somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুকরিয়াহ ! সুযোগটা আমি পাইনি বলে।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুকরিয়াহ ! সুযোগটা আমি পাইনি বলে।

গোটা শিক্ষাঙ্গনে নকল ছিল খুবই সাধারণ বিষয়। এমনকি যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছিলাম তখন এমন কথাও শুনতাম যে, পরীক্ষায় নকল করতে না পারলে সে পাসই করতে পারে না।শুনতাম আর ভয় পেতাম। বাড়িয়ে বলছি না। বরং এমন কথা আমি বহুবার শুনেছি। আমার মনে আছে, যখন আমি তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি তখন ৩য় শ্রেণীর কোন এক ছেলের নকল আমি স্যারকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম। দায়িত্ববোধ বলে প্রচার করছি না। নেহাত দুষ্টুমী থেকেই করা। যা’হোক, বুঝাতে চাচ্ছিলাম, নকলের শিকড় কত দূর পৌছেছিল!
বর্তমান সময়ে এসে পরীক্ষার হলে নকল করার বিষয়টি নিয়ে জরিপ করা হলে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকেই হয়তো বিস্ময়সূচক উত্তর পাওয়া যাবে। অর্থাৎ তারা জানেনা নকল কিভাবে করে। এক সময় ছাত্র-ছাত্রীরা নকল দ্বারা এতটা আক্রান্ত ছিল যে তারা পড়াশোনাই করত না। আর সেই সংক্রামক ব্যাধি শিক্ষাঙ্গন থেকে এমনভাবে মূলোৎপাটিত হয়েছে যে, ছাত্র-ছাত্রীরা এখন পড়াশোনা ছাড়া ভাল ফলাফলের কোন উপায় জানে না। শুধু ভাল ফল নয়, পাস করতেও পড়াশোনা করতে হয়। আর এরূপ পরিবর্তনটা সময় মতো হয়েছিল বলে ঐ অসৎ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলাম আমিও। শুকরিয়াহ !
এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন বললে একে আদৌ বেশী বলা হবে না।
আর এই ঐতিহাসিক কাজটি হয়েছিল ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে কোন একটি সময়ে। আমি কোন রাজনৈতিক সময়কে নির্দেশ করছি না। তখন অন্য কি হয়েছিল বা না হয়েছিল তা বলতে চাই না। অন্ততঃ একটি কাজ হয়েছিল যার আশির্বাদে আজকে আমাদের শিশুরা কিছু শিখছে।
কিন্তু আজ বড় ব্যাথায় কাতর হই। পাঠ্যবইমুখী আমাদের পড়ুয়া বাচ্চাদের পড়াশোনা করার চিন্তাকে সুকৌশলে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি ছেলে বা মেয়ে পড়ার টেনশান নিয়ে তখনই পড়তে বসে যখন সে জানে যে, লিখতে না পারলে আমি নম্বর পাব না। কিন্তু যখন সে বুঝে ফেলে যে, ভুল হোক/সঠিক হোক, কিছু একটা লিখলেই নম্বর পাওয়া যাবে, তখন সে কেন পড়তে চাইবে। কথাটি বলছি বাস্তব তথ্য থেকে। আজ জেএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন ছিল। বিকেলে কোন এক পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ”পড়াশোনা কেমন করছ?” সে উত্তর দিল, “পরীক্ষার খাতায় গান লিখেও এ-প্লাস পাওয়া যায়, তাহলে পড়াশোনার কী দরকার”। কথাটি কারো কারো কাছে ফালতু মনে হলেও বাস্তবতা যে একদম নেই, এমনতো নয়। বিষয়টা সেসব পরীক্ষকরাই সত্যায়ন করতে পারবেন যারা একটি খাতা দেখতে এক মিনিটের কম সময় পান। তার ওপরে আবার নির্দেশ থাকে- কোন নম্বর কাটা যাবে না, খাতায় কালো কালির দাগ থাকলে সেখানে নম্বর দিতে হবে।
যে কারণে আজকাল পাঠদানের ক্ষেত্রে একটি কাজ খুব সাধারণভাবে হচ্ছে এবং সেটি খুব সহজেই পরিবেশের সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে, আর তা হলো- যখনই কোন শিক্ষার্থী কোন একটা পড়া বুঝতে না পারে, তখন যার সেটা শিখিয়ে দেয়ার কথা ছিল সেই শিক্ষকই তাকে আস্বস্ত করেন এই বলে, ”পরীক্ষার সময় না পারলে যা পার অন্তত কিছু একটা লিখে দিবে, তাহলেও নম্বর পাবে”। শিক্ষার্থীরা তখন চিন্তার বদলে আনন্দিত হয়। এই কাজটি গোপনে হাউস টউশনে হচ্ছে এমন নয়। বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রকাশ্য হচ্ছে। দোষ কী তাদের। যা হচ্ছে, তারাতো সেটাই বলছেন।
তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা নকল করছে না ঠিকই। পঠ্যবইমুখী পড়ুয়া বাচ্চাদের পড়ার মানসিকতা কী আগের মতো থাকছে আর এখন ? কিছুটা হলেও কি ক্ষতিগ্র্স্ত হয়নি? কলঙ্ক কি প্রকাশ পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়?
উন্নয়নের নামে কেন এই প্রহসন? কী উদ্দেশ্য এর আড়ালে, জানতে চায় জাতি।
আমি আগেই বলেছি, কোন রাজনৈতিক আলোচনায় বসিনি। আগের কাজটি যেই করত তাকেই ধন্যবাদ দিতাম। আর বর্তমান কাজটি যেই করত তাকেই ধিক্কার দিতাম।
আমরা এ-প্লাস চাই না। আমরা শিক্ষা চাই।
আমরা এমন উন্নয়ন চাই না। আমরা চাই বাচ্চারা পড়াশোনা করুক।
দেয়া যাবে কি সেটুকু ?
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×