somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের নির্বাচন: রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতির হিসাব নিকাশ (পর্ব -১)

২৭ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নির্বাচন এগিয়ে আসার সাথে সাথে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কূটনীতিকদের দৌড়-ঝাপ শুরু হয়ে যায়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র তথা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তারা বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েই মরিয়া হয়ে ওঠে। অতীতেও এমনটি হয়েছে, এখনো চলছে, ভবিষ্যতেও আরো গভীর থেকে গভীরতম ভাবে তাদের উদ্বিগ্নতা চলমান থাকবে। এমন উদ্বিগ্নতা কখনো তারা নিঃস্বার্থে হয় না, এখানে একটা হিসেব নিকেশ আছে। সহজ বাংলায় বলা চলে দর-কষাকষি। আর এ দরকষাকষির মোক্ষম সময় নির্বাচনকালীন বছর। বিষয়টা হলো পূর্বে এ দর-কষাকষির হিসেবটা অনেকটা একতরফা ছিলো। পশ্চিমারা বিশেষ এজেন্ট হয়ে তাদের মেসেজটি পোঁছাতো রাজনীতিক শক্তি গুলোর কাছে এখন আর তা নয়। পজেটিভভাবে হোক আর নেগেটিভভাবে হোক আশার কথা হলো আমরা এখন মোটামুটি প্রতিযোগিতার মুখে চলে এসেছি। সকল পরাশক্তির নজর আমাদের দিকে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত,যুক্তরাজ্য সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য এবং তাদের এজেন্টগুলোর সমন্মিত হিসাবের বিষয়টি মূখ্য ভূমিকা রাখে ক্ষমতার পালাবদল বলি আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বলি। ক্ষমতার পালাবদল হোক নাকি ক্ষমতা দীর্ঘস্হায়ী হোক এটাই তাদের মূক্র বিষয় না মূখ্য বিষয় হলো কে কার থলে কটোতা ভারি করতে পারলো।

আপনি যে রাজনীতি মতাদর্শেই বিশ্বাস করুন না কেন এ দৃঢ় সত্যতা আমাদের মানতেই হবে কিংবা আমরা অবহিতই। দুঃখজনক হলেও সত্য এ দরকষাকষিতে আমাদেরকে বড় চওড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। আমাদের রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগগুলো তারা নিচ্ছে। যে যেভাবে পারছে। একদিকে আমরা নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশ যেহেতু নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের গ্রাজুয়েশন পক্রিয়া সমপন্ন করেছি অন্যদিকে আমার দেশের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজারের কোটায়।(অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে বাংলাদেশের ঋণের পরিমান ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা)। মূল কথা হলো আমাদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতির দরকষাকষি করতে করতে আমরা কোন দিকে ধাবিত হচ্ছি? টকশো, মিড়িয়া, কূটনীতিকদের বাংলাদেশ বিষয়ে চরম উদ্বিগ্নতা সাথে যোগ হওয়া রোহিঙ্গা মানবাধিকার এসব নিয়ে রাজনীতির মাঠ এই ৫/৬ মাস খুবই গরম থাকবে কিন্তু বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এগুলোই একমাত্র নিয়ামক নয।এ দরকষাকষির জায়গায় গত ৪৫ বছরের হিসাব আর ২০১৮ এর হিসাবের মধ্যে একটা জটিল সমীকরণ যোগ হয়েছে তা সুষ্পষ্ট।গত ৪৫ বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দাদাগিরি মনোভাব ভারতকে অজনপ্রিয় করে তুলেছে পররাষ্ট্রনীতিতে। আর এ সুযোগটা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে চীন।ইতিমধ্যেই তার প্রধানত কৌশল একটাই- চীনের বিশাল বিনিয়োগ। বিনিয়োগের সঙ্গে প্রভাব বেড়েছে এবং এটা ভারতীয় মাথা ব্যথায় পরিণত হয়েছে। চীন গত দুই বছরে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ করে দক্ষিণ এশিয়ার আন্তদেশীয় সম্পর্কে ভারসাম্য ভীষণ প্রভাবিত করেছে।

এই তিন দেশই তাই ভারতের সঙ্গে দরকষাকষিতে সুবিধার জায়গায় আছে। আর এ নিয়ে অনেকে ভাবতেছে চীন-বাংলাদেশর রাখি বন্ধনে আওয়ামীকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-ভারতের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে কিংবা মোদি সরকারের আওয়ামী আস্হায় সংকট দেখা দিবে? । এমন প্রশ্ন যখন জনমনে তখন স্বয়ং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও ভারতের সাংবাদিকদের নিকট এমন প্রশ্নের সন্মুখীন হলে তিনি জানিয়ে দেন, ‘‘চীনের সাথে আমাদের সম্পর্ক কৌশলগত আর ভারতের সাথে রক্তের। চীনের সাথে বাংলাদেশের সহযোগিতা শুধু উন্নয়নের জন্য এবং এমন সম্পর্ক বাংলাদেশ যারাই বিনিয়োগ ও সহযোগিতায় আগ্রহী তাদের সাথে করতে চায়’’ । বাস্তবে আসলে কি হচ্ছে? বাংলাদেশের বিনিয়োগ ( ২৮ টি বড় প্রজেক্ট চলমান যার মধ্যে সর্ব শেষ এবং সর্ব বৃহৎ হলো চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল), সামরিক অস্ত্র ক্রয় সম্পূণ চীনা নির্ভর হয়ে যাচ্ছে না তো? একদিকে বাংলাদেশে-চীন নতুন প্রেমের সমীকরণে চীনা বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন ডলারে পোঁছে যাওয়া অন্যদিকে ভারতের সাথে বাণিজ্য ও শুল্ক বাধার বেড়াজল, আসামের নাগরিক নিবন্ধন ইস্যু, রোহিঙ্গা ইস্যু, তিস্তার জল নিয়ে আশা-নিরাশার দোলে কি গণেশ উল্টে যাবে? ভারত কি আস্হা রাখতে পারবে বিএনপির’র প্রতি? এমন অসংখ্য অংকের হিসাব-নিকেশ নিয়ে একান্তই আমার ব্যক্তিগত অবজারবেশন থেকে চলবে আলোচনা। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩৬

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

USB Charger এর ভেতরে লুকানো ক্যামেরার ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা দেখা, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×