somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউঃ দাঙ্গাল - এগুলো কি জানতেন?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এতদিন হয়ে গেছে মুক্তি পেয়েছে। নিশ্চয়ই কয়েকজন রিভিউ দিয়েও ফেলেছেন। কিন্তু ছবিটা আমার এত দুর্দান্ত লেগেছে যে আমার মত করে আরেকটা রিভিউ না দিয়ে পারলাম না।

বলা হয়, রাম জন্মানোর আগেই রানায়ন লেখা হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ, গল্পকারের সবসময়ই কিছুটা স্বাধীনতা থাকে মূল ঘটনার কিছুটা রদবদল করার। দাঙ্গাল-ও এর ব্যতিক্রম নয়। দাঙ্গালের কাহিনীর সাথে মৌলিক ঘটনার কিছু কিছু জায়গায় অমিল আছে। আসুন জেনে নেই সেই ব্যতিক্রমগুলো।

১। ছবিতে আমরা দেখেছি যে গীতা ফাইনালে তার রোমানিয়ান প্রতিপক্ষকে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে শেষ রাউন্ডের শেষ সেকেন্ডে একেবারে ৫ স্কোর করে হারিয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে গীতা ফাইনালে সরাসরি ১-০ এবং ৭-০ সেটে প্রতিপক্ষকে হারিয়েছিল।

২। মুভি অনুসারে কমনোয়েলথ গেমসের আগে গীতা তার সবগুলো আর্ন্তজাতিক খেলাতেই হেরে যায়। কারন সে তার কোচের ভুল পদ্ধতিতে খেলে যাচ্ছিল। বাস্তবে সেই ঐতিহাসিক কমনোয়েলথ গেমসের আগের বছরেই সে কমনোয়েলথ চ্যাম্পিওনশিপের সোনা জিতেছিল।

৩। গীতার সেই হিংসুক কোচের কথা মনে আছে যে কি না পদে পদে মহাবীরকে অপমান করে? সেই তো ছবির একমাত্র ভিলেইন। বাস্তবের গীতার কোচ কিন্তু মোটেও সেরকম মানুষ নন। বরং নিজের এই ভয়ংকর উপস্থাপনা দেখে তিনি আমির খানের বিরুদ্ধে একবার মানহানীর মামলা করার কথাও ভেবেছিলেন। যাই হোক, তাঁর ভাষ্যমতে মহাবীর সিং জী ছিকেন অসম্ভব ভদ্র একজন মানুষ এবং তিনি কখনই তাঁর কোচিং পদ্ধতিতে নাক গলান নি, যেরকম ছবিতে বারবার দেখানো হয়েছে।

৪। ল্লছবিতে আরও দেখায় যে, ফাইনালের সময় মহাবীরকে একটা রুমে আটকে রাখা হয়, সেই কোচেরই নির্দেশে, তাই না? ফলে মহাবীরের পক্ষে তার মেয়ের সেই ঐতিহাসিক জয় উপভোগ করা সম্ভব হয়নি। রিয়েল লাইফে এরকম কিছুই ঘটেনি। মহাবীর পুরোটা সময় গ্যালারিতেই ছিলেন।

৫। মুভির শুরুতেই দর্শকদের জানানো হয় যে, মহাবীর একটা পুত্রের জন্য ডেসপ্যারেট ছিলেন যেন এর মাধ্যমে তিনি সোনা আনতে পারেন। কিন্তু মহাবীর সিং পোগটের আত্মজীবনী 'আখড়া' থেকে আমরা জানতে পারি যে, মহাবীর নন, বরং তাঁর স্ত্রী দয়া কাউর একটি পুত্র সন্তানের জন্য ব্যাকুল ছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জামায়াতে Cockroach" ............... বাংলাদেশের নতুন Cockroach পার্টি

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:০১

রবীন্দ্রনাথ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাও চেয়ে থাকেন (তর্কের খাতিরে) তো তাতে *জামায়াতে cockroach এর কোন বা/লটা ছিড়লো…? জামায়াত যেমন বাংলাদেশ চায়নি, তেমনি পাকিস্তানও চায়নি। মওদুদী এর নাম নামকরন করেছিলো নাপাকিস্তান….।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদির আকাশে সংঘাতের কালো মেঘ আর প্রবাসীদের পুরনো বন্দিদশা: আমাদের শ্রমবাজারের নতুন সংকট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

বাইরে যুদ্ধাবস্থা, রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুতিদের লাগাতার ড্রাফট-মিসাইল হামলা, আর অন্যদিকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো একে একে বাতিল বা স্থগিত—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে আবারও এক মারাত্মক অন্ধকারের ছায়া নেমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×