somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্টোরি বেইজমেন্ট 'রাজপুত্তুর' বেইজমেস্ট ব্যাপারটা কি?

০৬ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্টোরি বেইজমেন্ট 'রাজপুত্তুর'! 'বেইজমেন্ট' ব্যাপারটা কি?

স্টোরি বেইজমেন্ট'টা ব্যাপারটা কি? 'মূল কাহিনি' বা 'অাখ্যান' বা গল্প বললে হয় না? এ নিয়ে অামি অারো দুএকজন সুহৃদের প্রশ্নের মধ্যে পড়েছি। রীতি অনুযায়ী অামিও কিছুটা জটিলতার মধ্যে অাছি। জটিলতা একটু খুলে বলি। শিল্প-সাহিত্য-সংষ্কৃতির সাময়িকী 'সামান্য কিছু'র নির্বাহী সম্পাদক সাদ্দাম সিকদারের উৎসাহেই অামি উৎসাহিত হয়েছি 'রাজপুত্তুর'এর স্ক্রিপ্ট করে জমা দিতে। যখন সংষ্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপন অনুযায়ী, রবীন্দ্র-শিশু সাহিত্যের চলচ্চিত্রায়নে অামি স্ক্রিপ্ট প্রতিযোগিতা করতে উৎসাহিত হই, ভাবলাম, 'ডাকঘর' দি। কিন্তু 'ডাকঘর' তো নাট্যরুপেই লেখা। চিত্রনাট্য করে মজা কম পাব হয়তো। তাছাড়া 'ডাকঘর' প্রতিযোগিতায় হটলিস্ট হতে পারে। অাবার অমলের স্বপ্নালু জ্বরগ্রস্থ প্রজ্ঞাপূর্ণ ক্ষণস্থায়ী বালকবেলাটা অামার পছন্দের। এরপর, লীলা মজুমদার সম্পাদিত রবীন্দ্র-শিশুতোষ ভাণ্ডার 'কৈশোরক' পড়তে পড়তে দেখি, একটা গল্প অামার পছন্দ হচ্ছে চিত্রনাট্য করতে। গল্পের নাম, 'সুকুমার'। চিত্রনাট্য করতে ধ্যানস্থ হলাম। অারেকটু তল্লাসী চালাতেই বুঝলাম, 'সুকুমার' নামে রবীন্দ্রনাথ অালাদা কোনো গল্প লেখেননি। লীলা মজুমদার সম্পাদিত রবীন্দ্রশিশুতোষ-কোষ 'কৈশোরক' ১৯৪১ এ রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরবর্তীতে 'বিশ্বভারতী'র প্রকাশনা। অারেকটু তল্লাসী চালিয়ে দেখলাম, রবীন্দ্রনাথের শেষবয়সের দিকে উত্তমপুরুষে লেখা অাধা-বাস্তব, অাধা স্বপ্ন-কল্পচিত্রের একটি গ্রন্থ 'সে'। 'সে' অাসবে, এই সে যে কে? 'সে' অাসলে পুপেদির গল্প, দাদুর সঙ্গে পুপেদির গল্প। পুপেদি হচ্ছে রবীন্দ্র-তনয় রথীন্দ্রনাথের পালিত কন্যা। কবির নাতনী। 'সে' এক অদ্ভুত সুন্দর লেখা। খানিকটা পরাবাস্তব রিয়েলিটি। সে অাবার কি? সুর-রিয়েলিস্টিক রিয়েলিটি! চিত্রনাট্য করার সময় কথা প্রসঙ্গে অামি কথা বলেছি, 'সে'র পাঠক খুব কম। চারজন মানুষ পেয়েছি, যারা বলামাত্রই 'সে'কে কন্টাক্ট করেছেন, বলেছেন, 'ও সেই পুপের গল্প!' 'সে'র সেই পাঠকেরা হচ্ছেন, অধ্যাপক অানিসুজ্জামান, কবি অাসাদ চৌধুরী, শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার এবং প্রথম অামাকে যিনি 'সুকুমার'কে 'সে'র মধ্যে খুঁজতে একদিন তাঁর বাসায় নিয়ে গেলেন, তিনি লেখক অধ্যাপক বদিউর রহমান। বদি স্যার অামাকে তাঁর ভূতের গলির বাসায় নিয়ে গিয়ে রবীন্দ্র রচনা থেকে 'সে'কে বের করে দিলেন। সেইদিনই, তখনই অাজিজ মার্কেটে গিয়ে ফটোষ্টাট করে নিলাম পুরো 'সে'কে। পরে, বিশ্বভারতী'র প্রকাশনা 'সে' গ্রন্থটা অামাকে কনকর্ড মার্কেটের 'মধ্যমা' প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী বন্ধুজন সুমন গিফট করেছেন এক কপি। চিত্রনাট্য প্রতিযোগিতায় অামি অফিসিয়ালি ২৩ জনের মধ্যে প্রথম হয়েছি। (অামার জীবনে এই কোথাও প্রথম হয়তো প্রথম হওয়া। হা হা হা)।
'সে; হচ্ছে ১ থেকে ১৬ পরিচ্ছেদ বিস্তারি গল্প। কিছুটা ঘটে যাওয়া সত্য, কিছু 'ঘটিতে পারিত' সত্য ধরনের বিষয়-অাশয়। পুপেদির সঙ্গে তার দাদু, কবির গল্প। 'সে' গ্রন্থের ১০ পরিচ্ছেদটা সেখান থেকে কাট করে নিয়ে, 'সুকুমার' নাম দিয়ে লীলা মজুমদার রবীন্দ্রপ্রস্থান পরবর্তী সময়ে 'কৈশোরক'এ স্থান দিয়েছেন। অামি সেখান থেকেই চিত্রনাট্য করেছি। এবং একদিন, সন্ধ্যায় দেখা গেল, উঠোনের মন্চে 'রাবণবধ' মন্চস্থ হয়ে গেল। পরদিন সকালে ছোট্ট পুপেদি শালবনের ভেতর দিয়ে দৌড়ে এসে তার দাদুকে হাঁপাতে হাঁপাতে জানাল, 'অামি হরণ হয়ে গেছি।' তখন, দাদু মনে মনে হরণ হওয়া পুপেদিকে উদ্ধারের অাশায় প্রতিবেশী সুকুমারকে 'রাজপুত্তুর' পদে উন্নীত করে দায়িত্ব দেন। 'যাও, সুকুমার, তুমি তো রাজপুত্তুর, এখন পুপেদিকে উদ্ধার করো। ও হরণ হয়েছে 'কিছুই না'র রাস্তা দিয়ে।' ছোট্ট সুকুমার দায়িত্ব পালনে 'অাচ্ছা' বলে মেনে নিয়েছে। কারণ, পুপেদি তার খেলার সাথী। সে হরণ হয়ে গেলে তো তাকে উদ্ধার করা একপ্রকার দায়িত্ব। কারণ, সে এখন 'রাজপুত্তুর।'
তবু অমল এসেছে 'রাজপুত্তুর'এর মধ্যে। উহু, রাজপুত্তুর সুকুমারই দেখতে এসেছে অমলকে। সুধা দেখতে এসেছে অমলকে। দইওয়ালা তো অমলের সঙ্গে কথাই বলল। তারপর, দেখলাম, পাল্কিতে মা, দুজন বেহারা পাল্পকি টেনে নিয়ে যাচ্ছে, মানে, 'তুমি যাচ্ছ পাল্কিতে মা চড়ে, অামি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার পরে', এরপরই সেই ডাকাত দলের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ। মা'কে বাঁচাল বীরপুরুষ। অংশত 'ডাকঘর' যেমন, 'রাজপুত্তুর'এর মধ্যে ঢুকে পড়ল 'বীরপুরষ'ও। ঢুকে পড়ল রহমত, মিনি, অর্থাৎ, অংশত 'কাবুলিওয়ালা।' চিত্রনাট্যের ডেনসিটি বাড়ল, ভাবলাম। ভাবলাম, যা দাঁড়াল, একে অার কীই বা বলি! স্টোরি বেইজমেন্টই বলি। ব্যাপারটা ছবি দেখে তারপর কেউ অামাকে কথা শোনালে বেশি অালাপ জমতে পারে...অাবার অালাপ না হলেও বা কি! তেমন কিছু না। অাবার, রাজপুত্তুর' ছবিতে 'কিছুই না' একটা ফ্যাক্টর। স্ক্রিপ্ট, শ্যুটিং-এডিটিং-ডাবিংয়েও 'কিছুই না' ফাইল মেইনটেন করা হইছে কাজের সময়। কারণ, 'কিছুই না।'
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×