীর্ণ বস্ত্রখন্ডে বাঁধা থাকিত। গমনকালে, ট্রাবিড় উক্ত স্থানটির ঠিকানা সবাইকে দিয়া গেল। আহবান করিল, উহা যেন দিন দিন তৈল সম্মৃদ্ধ হইয়া ওঠে।

সবার মত আমিও ভাবিত হইলাম; এ অমূল্য রত্ন লইয়া আমি কি করিব? প্রথমে মনে করিলাম উক্ত স্থানটিতে অগি্নঝরা অক্ষর উপহার দিব। পরে লোকহিতৈষিতা আমার চিত্তে বড় প্রবল হইল। মনে করিলাম যে, যে লোকের উপকার করে না, তাহার জন্ম বৃথা। এই দপ্তরটিতে অনিদ্রার অতি উৎকৃষ্ট ঔষধ আছে--- যিনি পড়িবেন, তাহারই নিদ্রা আসিবে। যাহার অনিদ্রা রোগে পীড়িত, তাহাদিগের উপকারার্থে আমিও ট্রাবিড়ের ছাগলামীগুলি প্রচারে প্রবৃত্ত হইলাম।

শ্রী তেলিচোরা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×