ফাকন্দ নয় বছরের দুষ্ট পোলা। খালি পোংটামি করে। বাপে মাঝে মাঝে ধইরা দেয় দুই গালে দুই থাবড়া। কয়, "আব্বে খানকির পো, দিল্লাগি করার জায়গা পাছ না? তর মায়রে চুদি।"
ফাকন্দ হাসে। কিছু কয় না।
একদিন ফাকন্দের বাপ ফাকন্দরে কানে ধইরা লইয়া গেলো রেসকোর্সের ময়দানে। "মুজিবের ভাষণ আছে আইজকা। ল হুইনা আহি।"
ফাকন্দ যাইতে চায় না। গলি্লর ভিতরে পোলাপাইনের লগে মার্বেল খেলতে চায়। বাপে মারে কানপট্টির উপরে এক থাবড়া। "আব্বে খানকির পো, মুখে মুখে কথা কছ। তর মায়রে চুদি।"
ফাকন্দ আবার হাইসা ফালায়। বাপে বিড়বিড় কইরা কয়, "শরম নাই পোলাডার। মাইর খাইয়া হাসে। অর মায়রে বাপ।"
যাই হোক, ফাকন্দরে লইয়া ফাকন্দের বাপ রেসকোর্স ময়দানে যায়। বাপের পরা লুঙ্গি, সফেদ পানজাবি। ফাকন্দ পরছে হাফপ্যান্ট একটা।
রেসকোর্সের ময়দানে মুজিবের বকতিতা হুইনা ফাকন্দের বাপ খালি গাইল পারে। সবাই জয়ধ্বনি করে, সেই গোলমালে ফাকন্দ বাপের কথা কিছুই শুনতে পায় না।
ফাকন্দ জিগায়, "আব্বা, কি উইছে?"
বাপে কয়, "আমার মাতা আর তর মুন্ডু। বাল, দ্যাশটা কি তাইলে ভাইঙ্গা যাইবো নিকি? মুজিব দেহি স্বাধীনতার কতা কয়!"
ফাকন্দ জিগায়, "আব্বা স্বাধীনতা কি?"
বাপে দাত কিড়মিড় কইরা মারে এক থাবড়া। "আবার কতা কয় হালায়! তর মায়রে চুদি!"
ফাকন্দ হাসে।
বকতিতা শেষ হয়। বজ্রনির্ঘোষে কে জানি কয়, জয় বাংলা! চারপাশে লক্ষ লক্ষ মানুষ চিল্লায় রাগী মেঘের মত, জয় বাংলা!
ফাকন্দের বাপ কয়, "জয় পাকিস্তান!"
ফাকন্দ কয়, "আব্বা, জয় বাংলা কইবা না?"
ফাকন্দের বাপ আরেকটা থাবড়া তুলে আসমানে। ফাকন্দ এইবার কানতে কানতে কয়, "জয় পাকিস্তান।"
লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে এই দুইজনের জয় পাকিস্তান হারাইয়া যায়। খালি ফাকন্দের চড় খাওয়া কানে কেন জানি বাজতে থাকে, জয় পাকিস্তান কথাটা মনে হয় তার পিতা না, জাতির পিতাই কইছিল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



