ভ্রমর শ্বেত ফুলে মধুর পসরা সাজায়
যেই ফুল সদ্য বেড়ে উঠা কুমারীর মতই সতেজ,
যেন ছুঁলেই ম্রিয় হবে
ম্লান হবে পবিত্রতা।
অনুভবেও যেন অপরাধ
তবুও ক্ষীণকায় ভ্রমর ব্যাকুল,
ছুঁয়ে দিতে চায় পরাগে
বিন্দু বিন্দু মধুকোষে।
ভ্রমর যদি ভুল করে মহারাণীর রক্তজলে স্নান করে
ভুল বুঝি আমারও ছিল
কেমিস্ট্রি ক্লাসের অমনোযোগী ছাত্রীকে ভালবেসে,
যার পাতায় পাতায় ঘুমন্ত পুরীর রাজকন্যা,
ডাইনি ইসাবেলার দূর্গ
আর নিমন্ত্রণ না পাওয়া অতৃপ্ত পরী।
সেই বৃত্তে আমার দেখা মেলা ভার,
বালিকা এখনো আমায় বন্দি রেখেছে
কেমিস্ট্রি ক্লাসে,
রাসায়নিক সমীকরণে।
জীবনের ফ্রেমে আমায় আজো বাঁধে নি কুমারী,
ভাবে নি কখনো আমার কথা
যতটা ভেবেছে অসহায় রাজকন্যার কথা।
ক্লাসের পরে বালিকা চোখের পানি ফেলেছে,
গল্পের শেষাংশ পড়ে।
রাজকুমারের উপর অভিমান করেছে
বন্দিনী রাজকন্যা
বড্ড দেরী করে ফিরেছে কুমার।
কেউ যে বালিকার জন্য সহস্র মাইল পথ পাড়ি দেবে বলে ঠিক করেছে,
সেই কথা বালিকার অজ্ঞাতই রয়ে গেল।
শেষ যেদিন বালিকা আমায় নিরাশ করলে
আমার গায়ে বেলি ফুল ছুঁড়ে মেরে
তখনও নিশ্চুপ ছিলাম
স্করপিয়ুনের সেই রক্তচুনির কথা ভেবে।
যার গায়ে জল পরলে মুক্তো মনে হয়,
চাঁদের আলোয় আরো রহস্যময়।
বহুদিন পর আজ
পুরনো ভুলের ক্ষমা চাইতে এসেছি
লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে,
কেমিস্ট্রি কন্যার কাছে
ক্লাসে আর জ্বালাব না
রুপকথার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে।
এখন জীবনটাই ভয়াবহ জ্যামিতিক
রেখাবেষ্টিত মরিচীকাময়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



