মন খারাপ হলে নাকি কুয়াশা হয় আর ব্যাকুল হলে তিস্তা। আমি কখনও তিস্তা দেখিনি। কুয়াশা দেখি। গভীর ঘন কুয়াশা। এক হাত দূরে চোখ চলে না এমন কুয়াশা। চোখের সামনে বিছিয়ে থাকে ঘন আস্তরনের মত। যেদিকে তাকাই সেদিকেই কুয়াশা। ঘন। গভীর। ভয় লাগে। হোঁচট খাওয়ার ভয়, কারও সাথে ধাক্কা লাগার ভয়। সামনে কি তিস্তা ? তিস্তায় কত জল ?
এমুপরীর ছোট্ট দুইটা ডানা। সে ঊড়তে পারে না কিন্তু তার ওড়ার খুব সাধ। ঊড়তে যায় আর মুখ থুবড়ে পড়ে। তবুও আবার ঊড়তে যায়। সামনে কি তিস্তা ? তিস্তায় কত জল?
ধান ভানে ধানুয়া ভাই রে
পড়িয়া রইবে নাড়া
তুই জীবন ছাড়িয়া গেলে
মাইনষে কইবে মরা।
বিলের মাঝে মানুষ অস্থায়ী ডেরা বাঁধে, বাথান বানায়। কখনও তিন মাস ত কখনও চার মাসের জন্যে। পুটুলিতে বাঁধা সাংসার, গরু, ছাগল, হাঁস আর মুরগী। বাঁশ, চট, দরমা আর পলিথিনএর আশ্রয়। বিল থেকে ধরে আনা মাছ নুন আর লংকায় সেদ্ধ করা আর ফ্যানা ভাত। রাতের খাওয়া সেরে বাদবাকি ভাতে জল দিয়ে রেখে দেওয়া, সকালে তাই খেয়ে সারাদিনের তরে বেরিয়ে যাও। হাঁস মুরগীরা নিজেদের খাওয়ার নিজেরাই জুটিয়ে নেয়। গরু ছাগল চরাতে নিয়ে যায় একজন, হাতে বাঁশের বাঁশিটি। এগিয়ে যায় নদীর দিকে । তারও কি মন ব্যাকুল আর সামনে তিস্তা ?
৯টা ৪৫শে লাষ্ট ট্রেন, সোয়া ন'টা এখানেই বেজে গেল। ষ্টেশনের দিকে ছুট। সাথী সাথে না থাকলেও পথ ত চলতেই হবে। ট্রেন এগিয়ে চলে। কোন কু ঝিক ঝিক ঝিক নেই এই ট্রেনের। শোঁ শোঁ আওয়াজে জানান দেয়, তার কোন কু ঝিক ঝিক সুর নাই। শেয়ারের ট্যাক্সিতে ঠাই নাই ঠাই নাই। তিনজনের প্রায় কোলচাপা আরেকজন। এই সোয়া দশটাতেই বেশ নীরব রাস্তা। বোঝাই ট্যাক্সি ধীমে লয়ে এগোয় নদীর দিকে। সামনে কি তবে তিস্তা ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



