
দুই ছেলেই পড়ছে - গুনগুন....ভনভন...
ওদের মা প্রশ্ন বানাচ্ছে।
আর আমি বসে আছি চুপচাপ।
অফার করেছিলাম - পড়ানোর ব্যাপারে সাহায্য করব কি না। উত্তরে নির্দেশ পেলামঃ
চুপ করে বসে থাক সামনে। কথা বলো না। তুমি চুপ থাকলেই সব ঠিক থাকে।
আমি নিষ্ঠার সাথে সেই কাজ করে যাচ্ছি এতক্ষন ধরে। মানে চুপচাপ মোবাইল টিপছি।
এর মাঝে ফোন-রিং।
মা ফোনে 'হ্যালো' বলতেই ছোটটা হাওয়া হয়ে গেল। চেয়ার ছেড়ে সটান আমার কাছে। ফিসফিস করে যা বলল, শুনে আমার আক্কেলগুড়ুম।
"বাবা, জানো আমি না একটা জিনিস আবিষ্কার করেছি।
কি করেছো? - আমার কৌতুহলী প্রশ্ন।
"মেয়েদের ব্যাপারে আমি তিনটা জিনিস আবিষ্কার করেছি।"
বাপ রে!
৯ বছর পার হয়েছে মাত্র। এরমধ্যে 'মেয়েদের' সম্পর্কে একটা না, দুইটা না, এক্কেবারে তিনটা আবিষ্কার!! সাব্বাস বেটা। তোর বাপধন ৪০শে এসেও যেখানে একটাও পারেনি।
কি জানলে বাবা? - আমার মোলায়েম প্রশ্ন। অলরেডি গায়ের পশম দাঁড়িয়ে গেছে।
"মেয়েরা না ইমোশন্যাল, সেন্সিটিভ আর ইরিটেটিং।"
তাই না কি? কিভাবে, বুঝাও তো।
"উমমম...ওরা অল্পতেই কেঁদে দেয়। এইজন্য ইমোশোন্যাল বলি।"
ও..ও..আমি টান দেই গলায়। তারপর বল। বাকি তিনটা?
"ওরা সেনসিটিভ কারন গায়ে অল্প টাচ (!) লাগলেই মিসের কাছে কমপ্লেইন করে দেয়।"
আহা...! কি শুনছি। কিন্তু কিছু বললাম না। আরেকটা বাকি আছে যে। চুপ করে গেছে দেখে তাড়া দিলাম - বল, কেন ওদের ইরিটেটিং লাগে।
"ওরা না শুধু আমাকে বিরক্তি করে। এসে খেলতে চায়। আর আমার কোন কথা সিরিয়াসলি নেয় না। তাই ইরিটেটিং।"
.
.
.
ইমোশোন্যাল! সেনসিটিভ!! ইরিটেটিং!!!
এক লাইনে ফুল ক্যারেকটার। ওয়াহ...!
কে বলে নারীকে বুঝতে ভগবানও পারে না। ৯ বছরের শিশুই পারে। আর কি কথা।
(কেউ আমারে একটা গামছা দে। লুঙিটা খুইলা মাথায় বাইন্ধা রাখি)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



