somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টেলিগ্রাম

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পর্ব: - ০১

ডিসেম্বর, ১৯৬৮। যেমন কনকনে শীত তেমন ঘন কুয়াশা, এমনও দিন যাচ্ছে সারা দিনে কোনো রোদের দেখা নেই! দিনে শীত আর রাতে সেই শীত বৈরি বিদ্রোহ হয়ে বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতো - আমরা বলতাম “জাড়, এবারের জাড়ের চোটে মানুষ পশুপাখি সব মারা যাবে”। দাদাজানের সাথে বড় চাচা, আব্বা, মেজো চাচা, ছোট চাচা খেজুরের গুড়ের চা আর টোষ্ট খেতেন আর বলাবলি করতেন - “বাজান বরফ যুগ চলে আসবে নাকি?”! সন্তানদের কাছে এমন কথা শুনে বৃটিশ সরকারের প্রতাপশালী অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার দাদাজান আরো চিন্তিত হতেন, তিনি কথার বিষয় অন্যদিকে মোড় নিয়ে ডোবা পুকুরের মাছ আর বিভিন্ন ফলমূল নিয়ে গল্প শুরু করতেন।

আমাদের জমির ক্রমশ ফসল উঠছে - গম, সরিষা, মাষকলাই, পেঁয়াজ, গোলআলু। বাড়ি ভর্তি ফসলের স্তূপ। - রোদের দেখা নেই। জমিতে মরিচ টমেটো শীতে জমে গেছে - পাকার নাম নেই। মা চাচীরা বাড়তি নফল নামাজ পড়ছেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন, মানত করছেন - গরিব মিসকিন খাওয়াবেন। কোনো এক ফাকে আমাদের হাতে মসজিদে লোহার সিন্দুকে খুচরা পয়সা দিচ্ছেন আমরা এক দৌড়ে লোহার সিন্দুকে পয়সা রেখে আসি, রাস্তায় কোথাও দম নিতেও দাড়াই না - যেনো দৌড়ে না গেলে শত শত বছর একই জায়গায় পরে থাকা লোহার সিন্দুক চলে যাবে অন্য কোনো দেশে! - তারপরও রোদের দেখা নেই! দাদাজান রেডিও শোনে জানান “গ্রাম, থানা, জেলা এমনকি সমগ্র বাংলাদেশে একই অবস্থা”। দাদীজান যথারিতি সবাইকে ধমক দিচ্ছেন “জমিতে ফসল ছিলো - জীবিত থাকতো, এখন সব কাটা ফসল! আমার বাড়িতে কাজের মানুষ নাই - মানুষ নামের সব কলাপাতা জমা অইছে (দাদীজানের একটি বকা বিশেষ, কলাপাতা = যা শুধু শিরনি নেওয়ার কাজে ব্যাবহৃত হয়), আল্লাহর নাম লও, আল্লাহর নাম লও”। আমরা সবাই আল্লাহর নাম লই - আল্লাহ শুনছেন কি না জানিনা!

সত্যি সত্যি এক মঙ্গলবার ভোরে আল্লাহ সবার ডাক শোনেন, সেই মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয় বাড়িতে ব্যস্ততা, আমাদের থানায় হাতেগোনা কয়েকটি টেলিফোন ছিলো। সেদিন দাদাজান টেলিফোন এক্সচেঞ্জে অনেক চেষ্টা করেও বড় চাচা ও আব্বার সাথে ফোনে যোগাযোগের লাইন না পেয়ে টেলিগ্রাম করে দেন GOOD NEWS SUNRISE. EVERYBODY WORKING. DO NOT WORRY FOR HOME, DO YOUR DUTY, I RECEIVED YOUR MONEYGRAM. দাদাজানের পছন্দের একটি কাজ ছিলো বিশেষ কোনো প্রয়োজন বা সংবাদ হলেই টেলিগ্রাম করে দেওয়া। প্রতিটি অক্ষরের জন্য পয়সা গুনতে হতো। টেলিগ্রাম অর্থ “জরুরী, অতি জরুরী” এবং খরচাবহ একটি যোগাযোগ মাধ্যম যা ২৪ ঘন্টার মধ্য ডেলিভারি নিশ্চিত করা হতো। - এই সামান্য কথায় এই বিশাল হৃদয়ের মানুষটি তাঁর সন্তানদের তাঁর আশা ভরসা স্নেহ মায়া মমতা ভালোবাসা কতোটুকু বোঝাতে পারতেন জানিনা, কিন্তু তাঁর সন্তানরা পরের সপ্তাহে চিটাগাং মেইল ট্রেন ধরে মধ্যরাতে বাড়িতে উপস্থিত হতেন, সাথে সবার হাতে দাদাজানের প্রিয় মাটির পাতিলে রসগোল্লা। সারারাত চলতো মজাদার গল্প। দাদাজান দাদীজান বটবৃক্ষ - আমরা তাঁর লতা পাতা মাত্র।।




চলবে . . . . . . . . . . .


কৃতজ্ঞতা: - সামহোয়্যারইন ব্লগ কর্তৃপক্ষ। নির্বাচিত পোস্টে “টেলিগ্রাম” ১ম পর্ব লেখাটি স্থান দেওয়াতে সামহোয়্যারইন ব্লগ কর্তৃপক্ষকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।।







সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ২:৪৬
৫১টি মন্তব্য ৫০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×