কে বড়? তার গূণ নাকী তার দোষ? নাকী সবকিছুর ঊপরে
সেই ভালোবাসার মানুষ?
কঠিন প্রশ্ন।
আজ এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। টি ৩ তে চায়ের আড্ডায়।
গুরুগম্ভীর আলোচনা! মগজের গোড়ায় ধোঁয়া না দিলে আলোচনা
জমে? তো দেওয়া হোক ধোঁয়া! কখনো দিইনি? তাতে কী!
সবকিছুই তো জীবনে কখনো প্রথমবার হয়! তো ধোঁয়ায়,
পটভর্তি দার্জিলিং চা আর চীজ স্যান্ডউইচের সাথে যা আলোচনা
হল, তা এই ;-
প্রথম দর্শনেই কারো প্রেমে পড়ে গেলাম এমনটি সচরাচর হয়
না। যদিও বা হয়, সেই প্রেম-ভালবাসা কতখানি খাঁটি বা পোক্ত,
সেই বিষয়ে সন্দেহ থেকে যায়। একটা মানুষকে ধীরে ধীরে
জানা, নিজের অজান্তেই এক আনুভুতির জন্ম। খানিকটা মোহ,
খানিকটা মমতা, খানিকটা আকর্ষন, কিছু দ্বিধা, আর নিজের
ভেতরের তাগিদে জন্ম নেয় ভালবাসা। প্রথম দেখাতেই কোন
আকর্ষন না জন্মালেও ধীরে ধীরে মানুষটিকে জানার পরে
জন্ম নিতেও পারে গভীর ভালবাসা।
গ্লাসের অর্ধেক খালি নাকী অর্ধেক ভরা? আমরা সাধারণ মানুষেরা
তো অর্ধেক খালি গ্লাসই দেখতে পাই। কেউ দেখিয়ে দিলে যদিও
বা অর্ধেক ভর্তি গ্লাস খণিকের তরে দেখি, কিছু পরেই আবার দেখি
অর্ধেক গ্লাস খালি। এ এক অদ্ভুত যন্ত্রণা। ভালবাসা যখন জন্মায়
তখন দোষ-ত্রুটিবোধ হয় সেভাবে চোখে পড়ে না। তাহলে বোধ হয়
প্রেমই জন্মাত না। কিন্তু পরে যখন ত্রুটিগুলো চোখে বাজতে শুরু করে,
তার মানে কী এই, যে প্রেম ফুরিয়ে গেল? নাকী ভালবাসার মানুষের
কোন ত্রুটিই দেখতে চাই না বলে সেগুলো বেশি কষ্ট দেয়? এমন কী
হতে পারে যে তার সমস্ত ভুলগুলোকে ওভারলুক করে গেলাম? মনে
রাখলাম শুধু তার গূণ?
প্রিয়া বলে, যাকে ছেড়ে বাঁচা যায় না তার দোষ-ত্রুটি দেখতে নেই,
ধরতে নেই। মনে রাখতে হয় শুধু ভাল ভাল কথা। যা দেখে প্রেমে
পড়েছিলাম, মুগ্ধ হয়েছিলাম, ভালবেসেছিলাম। আমার মনে হয়,
ভালো যে বাসে, সে তার নিজগূণেই ভালোবাসে। ভালো কজনে
বাসতে পারে? ভালোবাসতে পারা খোদার অসীম কৃপা। প্রিয়া
আরো বলে, যে ভালোবাসতে পারে সে ব্লেসড। আশীর্বাদধণ্য।
কজনে পারে? প্রেম প্রেম খেলা অনেকেই খেলে, আসল প্রেমের
দেখা কয়জনা পায়! খুঁজিতে খুঁজিতে জনম যায়। ক্লান্তি আসে।
মুক্তির পথ এক একজন এক এক রকমের খুঁজে নেয়।
প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। জল দিতে হয়। সার দিতে হয়।
দিতে হয় ভালবাসার ওম, মমতার ছায়া।
( মাঝরাতে প্রচুর ভারী ভারী কথা হয়ে গেল, এইবার ঘুমাইতে
যাইঃ-))
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৩:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


