somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরর-গল্প

২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হরর গল্প

নিয়তি
আহমেদ মামুন

এক.
জেবা। বয়স ২১।
বললেন ডা. মহিত কামাল স্যার। প্রখ্যাত মানষিক রোগ বিশেষজ্ঞ। এখন আমি তার চেম্বারে। আমার দিকে তাকিয়ে তিনি মিষ্টি করে হেসে বললেন, আপনার সমস্যা কি?
কি ভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না।
যেখান থেকে তোমার বলতে সুবিধা হয়। শুরু করো। তুমি করে বললাম রাগ কর নায় তো?
না, স্যার।
তাহলে শুরু কর।
স্যার আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাই।
কি দেখতে পাও।
স্যার আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাই।
কতদিন ধরে?
জানি না।
স্বপ্নে দেখ না জেগে জেগে দেখ?
স্বপ্নে না, জেগে থাকলে দেখি। সব সময়ই দেখি না হঠাৎ হঠাৎ।
হঠাৎ হঠাৎ? রাতে ঘুম হয়?
পৃথিবী সব মানষিক রোগ বিশেষজ্ঞ এই একটা প্রশ্ন দিয়ে সব উত্তর পান। যদি বলি ঘুম ঠিক মতো হয় তাহলে তিনি হতাশ হবেন। কারণ আমার কোন মানষিক রোগ নেই। সত্যি কথা বলতে আমার ঘুমের সমস্যা নেই। ঘুমের জন্য প্রতিদিন মায়ের বকুনি খাই । আমি দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা কুমিড়ের মতো বিছনায় পড়ে ঘুমাতে পারি।
স্যার আমার ঘুম নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
ও, হ। তুমি যেহেতু ভবিষ্যৎ দেখ বলতো আমার ভবিষ্যৎ কি?
আমি তো বলেছি হঠাৎ হঠাৎ দেখি।
চেষ্টা করে দেখ।
আমি চেষ্টা করলেও পারি না।
শেষ বার কত দিন আগে দেখেছ?
পাঁচ দিন আগে।
কি দেখেছ, বিস্তারিত বল?
আমাদের বাড়ি মিরপুর। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। মিরপুর ১নাম্বার বাসস্টপে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি থামে। একদিন কাস শেষে বাড়ি ফিরছি। সাথে আমার দুই বন্ধু মিনহাজ, হুমায়ূন।
হুমায়ূন কি শুধুই বন্ধু?
ও আমাকে..। স্যার আপনি বুঝতে পারলেন কি ভাবে?
তুমি হুমায়ূন নামটি উচ্চারণ করে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললে। ওসব থাক আমরা মূল কথায় ফিরে আসি।
মিরপুর ১নাম্বার বাসস্টপে একটা ওভারব্রিজ আছে। হঠাৎ আমি চোখের সামনে ভাসতে দেখি মিনহাজ রাস্তা পার হচ্ছে ওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে। একটা নীল মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ও রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। আমার সাদাজামা রক্তে লাল হয়ে গেছে। আমি রাস্তার মাঝে মিনহাজের পাশে বসে কাঁদছি। নিজেদের আবিস্কার করলাম ওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছি আমরা। আমি মিনহাজের জামা টেনে ধরলাম। সাথে সাথে একটা নীল মাইক্রোবাস এসে মিনহাজকে চাপা দিয়ে চলে গেল। আমি ছিটকে পড়লাম। মিনহাজ আমার সামনে ছটফট করছে। রক্তে রাস্তা ভিজে যাচ্ছে। আমি চিৎকার করে কাঁদছি। মিনহাজকে দ্রুত একটি প্রাইভেট কিনিকে নেওয়া হলো। কতর্ব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে।
আচ্ছা এমন হতে পারে না। ঘটনাটি ঘটার পর তোমার মনে হয়েছে তুমি আগে দেখেছিলে?
তাহলে আমি মিনহাজের জমা শক্ত করে চেপে ধরব কেন?
মেয়েরা এম্নিতেই রাস্তা পার হওয়ার সময় কাউকে না কাউকে ধরে পার হয়।
সেটা সত্যি কিন্তু মিনহাজকে আমি শক্তা করে চেপে ধরেছি। যেন ও থেমে যায়। ওর জামার একাংশ ছিড়ে আমার হাতের মধ্যে রয়ে গিয়েছিল।
আমার জীবনের একটা ঘটনা বলি। আমার শৈশব কেটেছে গ্রামে। বরিশাল মেঘনা নদীর তীরে আমার জন্ম। বরিশালে জায়গা জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাই ভাইকে খুন করে। আমাদের গ্রামে এক ছোট ভাই বড় ভাইকে বুকের উপর চাকু দিয়ে কোপ দিয়ে হত্যা করল। বড় ভাইয়ের লাশ হাসপাতালের বারান্দায় চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হল। আমার মনে আছে আমি লাশ দেখতে গেছি। একজন এসে বুকের কাপড় সরিয়ে লাশ দেখাল। বুকের উপর একটা কালচে গর্ত। বাস্তবতা হলো এই লাশ আমি দেখিনি। হাসপাতাল ছিলো আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় পনের কিলোমিটার দূরে। আমার মা লাশ দেখতে গিয়েছিলেন। আমি ছোট এই জন্য সাথে নিয়ে যাইনি। হয়ত লাশ দেখে ভয় পাবো এই জন্যও হতে পারে। অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি লাশ দেখেছি। এখন তুমি কি বলবে যে আমি বাসায় বসে দূরে ঘটনা দেখতে পাই।
কিন্তু স্যার আমার ক্ষতেরেই বিষয়টা ভিন্ন!
দেখ মৃত্য হত্যা দূর্ঘটনা সবই ঘটনা। জগত সংসারের নিয়ম। কিন্তু মানব মন এসব আশা করে না। তবুও ঘটে। মনের বিপরিত ঘটনা মনকে বিশৃঙল করে দেয়। ফলে এর একটা প্রতিক্রিয়া মানুষে স্মৃতিতে অভিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই অভিক্রিয়া একেক জনের েেত্র একের রকম। দেখবে কোনে দূর্ঘটনা ঘটলে মেয়েরা বলে এখানে আসার আগে আমার মনে হয়েছিল একটা বিপদ হবে। তখন কেন যে বাড়ি থেকে বের হলাম। এটা সব মেয়েদের ক্ষেতেেত্রই বেশি হয়। তুমি কি তাকে বলবে তারা ভবিষ্যৎ দেখেছে।
স্যার এটা সত্যি তো অনেক মানুষের অতিরিক্ত মতা থাকতে পারে।
তুমি দাবি করছ তোমার অতিরিক্ত মতা আছে। যাক আমি তোমাকে আমার সেলফ ফোন নাম্বাটা দিচ্ছি। আবার যখন দেখবে আমাকে জানাবে। আমি সময় আর ঘটনা লিখে রাখব। দেখি ঘটে কিনা!
স্যার তার কার্ড বের করে হাত দিলেন। আমি কার্ড নিয়ে বের হলাম।


দুই.
কলাভবনের সামনে বসে আছি। অপরাজেয় বাংলার সামনে দিয়ে একটি মিছিল যাচ্ছে। বেশ বড় মিছিল। আমার চোখের সামনে ভাষছে মিছিল জসীম উদ্দিন হলের সামনে। সেখানে মিছিল দুইভাগস হয়ে যায়। একভাগ নিচে থাকে। আরেক ভাগ তিন তলায় উঠে যায়। তিন তলা থেকে তারা একটি ছেলেকে ছুড়ে ফেলে দেয়। নিচে দাড়িয়ে থাকা ছেলেরা রড হকিস্টিক গজারি নিয়ে রেডি ছিল। তারা ছেলেটার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
আমি সেলফোনে মোহিত কামাল স্যারকে সব বললাম।
সে বলল, মিছিল এখন কোথায় আছে?
এখনো অপরাজেয় বাংলায়।
আর কিছু?
যে ছেলেটিকে ছাদ থেকে ফেলে দিবে তাকে নিচের ছেলেরা পিটিয়ে মেরে ফেলবে। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হবে। স্যাররা গিয়ে ডাক্তারকে বলবেন লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাচিয়ে রাখতে। কারণ আজ মৃত্যুর সংবাদ ক্যাম্পাসে পৌছলে বড় ধরনের গন্ডোগোল হবে। বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে হল ত্যাগের নোটিশ দেওয়া হবে।
এসব তো একজন ছাত্র মারা গেলে প্রতিবারই হয়ে থাকে।
মনে পড়েছে। যে ছেলেটি মারা যাবে তার নাম আজাদ। পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হবে। স্যাররা ইচ্ছা করে ছেলেটিকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে শুক্রবার পর্যর্ন্ত রাখবেন। তারপর ক্যাম্পাস খালি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হবে। শুক্র বার কাজটি করা হবে। কারণ সেদিন ক্যাম্পাস থাকবে খালি।
আচ্ছা জেবা আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খবর রাখব। তুমি লèী মেয়ের মতো বাড়িতে চলে আস।
স্যার আমার কিছু হবে না। হলে আমি দেখতাম।


তিন.
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। বসায় বসে আছি। হাতে পত্রিকা। সেখানে আজাদের দুটি ছবি ছাপা হয়েছে। একটা হাসপাতারের বেডে। লাইফ সাপোর্ট পরা। আরা একটি ওর জানাজার দৃশ্য। শ্রক্রবার খালি ক্যাম্পাসে স্যাররা জানাজা পড়াচ্ছেন। এমন সময় ডাঃ মোহিত কামাল স্যার ফোন করলেন। বললেন আমার যদি বিশেষ কাজ না থাকে তাহলে দপুর দুটার পর তার সাথে দেখা করতে। আমারও বিশেষ কাজ নেই। স্যারের বাসায় একজন লোক বসে আছেন। গায়ের রং কালো। বয়স পঞ্চাশের শেষ কোঠায় হবে। হাসি খুশি। তাকে কোথায় জনি দেখেছি। মনে পড়ছেনা। মনে করার চেষ্ট করছি। তখন মোহিত স্যার বললেন, আমার শিক। হেদায়েতুল ইসলাম।
আমি তাকে চিনতে পারলাম। অনেক বার টিভিতে দেখেছি তাকে। হেদায়েত স্যার বললেন,বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ তাই না?
আমি বলাম, জ্বি।
আমি পেপারে দেখেছি। বিশ্ববিদ্যায় অনিষ্ট কালের জন্য বন্ধ। তাছাড়া তোমার কথা আমাকে মোহিত বলেছে। প্রথমে বিশ্বাস করিনি। তবে শুক্রবার যখন ছেলেটাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে জানাজার জন্য নিয়ে যাওয়া হল। তখন বিশ্বাস হল।
মোহিত স্যার বললেন, আমার কাছেও বিষয়টা প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। কিন্তু এখনো বুঝতে পারছি না। কি করে ভবিষ্যদ্বাণী অরে অরে সম্ভব হয়।
হেদায়েত স্যার বলল, স্টিফেন হকিং এর মতে ভবিসত্যত হলো অতীতের মতোই একটি ঘটনা। আমারা যেমন অতীতকে পাল্টাতে পারিনা তেমন ভবিস্যতকেও পাল্টাতে পারব না। ভবিস্যাত হলো পূর্ব নির্ধারিত একটা বিষয়। আধুনিক বিজ্ঞানও মেনে নিয়েছে সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত। সব পূর্বনির্ধারিত? আমার উত্তর হ্যা। কিন্তু উত্তরটা না হতে পারে কারণ কি পূর্বনির্ধারিত সেটা আমরা কোনদিনই জানতে পারব না। জানতে পারলে তো আর পূর্বনিধারিত থাকল না। মোট কথা আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী করার দেখার মতা নেই তাই বলি ভবিষ্যত অনিশ্চিত। তবে কেউ যদি ভবিষ্যৎ দেখতে পায় তাহলে ভবিষ্যৎ বলতে পারবে।
আমি বললাম, স্যার আমার কি সেই মতা আছে?
থাকতেও পারে। একশ কোটি মানুষের মধ্যে একজনের এই মতা থাকতে পারে। তাহলে পৃথিবীর ছয়জনের এই মতা আছে। তুমি হতে পারে ছয় জনের একজন। চীনে এক মেয়েকে পাওয়া গেল। সে তার ডাক্তার বাবার পাশে বসে রুগির কোথায় হাড় ভেঙেছে বলে দিতে পারে। এই মতা নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেল। শেষে একদল বিজ্ঞানী পরীাকরে দেখলো মেয়েটার চোখ থেকে এক্স-রে বের হয়। তাই সে মাংশের ভেতরের অংশ দেখে। এক্স-রে মতো একটা শক্তিশালী রেডিয়েসন মানব চোখ দিয়ে বের হওয়া অসম্ভব ঘটনা। তবে এটা বাস্তবে ঘটেছে। এটা মেয়েটার একটা অতিরিক্ত মতা। তোমারও হয়তো একটা অতিরিক্ত মতা আছে। তবে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু প্রামাণ করাটা হবে অনেক কঠিন।
মোহিত স্যার বলল, স্যার আমাদের ধর্মেও বলা হয়েছে তোমাদের ভবিষ্যতকে আমি তোমাদের হাড়ের সাথে আটকে দিয়েছি। অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যতটা হলো একটা পূর্বনির্ধারিত এবং অলঙ্ঘনিয়। হাড়ের মতো কঠিন ভাবে আটকে আছে।
হেদায়েত স্যার বলল, তুমি কি শুধু দূর্ঘনা দেখ না সুসংবাদও দেখ।
আমি জবাবে বললাম, কখনোই সুসংবাদ দেখি না।
তুমি দেখার পর বদলে দেবার চেষ্টা কর না?
চেষ্টা করেছি। কিন্তু বদলাতে পারি না। একদিনের ঘটনা। আমাদের পাশের ফাটে একটা মেয়ে থাকে। আমার মতোই বয়স। আমার সাথেই ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আমি রয়সায়ন বিজ্ঞানে আর ও ইতিহাসের ছাত্রী। নাম তানজিলা। ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে এক ইতালি প্রবাসী ছেলের সাথে। আমাদের পাশের মহল্লার এক ছেলের তানজিলার সাথে রিলেশন ছিল। ওরা একজন অপর জন ভালোবাসতো কি না আমি তখন জানতাম না। তানজিলা খাটে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছে। আমি ওর পাশে বসে একটা বই পড়ছি। তানজিলা আমার হাত টান দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল, শোন আমাদের মদন আলাউদ্দিন কি বলে জানিস? আমার বিয়ে হলে সে আত্মহত্যা করবে। এখনি তার হাত ধরে পালাতে হবে! তানজিলা ওর মোবাইল লাউড স্পিকারে দিয়ে বলল। গধাটায় এক থেকে একশ পর্যন্ত গুনবে। এর মধ্যে রাজি হতে হবে। নয়তো সে ছাদ থেকে লাফ দিবে! আমরা শুনছি আলাউদ্দিন গুনছে। একুশ, বাইশ, তেইশ.....। আমার চোখে ভাসছে আউদ্দিন ছাদ থেকে লাফ দিচ্ছে। পীচ রাস্তায় পড়ে তার মাথাটা থেতলে গেল। একটা রক্তের ধারা বয়ে গেল পীচ রাস্তার উপর দিয়ে। আমি মরিয়া হয়ে বললাম, তুই বল রাজি। আমার কথা শুনে তানজিলা ভড়কে গেল। সে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল আলাউদ্দিন আমি রা...। তানজিলা আমার চোখের সামসেন মোবাইলফোন ধরে বলল, নেটওয়ার্ক ফেইল। আমি অন্য কম্পানি মোবাইল ফোন ব্যাবহার করি। আমি আমারটার ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে দেখি আমারটাও নেটওয়ার্ক নাই। আমি তখন তানজিলাকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসলাম। একটা রিকসা নিয়ে আলাউদ্দিনের বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি একদল লোক জটলাপাকিয়ে দাড়িয়ে আছে। ভিড় ঠেলে ভিতরে গিয়ে দেখি যা আসঙ্কা করছি তাই ঘটেছে। আলাউদ্দিনের নিথর দেহ পড়ে আছে পীচ রাস্তায়। একটা রক্তের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে।
মোহিত স্যার বলল, তাহলে কি স্যার ও বিপদের সময় নীরব দর্শকের মতোই থাকবে?
সেটাই প্রকৃতি চায়।
বুঝলাম না?
এখানে আলাউদ্দিন মারা গেছে। এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এই ঘটনার সাথে পৃথিবীর সব মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। আলাউদ্দিনকে কবর দিতে গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়েছে। নিশ্চই একটা এ্যম্বুলেস ভাড়া করা হয়েছে। এতে এ্যম্বুলেসের ড্রাইভার ভাড়ার টাকা পেয়েছে। মালিক টাকা পেয়েছে। তেল নেওয়ার জন্য প্রেট্রল মাম্প মালিক টাকা পেয়েছে। পেট্রল মালিক এই টাকা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রেট্রল কিনবে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের খনিতে আমেরিকার লোক কাজ করে। আমেরিকা আবার আফ্রিকার কালো মানুষদের অর্থ সাহায্য করবে। যদিও আলাউদ্দিন দেশের অখ্যাত একটা ছেলে। অথচ তার সাথে সম্পর্কিত সৃথিবীর সকল মানুষ। পৃথিবীর সব মানুষ যদি একটা পুকুরের বাসিন্দা হয় প্রতিটি ছোট বড় ঘটনা হলো এক একটা ঢেউ। পুকুরের মাঝে ঢিল ছুড়লে যেমন সারা পুকুর ছাড়িয়ে পড়ে। ঘটনাগুলোও সবাকেই আলোড়িত করে। এখন যদি ও আলাউদ্দিনকে বাচিয়ে দেয় তাহলে পৃথিবীর সবার ভাগ্যকে বদলাতে হবে। এখন একজন আলাউদ্দিনের জন্য প্রকৃতি কখনো এতবড় দায়ভার নিবে না। আর প্রকৃতি কাউকে সেই সুযোগও দিবে না।
তাহলে তো জেবা আমাদের থেকে অনেক বেশি দূর্ভাগা। সে তার চোখে সামনে নীরব দর্শকের মত দূর্ঘটনাগুলো দেখবে। একবার ঘটার আগে একবার ঘটার পর।
সেটা আমি জানি না। তবে এটুকু জানি। প্রকৃতি তার নিয়ম মতোই চলবে।


চার.
ঈদের ছুটি। আমি গ্রামের বাড়িতে যাব। আমি আর ছোট মামা এক সাথে যাব। মামা দু'টো টিকিট যোগার করেছেন। আমরা উঠেছি আসাদ গেট থেকে। এরপর গাড়ি গাবতলি বাস স্টেশন হয়ে চলে যাবে আরিচার দিকে। সাধারণত আমার গাড়িতে ঘুম হয় না। হেডফোনে গান শুনছি। হুমায়ূনের ফোন আসে।
হ্যালো তুই কোথায়।
গাড়িতে।
আমি গাবতলী স্টেশনে আছি। অনেক চেষ্টা করেছি। কোন টিকেট যোগাড় করে পারি নায়।
না পারলে বসে আছিস ক্যান। বাড়ি চলে যা।
আশায় আছি। আশায়ইতো মানুষ বেচে থাকে। কোন যাত্রি না আসলে। তার জায়গায় চলে যাবো। কাউন্টারে আমার দেশি ভাই আছে। সে বলেছে একটা ব্যাবস্থা করে দিবে।
বদ মতলব নিয়ে অপে না করে বাড়ি চলে যা।
আচ্ছা রাখি। দোয়া করিস কেউ যেন এসে গাড়ি মিস করে।
আচ্ছা রাখি।
আমি ফোন বন্ধ করে গান শুনছি। মামার ফোন এসেছে। সে কথা বলছে। ফোন রেখে বললল, মামনি, আমার অফিসের একউন্স সেকশনে গোলমাল হয়েছে। আজ মনে হয় যেতে পারব না।
মামা ড্রাইভারের সাথে কথা বলে নেমে গেল। তন্দ্র এসেছে চোখে। চোখ বন্ধ করেছি। দেখি আমাদের গাড়িটা একটা ফিলিং স্টেশনে দাড়িছে। সিএসজি নেওয়ার জন্য। হুমায়ূন আমার হাত ধরে আছে। এমন সময় প্রচন্ড শব্দে গাড়ি কেপে উঠল। তার সাথে কুন্ডলি পাকিয়ে হলুদ আগুনে শিখা উপরে উঠছে। সমস্ত গাড়ি এক সাথে জ্বলে উঠল। আমি কেপে উঠলাম।
চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি আমার সামনে হুমায়ূন দাড়িয়ে । হুমায়ূন বলল, জেবা! তুই এই গাড়িতে।
বলার মতো শক্তি আমার গায়ে নাই। আমি শুধু তাকিয়ে আছি। হুমায়ূন আমার হাত ধরে ঝাকি দিল। আমি ভয়ে ভয়ে বাহিরে তাকালাম। গাড়িটা একটা ফিলিং স্টেশনে দাড়িয়ে আছে। গ্যাস নেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ প্রচন্ড শব্দ হলো। আমি দেখি আমাদের ছেড়ে আরেকটা গাড়ি যাচ্ছে। সেই গাড়ির জানালায় আমি বসে আছি। হাত নেড়ে বিদায় জানাচ্ছি নিজেকে।

সমাপ্ত
হরর পত্রিকা অক্টবর২০০৯









৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালোবাসিতে লজ্জা পেতে নাই ...

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:৩১

অপেক্ষা— সেতো নিষ্ঠুরতম এক উপখ্যান
যদি না হয় সাক্ষাৎ চিরো কাঙ্ক্ষিত
সেই ক্ষণের —প্রেমের বৃন্দাবনের
এ সবই মিছে অথবা ভ্রম;
ক্ষণিকের অহমিকা শেষ হয়ে যায়
মিশে যায় হাওয়ায়—... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ স্বৈরাচারিণী

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৬



সঙ্গদোষে নাকি লোহাও ভাসে! চরমতম এই সত্যটা আর কেউ না হোক ফাহিবের বাবা মা দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেন। তা না হলে, যেই ছেলে বুয়েট থেকে এত ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মহান আল্লাহ সব কিছু দেখেন=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩



©কাজী ফাতেমা ছবি

সিসি ক্যামেরা দেখলেই নড়ে চড়ে উঠো
হয়ে যাও সাবধানী,
পাপগুলো দূরে ঠেলে হেঁটে যাও আপন গন্তব্যে,
ভয় পাও, তোমরা সিসি ক্যামেরা ভয় পাও
তাই না?

কিছু লুকোচুরি খেলা যখন খেলো বা খেলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন্টারভিউ

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯



শাহেদ জামাল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
সে বাকি জীবনে কোনো কাজকর্ম করবে না। জীবনের অর্ধেক সে পার করে ফেলেছে। তার বয়স এখন পঁয়ত্রিশ। আগামী পঁয়ত্রিশ বছর কি সে বাঁচবে? সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন ভালো করা কিছু খবর

লিখেছেন মা.হাসান, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩২

তাহাজজুদ পড়িস ব্যাটা?



ও ছার, ঝাড়ুদার পদে লিয়োগ পাইতে কত দিতে হবে?



আবার মারধোরের কি দরকার ছিল



আপনারা মন মতো মন্তব্য বসাইয়া নিন, আমি গলায় ফুলের মালা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×