somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাকাশের ক্ষুদে তারকাদের আবার একটু স্বরন করে নেই

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নেইল আর্মস্ট্রং আর ইউরি গ্যাগারিনের কথা আমরা সবাই জানি এবং সারা বিশ্ব খুবই শ্রদ্ধার সাথেই স্বরণ করে থাকে দুজনকে। তবে তাদের মিশন মুন সফল হবার আগে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তার কথা আমরা বেমালুম ভূলেই যাই। হ্যাঁ, আমি সেই ছোট্ট কুকর লাইকার কথা বলছি। সোভিয়েতের হয়ে সেই প্রথম পৃথিবী ক্ষপথে চক্কর মেরেছিল এবং সেই প্রাণীজগতের প্রথম প্রানী যে মহাকাশে গিয়েছিল। এরকম আরো অনেক প্রানীই যুগে যুগে মহাকাশে গিয়েছে। আজ সেই সমস্ত ক্ষুদে তারকাদের কথাই আরেকবার স্বরন করব –

লাইকা



১৯৫৭ সালে লাইকাই প্রথম প্রানী যগতের হয়ে মহাকাশ ঘুরে আসে। আমরা শুধু এইটুকুই জানি। তাকে দিয়ে করানো হয়েছিল মূলত একটি বিশাল ঝুকিপূর্ণ এক্সপেরিমেন্ট। লাইকার এক্সপেরিমেন্ট সফলও হয়ছিল। তবে আমরা অনেকেই যা জানিনা তা হল, ল্যান্ডিং এর কয়েক ঘন্টা পরেই লাইকার মৃত্যু ঘটেছিল। তবে সে প্রমান করেছিল যে মহাকাশে ওজনহীনতায় প্রানী বেঁচে থাকতে পারে।

সোভিয়েত ডগ স্কোয়াড



১৯৫০ এবং ১৯৬০ সালের মহাকাশ অভিজানে সোভিয়েত যেন মরিয়া হয়ে উঠে। একের পর এক এক্সপেরিমেন্ট। একের পর এক প্রান। এই সময়ে তারা একসাথে ৫৭টি কুকুর স্পেসে পাঠিয়েছিল। এদের অনেকে আবার লাইকার চাইতে বয়সে ছোট এবং অনেকে পরবর্তীতে একাধীকবার মহাকাশ ভ্রমনের সূযোগ পায়।

Little Guy



এই দৃশ্যটা দেখে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। এটি একটি স্কুইরেল মানকি। তাকে স্পেস ট্রেইনিং এ সিলিকন রাবার এর প্যাডিং করে তাকে ক্যাপসুলেট করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য একটাই, এক্সপেরিমেন্ট। ১৯৫৮ সালে ১৫ মিনিটের একটি স্পেস ফ্লাইটে ৩১০ মাইল ভ্রমন করে সে। তবে ল্যান্ডিং এর পর সে এবং তার ক্যাপস্যুল কোনটাকেই আর খুজে পাওয়া যায় নাই। তবে ক্যাপসুলের এক্সপেরিমেন্টে এটাই ছিল প্রথম মাইল ফলক। ধরে নেয়া হয় সে সমস্ত যাত্রা পথে জীবিত ছিল। মারা গিয়েছিল ল্যান্ডিং এর পরে।

এ্যাবেল এবং বেকার



এরাই প্রথম প্রানীযুগল যারা মহাকাশের সমস্ত যাত্রা পথ এবং ল্যান্ডিং এর পরেও সুস্থভাবে জীবন যাপন করেছিল। ছবিটি ১৯৫৯ সালের। এরকম সফল মিশনের পরে নাসার কর্মকর্তারা তাদের নিয়ে আনন্দেই মেতে উঠে। এ্যাবেল ছিল ৭ পাউন্ডের রেসাস মানকি এবং বেকার ছিল ১১ পাউন্ডের স্কুইরেল মানকি এবং দুজনেরই মাতৃভূমি ছিল পেরু। এ্যাবেল ল্যান্ডিং এর চারদিন পরে একটি মাইনর সার্জারি করতে গিয়ে মারা যায় তবে বেকার বেঁচে ছিল ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত!!

শিম্পাজ্ঞি



১৯৬১ সালে, সোভিয়েতের হয়ে ইউরি গ্যাগারিন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে আসার আগেই নাসা তাদের মার্কারী প্রোগ্রামের জন্যে একটি শিম্পকে ট্রইন করছিল। হলোমন এয়ার বেসে এরকমই প্রায় বিশটি শিম্পটি দিয়ে চালানো হয়ছিল এক্সপেরিমেন্ট।

টাইম টাস্ক



হলোমন এয়ার বেসের সেই শিম্পদের ট্রেইনিং এর একটি অংশ ছিল টাইম টাস্ক। এটা ছিল একটা সিম্পল টাস্ক। বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক্যাল লাইট এবং সাউন্ডে কিভাবে রেসপন্স করতে হবে তারই একটি ট্রেইনিং। এই ছবিটি নেয় হয়েছে যখন একটি শিম্প একটি মিসটেক করেছিল এবং মহাকাশে বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল নাসা কে!

ক্যাপস্যুল পজিশনিং

Click This Link

এই ছবিটিও হলোমন এয়ার বেস থেকে নেয়া। এক্সপেরিমেন্ট চলছিল মঙ্গল অভিজানের ক্যাপস্যুলেটিং সিস্টেমটি নিয়ে। রকেট লন্চ হবার কিছুক্ষন আগে তোলা হয় এই ছবিটি।


Mission Accomplished

Click This Link

অবশেষে হলোমন এয়ার বেস সফলভাবে দুটি শিম্পকে মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হয়। ১৯৬১ সালে হ্যাম নামের একটি শিম্পকে প্রায় ১৪ মিনিটের জন্যে স্পেসে পাঠানো হয়। এবং সে পৃথিবীর কক্ষপথে দুইবার চক্কর মেরে আসে।

নিরাপদ পর্ত্যাবর্তন



এখানে হ্যামের হাসিমুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে পৃথিবীর কক্ষপথে চক্কর মেরে সে কি মজাটাই না পেয়েছিল সেদিন। আটলান্টিকে তার ক্যাপস্যুলটি নিক্ষিপ্ত করা হয় এবং সেখান থেকেই একজন ক্রু তার ক্যাপসুলটি নিরাপদে নিয়ে আসে।


আমার এই টিউনটি আগে টেকটিউন্সে প্রকাশিত। মূল লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×