
অন্ধকার হয়ে আসা রাস্তায় টুং টাং করে বেল বাজিয়ে রিকশা ছুটে যাচ্ছে দুয়েকটা। সেদিকে উদাস হয়ে তাকিয়ে আছে সিফাত। কিছুটা পেছনে হেলে বসে রয়েছে ফুটপাতে শৈলীর পাশে।
- সিফাত, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
- বল
- হাসবে না কিন্তু, বিরক্তও হতে পারবে না আগেই বললাম
ভুরু কুঁচকে গেল সিফাতের নিজের অজান্তেই। এমন সময়ে আদিখ্যেতা ভালো লাগছে না। সোডিয়াম লাইটের মরা আলোতে শৈলীর চেহারাও পরিস্কার দেখা যাচ্ছে না। না তাকিয়েই বলল- ‘বল কি বলবে’
- কতটা ভালোবাসো আমাকে?
- উ!?
- বলো না!
- জানি না
- কেন?
- কতটুকু ভালোবাসতে হবে সেটা ভেবে দেখিনি। মেপে দেখতে বললে তাও হত কিনা কে জানে। হতাশা মেশানো কণ্ঠে উত্তর দিল সে।
- কেন? মেপে দেখতে!
- পাল্লার তোমার দিকটা নেমেই থাকতো। অন্যদিকটা তো খালিই
‘এহ! তাহসানের নাটকের মত সস্তা ডায়লগ শিখলে কবে থেকে? আঁতেল!’ বলেই হাসতে লাগলো শৈলী।
ফ্যাকাসে হয়ে আসা টি-শার্টের ভাঁজ টানতে টানতে সেদিকে তাকিয়ে কেমন যেন একটা কাঁপুনি অনুভব করল সিফাত। শরীরে না বুকে, আলাদা করে বুঝে উঠতে পারে না সে। যতবার এই চশমা পড়া মেয়েটার গজদাঁত বের করা হাসিটা দেখে ততবার কোথায় যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলে।
- কাল কখন আসবে ওরা? এবার সিফাতের কন্ঠ কেঁপে ওঠে। অনেকক্ষণ ধরে কথা খুঁজে পাচ্ছিল না।
শৈলীর হাসিটা কে যেন প্রচন্ড একটা চড় মেরে থামিয়ে দেয় মুহুর্তের মধ্যেই। ‘বিকেলে। কাজী নিয়েই আসবে ওরা’ মৃদু গলায় উত্তর দেয়।
জন্ডিসে ধরা সোডিয়াম লাইটের আলোতে এবার চিক চিক করতে থাকা ভেজা গাল দেখতে পায় সিফাত। শুকিয়ে যাওয়া পানি, ভেজা দাগ রেখে গেছে। মুছে দিতে গিয়েও দেয়না সে। কেমন যেন একটা বিষন্ন সৌন্দর্য কাজ করছে শৈলীর গালে। মন খারাপ করা সন্ধ্যায় আরো একটা মন খারাপ করা ভয়াবহ সুন্দর দৃশ্য। তাকিয়েই আছে সিফাত। আর দেখতে পাবে না এই দৃশ্য। চেষ্টা করছে মনের ক্যানভাসে ছবিটা তুলে রাখতে। যখন ইচ্ছে হবে বের করে দেখবে ছবিটা।
হচ্ছে না, তুলতে পারছেই না শৈলীকে ক্যানভাসের সাদা পর্দায়। তুলির প্রথম টানটা দেয়ার সাথে সাথেই অদৃশ্য কে যেন মুছে দিচ্ছে বারে বারে। ক্যানভাসে কেবল তৈরি হচ্ছে লালাভ একটা দাগ। চারুকলার ছাত্র হয়েও শূন্য ক্যানভাস ছাড়া আর কিছুই নেই সিফাতের শৈলীর জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

