somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মন থেকে বলি
অনেক কিছু লিখতে চেয়েছিল। কিন্তু লেখাগুলো খুঁজে পায়নি। অনেক কিছু বলতে চেয়েছিল। কিন্তু সেগুলো শোনারও সময় কারও ছিল না

মুভি রিভিউঃ জ্যাক রিচার - এক অনবদ্য 'কাবোদাচো' কাহিনী

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার কপালে ঘটনা দেখিতেছি কেবল ছিঃনেমা হলেই ঘটে! যখনই কেনে আঙুল ডান কানে ঢুকাইয়া গল্পের প্লটের খোঁজে প্রবলবেগে ঝাঁকাইতে থাকি, শুধু মনে পড়িয়া যায় সদ্য যেসকল 'বই' দেখিয়াছি, তাহাদের কথা।

আজও ঝাঁকাইতে ছিলাম। আসিল 'টম কাকা'।

গত হপ্তায়ই এক বন্ধুর গাড়িতে চাপিয়া সস্ত্রীক গিয়াছিলাম টম বাবাজীর কেরামতি দেখিতে। বন্ধু প্রথমে যাইতে চাহে নাই। আমি প্রলোভন দেখাইলামঃ "আরে, কাকার নতুন ছবি। মিস করা মহা ভুল হইবে। চল। আবার টিকিট লইয়া ভাবিতেছ কেন? উহা আমার দ্বায়িত্ব।" এইসব ভুজুং ভাজুং মারিয়া প্টাইয়া ফেলিলাম।

আমার চয়েস ছিল 'অদ্ভুত ডাক্তার'। গিয়া দেখি, সে এক অদ্ভুত ভীড়! মার মার করিয়া লোকে লোকারন্য করিয়া ফেলিয়াছে ডক্টর স্ট্রেঞ্জের কাউন্টার। সাহস হইলো না সেদিকে ঘেঁসিতে। সহধর্মীনী আবার ধুম ধাড়াক্কা পছন্দ করেন। সেইসাথে ধোলাই দৃশ্য থাকিলে তো কথাই নাই। হয়তো এই বজ্জাতটিকে 'পেটাই করিবার ইচ্ছা'টাকে পর্দায় দেখিয়া কিছুটা উসুল করেন। সুতরাং জ্যাক রিচারই সাব্যস্ত হইলো।

টিকিট কাটিয়া তিনজন সুড়ুৎ করিয়া সেঁধাইয়া গেলাম প্রেক্ষাগৃহে। এইবার আর ভুল করি নাই। পপকর্ন আর কোক আগেই কিনিয়াছি। ব্লাডারও যথারীতি খালি করিয়া রাখিয়াছি। একদম আনইন্টারাপটেড সময় কাটাইবো আজ। অভিজ্ঞতার দ্বারা পুরা পয়সা উসুল করিয়া ছাড়িব।

হলে দেখি গুটিকয় লোক ইতস্তত ছড়ানো।

ঘটনা কি? এত কম দর্শক কেন? মুভির কাহিনী জানা ছিল না। লোকমুখে শুনিয়াই স্ত্রীকে লইয়া আসিয়াছি। ভুল হইলে আর রক্ষা থাকিবে না। আচ্ছা, দেখা যাক।

শুরু হইতেই মারামারি।

কি জন্যে - বুঝিতে চেষ্টা করিলাম। ধরিতে পারিলাম না। প্রথমে মনে হইলো, সবাই সবাইকে পিটাইতেছে। যেমন আদ্দিকালের ব্রুস লি'র ছবিতে দেখিতাম। দলকে দল শুধু কুংফু করিতেছে শুরু হইতে শেষ পর্যন্ত। হয়ত ইহা আধুনিক কুংফু। সাদা-কালো জোব্বার পরিবর্তে ইংলিশ প্যান্ট পরিয়া করিতে হয়। দেখি আরেকটু।

কিছুক্ষন পর ভ্রম সংশোধন হইলো। উঁহু....! মারিতেছে শুধু একজনই। আমাদের টম কাকা। সব্বাইকে। তবে কেন যে যাহাকেই সামনে পাইতেছে তাহারই মুখে কুনুই নয় ঘুঁসো চালাইতেছে, বুঝিলাম না। লাথের সংখ্যা বেশ কম।

কিছুক্ষন পরে একজন তন্বী যোগ দিলেন। ভাবে মনে হইলো হিরোইন। আহ...! এইবার রোম্যান্টিকতা কাকার ঘুঁসির মাত্রা কমাইবে নিশ্চয়ই। কিন্তু হা হতোস্মি..!! ইনি দর্শনে তন্বী হইলেও কর্মে 'ভীমা'। কাকা অপেক্ষাও ওজনদার ধোলাই শুরু করিলেন। মারের চোটে অস্থির হইয়া গেলাম। গল্পের স্রোত কিছুতেই ধরিতে পারিতেছি না। আড়চোখে স্ত্রীর পানে চাহিলাম। উনি যথারীতি হা করিয়া দৃশ্য গিলিতেছেন।

এইবার বন্ধুবরকে ফিসফিসাইয়া শুধাইলামঃ "কি হে, কি বুঝিতেছ?"

বন্ধুবর উত্তর দিলেনঃ "উফ...দারুন এক ছবি বাছিয়াছ তো। 'KABODACHO' ওয়েবসাইটেও দারুন রিভিউ দিয়াছে। IMDB'র বাড়া।"

এইবার নিজের বুদ্ধিবৃত্তির উপর কিঞ্চিৎ সন্দেহ জন্মাইল। সে-ও গল্প বুঝিতেছে...? আর আমি গাড়ল এই অর্ধঘন্টা ধরিয়া চেষ্টাই করিতেছি। এমনকি ওয়েবসাইট চষাও সারা। বন্ধু আবার এইসব অনলাইন ভাল বুঝে।

সন্দিঘ্ন স্বরে জিজ্ঞাসিলামঃ "কোন সাইট কহিলে? KABODACHO?"

"হুম" - ইষৎ হাস্যস্বরে মনে হইল উত্তর আসিল।

আমি ক্রোম খুলিয়া গুগল সার্চ মারিব, ঠিক একন সময় বন্ধু আবার যোগ করিলেন, "বাংলায় সার্চ দিয়। ভাল ফল আসিবে।"

সুতরাং লিখিলাম - কাবোচাদো। কিছুই আসিল না। বন্ধুকে প্রশ্ন করিতে গিয়াই সামলাইয়া লইলাম। কাবোদাচো.....বোকাদাচো....বোকা****....হুম!!! বুঝিলাম, বন্ধু আমার সাইটের নাম কহেন নাই। যে গাড়ল মুভি বাছিয়া আবার তাহার রিভিউ পড়িতে চাহিতেছে, তাহার নাম কহিয়া দিয়াছেন। বেশ...বেশ...!! সমস্ত গল্প এক নিমিষে 'কিলিয়ার' হইয়া গেল।

কাহিনী আর ফেনাইয়া লাভ নাই। শেষ করি।

মুভি শেষে বন্ধুবরকে ডিনার করাইতে হইয়াছিল মূল্যবান সময় অপচয়ের ক্ষতিপূরন হিসেবে। টিকিটের টাকা আগেই গিয়াছিল। আরও একগোছা খসিয়া গেল 'কাকা'র বদৌলতে।

একমাত্র স্বান্তনা, স্ত্রী কিছু কহেন নাই। কেন, সেই রহস্যও ভেদ করিয়াছি।

আমার মতোই উনিও এক অক্ষরও কাহিনী বুঝেন নাই। তাই কোন এংগেলে আমাকে চাপিবেন বা চাপড়াইবেন, তাহা ঠাহর করিয়া উঠিতে পারেন নাই। আপাতত তাই চুপ মারিয়া আছেন।

তবে যদি কখনও জিজ্ঞাস করেন, ব্রাউজার খুলিয়া 'কাবোদাচো' ওয়েবসাইট দেখাইয়া দিব ঠিক করিয়া রাখিয়াছি।

তাহার পর যাহা আছে কপালে। জয় গুরু।

(বহুদিন আগে একজন এই কাবোদাচো শব্দটি তার লেখায় ব্যবহার করেছিলেন। লেখকের নাম মনে নেই। কিন্তু কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নিলাম।)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×