somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দি সিরিয়াল যেভাবে ধ্বংস করছে আপনার জীবন....

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঠিক সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দুনিয়ার সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে একটাই কাজ হলো ‘হিন্দি সিরিয়াল’ দেখা। কোনো কিছুইতেই আর মন বসে না। প্রতিদিনই নতুন নতুন পর্ব আর ঘটনার চমকের কারণে নেশা হয়ে গিয়েছে সিরিয়ালের। এক দিন দেখতে না পারলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়।



এমন ভয়ংকর নেশায় মত্ত হয়ে আছে বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী। স্টার প্লাস, স্টার ওয়ান কিংবা জি টিভিতে চলা এই সিরিয়ালগুলো নারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এমনকি অনেক পুরুষও আজকাল দেখছেন এসব সিরিয়াল। ঢাকার পাশাপাশি মফস্বলেও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এই আসক্তি। আর হিন্দি সিরিয়ালের বিষাক্ত ছোবলের ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ছে আমাদের সমাজের উপরে।

আসুন জেনে নেয়া যাক হিন্দি সিরিয়ালের সেই বিরূপ প্রভাব গুলো, যা মূলত ধ্বংস করছে আপনার জীবন!



১) অতিরিক্ত সাজ পোশাক ও মেকআপ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া :
হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকারা মেকআপ করে ঘুমাতে যায়, ঘুম থেকে ওঠে, শপিংএ যায়। এমনকি গোসল করে আসার পরেও মেকআপ করা থাকে। আর তাই হিন্দি সিরিয়াল আশক্ত নারীদের মধ্যেও অতিরিক্ত মেকআপ করা ও হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকাদের মত দামী দামী বিচিত্র রং বে রং এর সাজ পোশাক পড়ার প্রবণতা বাড়ছে।



২) সংসারে ‘কুটনামি’ করে অশান্তি বৃদ্ধি করা :
হিন্দি সিরিয়ালের মূল উপাদান নিঃসন্দেহে কুটনামি। প্রতিদিনই সিরিয়ালে দেখানো হচ্ছে শাশুড়ি-বৌ এর কুটনামি, দুই জা এর কুটনামি কিংবা পরিবারের অন্যদের সংগে ষড়যন্ত্র ও কুটনামি। সিরিয়ালে দেখানো এসব ঘটনা ‘স্লো পয়জন’ এর মত কাজ করছে নারীদের ওপর। নিজের অজান্তেই কুটনামি করা শিখে ফেলছেন নারীরা। এক পর্যায়ে মনের বিকৃতির কারণে কুটনামি করেই বিকৃত রূচির বিনোদন পাচ্ছেন আমাদের সমাজের কিছু সংখ্যক হিন্দি সিরিয়াল প্রেমী নারী। যৌথ পরিবার আজ হুমকির মুখে এই কারনে।



৩) অন্যের সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা করা :
হিন্দি সিরিয়ালের দেখা দেখি একের কাছে অন্যের সমালোচনা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সমাজে। বান্ধবীদের কাছে, বোনদের কাছে কিংবা অন্য কারো কাছে সমালোচনা করে আনন্দ পাচ্ছে নারীরা। কে কী পোশাক পরছে, কার কত টুকু সম্পত্তি আছে, কার সন্তান আছে কার নেই ইত্যাদি অনধিকার চর্চার অভ্যাস বাড়ছে।



৪) সন্দেহ প্রবণতা ও সাধারণ বিষয়কেও জটিল মনে করা :
হিন্দি সিরিয়ালে অনেক সাধারণ একটি বিষয়কেও জটিল করে দেখানো হয়। আর তাই যারা নিয়মিত হিন্দি সিরিয়াল দেখে তাদের কাছে খুব সহজ, সাধারণ একটি বিষয়কেও অনেক বেশি জটিল ও কুটিল মনে হতে থাকে। ফলে অযথাই মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় তাদের। স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের প্রতি সন্দেহ প্রবণতা বাড়ছে যার ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের মত ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে।



৫) লোক দেখানো কাজ করা :
কার কত দামী শাড়ি আছে, অমুক সিরিয়ালের নায়িকার স্টাইলের শাড়ি, তমুক সিরিয়ালের নায়িকার গলার হার ইত্যাদি হিন্দি সিরিয়ালের ভক্ত নারীদের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার চাইতে কে বেশি খরচ করে এসব কিনতে পারবে ও বান্ধবীদেরকে দেখাতে পারবে না নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা হয় নিজেদের মধ্যে। অসুস্থ এই প্রতিযোগিতায় যারা হেরে যায় তাদেরকে কটাক্ষ করতেও দ্বিধা করে হিন্দি সিরিয়াল আসক্ত এই নারীরা।



৬) পড়াশোনায় ক্ষতি :
স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অনেক মেয়েরা ও কিছু সংখ্যক ছেলেরাও হিন্দি সিরিয়ালে আসক্ত। প্রতিদিন পড়াশোনার মূল সময়টি তারা নষ্ট করে হিন্দি সিরিয়াল দেখে। তাদের মা, নানি, দাদিরাও সেই সময়ে বসে সিরিয়াল দেখে বলে সন্তানদেরকে মানা করতে পারে না। ফলে তাদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কম বয়সেই ঝরে পড়ছে পড়াশোনা থেকে।



৭) অবৈধ সম্পর্ক বা পরকীয়ার প্রবণতা:
হিন্দি সিরিয়ালে অহরহই যে বিষয়টি দেখাচ্ছে তা হলো পরকীয়া। প্রতিটি সিরিয়ালেই পরকীয়া হলো ঘটনার একটি মূল উপাদান। নৈতিকতা বিরোধী এই সম্পর্ক অতিরিক্ত দেখার কারণে বেশ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে গৃহিণীদের কাছে। তাই একটু সুযোগ পেলেই পরকীয়ায় লিপ্ত হচ্ছে অনেক নারী। এমনকি অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে অনেক নারী-পুরুষ।



৮) ভারতীয় সংস্কৃতির বিরূপ প্রভাব :
আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পূজা, ঈদ, সম্পর্ক সব কিছুতেই পড়েছে হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব। হিন্দি সিরিয়ালের দেখা দেখি অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ন অনুষ্ঠান করা কিংবা ভারতীয় প্রথা অনুসরণ করার কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নিজস্ব দেশীয় সংস্কৃতি।

তাই আসুন নিজে হিন্দি সিরিয়াল থেকে বাঁচি এবং নিজের পরিবারকে ও অন্যকে বাঁচাই।
১৭টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×