somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লিওনার্দোকে পেল অস্কার!

২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জী! এ ছাড়া আর কি বলব? এত বার নমিনেশন পেয়েও না জেতা- ২২ বছরের অপেক্ষার পরে হাতে তুলে নেয়া বহুল আরাধ্যের অস্কার। এটা যেন রবার্ট ব্রুসের কাহিনীর পুনরাবৃত্তি। বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব - কোন কিছুই বাদ ছিল না। মিলছিল না কেবল অস্কারটাই।

১৯৯৪ সালের What's Eating Gilbert Grape থেকে শুরু। ২০০৫ এর The Aviator আরেকবার নমিনেশন। ২০০৭ এর Blood Diamond চোখ ভেজানো পারফরম্যান্সও যথেষ্ট ছিল না সোনালি রঙের মুর্তিটার জন্য। মনে হয় খেপে গিয়ে ২০১৪ তে করলেন The Wolf of Wall Street। জর্ডান বেলফোর্টের চরিত্রে এতটাই ঢুকে গিয়েছিলেন যে এই লোকই যে টাইটানিকের জ্যাক, যার জন্য সব চাইতে শক্ত মনের অধিকারি ছেলেটিও কষ্টে ঢোঁক গিলেছিল কান্না ঠেকানোর জন্য- বিন্দু মাত্র বোঝা যায়নি।

কিন্তু সেটাও যথেষ্ট ছিল না। Matthew McConaughey নিয়ে গেলেন ৮৭তম অস্কার আর তিনি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন আরো একবার।

The Revenant এর ট্রেইলার অনলাইনে রিলিজ হওয়ার পর থেকেই ফ্যানরা জল্পনা কল্পনা শুরু করে দেয়। মুভি না দেখেই। হাজার হোক, লিও আর ইনারিতুর কম্বিনেশন। বার্ডম্যানের জন্য ইতিমধ্যেই যার পকেটে অস্কার ঢুকে আছে।

রেভেন্যান্টের কাহিনী, অভিনয়, ডিরেকশন নিয়ে না কপচাই। শুধু এটাই বলতে চাই- ভালুক, ফিটজেরাল্ডের শত্রুতা, প্রতিকুল পরিবেশ কিংবা আবারো এডি রেডমেইন, ব্রেকিং ব্যাডের ব্রায়ান ক্র্যান্সটন অথবা মাইকেল ফ্যাসবেন্ডার- কেউই এবার আটকাতে পারেনি লিওকে।

সাল- ২০১৬, ৮৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড- সব লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর।



অস্কার পাওয়ার পরে লিওর স্পিচ-

ধন্যবাদ, সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। একাডেমিকে ধন্যবাদ, এই রুমে থাকা সবাইকে ধন্যবাদ। অভিনন্দন জানাচ্ছি এই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পাওয়া অন্য সকল অভিনেতাকে, তাদের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের জন্য।

দ্যা রেভেনেন্ট হচ্ছে আমার পাশে থাকা চমৎকার সব কলাকুশলীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। প্রথমেই নাম নিতে চাই আমার যে ভাইটা এই প্রজেক্টে আমার সাথে ছিলো – টম হার্ডি। টম, পর্দায় তোমার চোখ ধাঁধানো মেধাকে শুধু একটা জিনিসই টক্কর দিতে পারে – সেটা হচ্ছে পর্দার বাইরে তোমার বন্ধুত্ব। মিস্টার আলেহান্দ্রো ইনারিতু – সিনেমার জগতের ইতিহাস একটু একটু করে খুলছে, আর আপনি সেখানে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন গত দুই বছরের ইতিহাসে। কী এক অবিশ্বাস্য প্রতিভা আপনি! আপনাকে ধন্যবাদ, চিভোকে ধন্যবাদ – সীমানার বাইরে গিয়ে আমাদের সবাইকে একটা সিনেমার অভিজ্ঞতা দেয়ার জন্য। ফক্স-কে ধন্যবাদ, নিউ রিজেন্সি-কে ধন্যবাদ। আর মিলশন – আপনি এই পুরো প্রচেষ্টার প্রাণ। আমার পুরো টিমকে ধন্যবাদ।

আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শুরু করে সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। মিস্টার কেটন জোন্স, আমাকে আমার প্রথম সিনেমাতে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ। মিস্টার স্করসেসিকে ধন্যবাদ, আমাকে সিনেমার শিল্প জিনিসটার ব্যাপারে এতোকিছু শেখানোর জন্য। মিস্টার রিক ইয়র্নকে ধন্যবাদ, এই ইন্ডাস্ট্রিতে চলতে পথে প্রত্যেক মুহূর্তে আমাকে নির্দেশনা দেয়ার জন্য। আমার বাবা-মা’কে ধন্যবাদ, আপনাদেরকে ছাড়া এসবের কিছুই সম্ভব হতো না। আমার সব বন্ধুদেরকে ধন্যবাদ, আপনারা জানেন আমি কাদের কথা বলছি। আর অবশেষে আমি একটা কথা বলতে চাই।

রেভেনেন্ট সিনেমাটা ছিলো মানুষের সাথে তার প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে। ২০১৫ সালে আমরা সবাই অনুভব করেছি যে, এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর ছিলো। আমাদের সিনেমাটার পুরো প্রোডাকশনকে পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুবিন্দুতে নিয়ে যেতে হয়েছে, শুধু বরফ আর তুষার পাওয়ার জন্য। জলবায়ু পরিবর্তন জিনিসটা বাস্তব। এটা এখনই ঘটছে, এই মুহূর্তেই ঘটছে। আমাদের পুরো প্রজাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এখন এটাই। এবং আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে এই হুমকির মোকাবিলা করতে হবে। আর দেরি করার কোনো সময় নেই। বিশ্বের সেই নেতাগণকে সাহায্য করতে হবে যারা বড় বড় কর্পোরেট আর দূষণকারীদের পক্ষে কথা বলেন না, যারা সমগ্র মানবতার পক্ষে কথা বলেন, যারা বিশ্বের সমগ্র আদিবাসীদের পক্ষে কথা বলেন। এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হবে, আমাদের ভবিষ্যত যে প্রজন্ম আক্রান্ত হবে, আর লোভের রাজনীতি দিয়ে যাদের কণ্ঠকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে – তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই আজ রাতের এই অসাধারণ পুরষ্কারটার জন্য।

আমি এই পৃথিবীটাকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখি না। আজ রাতটাকে আমি অবহেলার দৃষ্টিতে দেখছি না। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।




লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও- অভিনেতার পরিধি ছাড়িয়ে যিনি একজন পরিবেশবাদী। পৃথিবীর প্রতি তার দায়িত্বের কথা ভুলে যাননি এই রাতেও- এই মানুষটির চাইতে আর বেশি কে যোগ্য ছিল আজ?

কংগ্রাচুলেশন লিও! অস্কারকে পাওয়ার জন্য। বেচারা চেলসিতে হারিয়ে খুঁজছিল নিজেকে :P

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তাররা সামনে আরও পিটুনী খাবে... প্রতিকারের সময় এখনি

লিখেছেন অপলক , ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫



দেশে রুগির চেয়ে ডাক্তার, নার্স বা সরকারী সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা অনেক কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৯ জন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×