somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল: পাহাড়ী অরণ্যঘেরা কুপিকাটাকুম, মিঠাছড়ি এবং বান্দরকুম ঝর্ণার খোঁজে (ভ্রমণ কাহিনী)

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
প্রথমেই কুপিকাটাকুম ঝর্ণার ছবি:





এরপর মিঠাছড়ি ঝর্ণার ছবিঃ





বর্ষার সময় গেলে এই ঝর্ণাটি অসাধারণ দেখায়। আমার এক পরিচিত বড়ভাই এই বর্ষায় ঝর্ণাগুলো দেখে এসেছেন। তার ক্যামেরায় মিঠাছড়ি ঝর্ণার দৃশ্যঃ



সবশেষে বান্দরকুম (বান্দরিছড়া) ঝর্ণার দৃশ্যঃ




যাত্রাপথের বর্ণনাঃ

চট্টগ্রামের মিরসরাই এর নাপিত্তাছড়া ঝর্নার কথা আগেই শুনেছিলাম। সময় সুযোগ হওয়াতে এবার বন্ধুরা মিলে ঘুরে আসলাম সেখান থেকে। নাপিত্তাছড়া যেতে হলে মিরসরাই এর নদুয়ার বাজার/হাট (নদুইয়ার/নয়দুয়ারীর বাজার/হাট) যেতে হয়। নদুয়ার বাজার নেমে শুনলাম ঝর্না নাকি আসলে ৩ টা। শুনে ভালোই লাগল। তবে ঝর্নার নাম গুলো স্পষ্ট করে বুঝতে পারলাম না। আগে শুনেছিলাম ঝর্ণার নাম নাপিত্তাছড়া। এখন শুনলাম ঝর্ণা তিনটার নাম হলো কুপিকাটাকুম, মিঠাছড়ি এবং বান্দরকুম বা বান্দরিছড়া। আর ঝর্ণাগুলোতে যাওয়ার ঝিরিপথটাকে সম্ভবত নাপিত্তাছড়া বলে। যাইহোক, নদুয়ার বাজার থেকে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর গ্রাম থেকে একজন গাইড নিলাম। এরপর পাহাড়ী অরণ্যে ঝিরিপথ বরাবর আমরা চলতে শুরু করলাম। ঝর্ণা ৩টি বেশি দূরে নয়। ৩০/৪০ মিনিট যাওয়ার পর প্রথম ঝর্ণা কুপিকাটাকুম পেয়ে গেলাম। অনেক সুন্দর একটা ঝর্ণা। ঝর্ণাতে পানির পরিমাণও ভালোই। ঝর্ণাটির সামনের পানির অংশটি কিছুটা গভীর। তাই একেবারে ঝর্ণার সামনে যেতে হলে আপনাকে সাঁতার কেটে যেতে হবে। ঝর্ণার পানি বেশ ঠান্ডা। এখানে কিছুক্ষণ থাকার পর ২য় ঝর্ণার উদ্দেশ্যে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। ২য় ঝর্ণাতে যাওয়ার সময় ছোট একটি পাহাড়ের প্রায় খাড়া একটি ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে হয়। এসময় কিছুটা সতর্ক থাকতে হয়। যাই হোক, ঝর্ণাটি বেশ কাছেই। ২০ মিনিটের মধ্যেই আমরা পরের ঝর্ণা মিঠাছড়িতে পৌঁছে গেলাম। ঝর্ণাটির উচ্চতা বেশ। উপর থেকে পানি পতনের সময় অর্ধেকটা অংশ পার হবার পর দুই ভাগ হয়ে দুই দিকে পানি পড়েছে। বর্ষা না থাকায় ঝর্ণাটিতে পানির পরিমাণ বেশ কম ছিল। বর্ষার সময় এই ঝর্ণাটি খুব সুন্দর দেখায়।

এখানে কিছুক্ষণ থাকার পর আমরা ৩য় ঝর্ণাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। প্রায় ৪০/৪৫ মিনিট ঝিরি পথ বরাবর হাটার পর আমরা ঝর্ণাটি পেয়ে গেলাম। এই ঝর্ণাটিও বেশ সুন্দর। ৩টি ঝর্ণার মধ্যে এই ঝর্ণাটির উচ্চতা সবচেয়ে বেশি। এখানে আসার কিছুক্ষণ পর হালকা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আমরা আবার ফিরতি পথে রওনা হলাম সুন্দর কিছু মুহূর্তকে সাথে নিয়ে।

ঝর্ণাগুলোতে যাওয়ার ঝিরি পথের কিছু দৃশ্যঃ























কিভাবে যাবেনঃ

আপনাকে চট্টগ্রামের মিরসরাই এর নদুয়ার বাজার যেতে হবে। বাসে চট্টগ্রাম গেলে আপনি যাত্রার সময়ই সহজে মিরসরাই এর নদুয়ার বাজার নেমে যেতে পারবেন। যদি বাসের ড্রাইভার নদুয়ারহাট না চেনে তবে মীরসরাই বাজারে নেমে সিএনজি করে নদুয়ার হাট যেতে পারবেন। জনপ্রতি ১০টাকা নেবে লোকাল সিএনজি। কিন্তু আপনি যদি ট্রেনে করে চিটাগাং শহরে নামেন, তাহলে আবার বাসে করে প্রায় দেড় ঘন্টার উল্টা জার্নি করে আপনাকে মিরসরাই আসতে হবে। চিটাগাং শহর এর অলংকার মোড় থেকে চয়েস বাস মিরসরাই যায়। ভাড়া পার পার্সন ৮০ টাকা। এই বিরক্তিকর উল্টা জার্নি না করতে চাইলে ট্রেনে করে চিটাগাং না আসাই ভাল। যাই হোক, মিরসরাই এর নদুয়ার বাজার থেকে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে হবে। কিছুদূর যাওয়ার পর গ্রাম থেকে একজন গাইড নিয়ে নিবেন। গাইডকে ৪০০/৫০০ টাকা দিতে হবে। আর একটা কথা, ঝর্ণাতে যাওয়ার ঝিরি পথটা অনেক সুন্দর। তেমন কোন রিস্ক কোথাও নেই। এজন্য বর্ষার সময় আসাটাই সবচেয়ে ভাল সময়, তাহলে ঝর্ণার সর্ব্বোচ্চ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এই ভ্রমণ একদিনের তাই থাকার দরকার পড়বেনা তবু নিতান্তই রাতে থাকতে চাইলে মীরসরাই বা সীতাকুন্ডে নিন্মমানের হোটেল পাবেন। ভালো হোটেলে থাকতে চাইলে চট্টগ্রাম চলে আসতে হবে। নদুয়ারহাটে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা নাই। এক্ষেত্রে মীরসরাই বাজারে এসে খেতে পারবেন
আর একটা কথা হল, চট্টগ্রামও কিন্তু ম্যালেরিয়াপ্রবণ একটি এলাকা। সাধারণত ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকাতে যাওয়ার আগে সতর্কতা হিসেবে যাত্রা শুরুর আগের ১ সপ্তাহ থেকে যাত্রা শেষ হবার পর ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ডক্সিসাইক্লিন ট্যাবলেট(১০০মি.গ্রা.) খেতে হয়। তারপরও পাহাড়ী এলাকাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলে যাবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।

৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কত রাত না খেয়ে ছিলাম (দ্বিতীয়াংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ৭:১১


প্রথম পর্বের লিঙ্ক: Click This Link
কিন্তু খেতে তো হবে। না খেয়ে কেউ বাঁচতে পারে? তাই হোটেলওয়ালাকে বললাম, একবেলার খাবার টা একটু কষ্ট করে বাসায় দিয়ে আসা যায় কি না।
ওনার ওখানে কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জামাই ভাগ্য....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:১০

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জামাই ভাগ্য....

জামাতাদের নিয়ে বিড়ম্বনা, দুর্ভোগ রবীন্দ্রনাথকে শ্বশুর হিসেবে অনেক বিব্রত হতে হয়েছে। সেইসব অভিজ্ঞতা বড়ই মর্মান্তিক, যন্ত্রণায় পরিপূর্ণ। অতি সংক্ষেপে তার সামান্য বিবরণী তুলে ধরছিঃ-

(১) রবি ঠাকুরের বড়ো... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদীসের গল্প : ০০৮ : নবীজির পানি পান করারনো ঘটনা

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ১১:৩২



মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... ইমরান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। আমরা রাতে চলতে চলতে শেষরাতে এক স্থনে ঘুমিয়ে পড়লাম। মুসাফিরের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম কথন.....

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ০১ লা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৪:০২




আম্রপালি আম দিয়েই মনে হয় ম্যাঙ্গো ফ্লেভার আইসক্রিম বানায়। যতবার ফ্রিজ থেকে বের করে আম্রপালি খাচ্ছি ততোবার মনে হচ্ছে।
তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় আম হচ্ছে ল্যাংড়া, গোপালভোগ আর ক্ষীরসাপাতি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনাগাজী নিকে ইচ্ছানুসারে, স্বাধীনভাবে কমেন্ট করতে পারিনি।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০১ লা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৫:১৯



সোনাগাজী নিকে ৫ মাস ব্লগিং করলাম; ব্লগের বর্তমান পরিস্হিতিতেও বেশ পাঠক পেয়েছি; আমার পোষ্টে মন্তব্য পাবার পরিমাণ থেকে অন্য ব্লগারদের লেখায় মন্তব্য কম করা হয়েছে; কারণ, মন্তব্য করার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×