somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় নির্বাচন ২০১৮: রাজনৈতিক ঐক্যতা ও বিভ্রান্তির নানা সমীকরণ!

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভোটের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ ও গুঞ্জনের মাত্রা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবকিছুকে ছাড়িয়ে এক কথায় বলতে গেলে এখন সবচেয়ে আলোচ্য ইস্যু হলো নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য প্রক্রিয়া। ক্ষমতাসীন মহাজোট ও বিশ দলীয় জোটের বাহিরে সবার নজর কেড়ে এবং মিড়িয়াতে বেশ কাটতি রয়েছে যুক্তফ্রন্ট বা নির্বাচনী ঐক্যজোট প্রক্রিয়াকে নিয়ে। ভারসাম্যমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার স্লোগান তুলে মূলত গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে জেএসডিএর আসম বর, কৃষক শ্রমিক-জনতার কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্য’র মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপি’র কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ রা ভালোই আলোচনায় আছেন অন্যদিকে সিপিবি’র উদ্যোগে গঠিত ৮ টি বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটও রয়েছে আলোচনায়। কেউ কেউ বলছেন পালা বদলের স্বাদ নিতে পরীক্ষিত ব্যর্থদের সমন্বয়ে গঠিত বুড়োদের এই ঐক্য প্রক্রিয়া নির্বাচন কেন্দ্রিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্যই তৈরী হয়েছে, আবার কেউ বলছেন ফেস ভ্যালু সমপন্ন এই রাজনৈতিক ফিগারদের দ্বারা পরিবর্তন সম্ভব এই সংকটকালীন সময়ে। আবার কেউ কেউ বলছেন যাদের মাথায় ঘিলু সংকট রয়েছে তারাই এসব রাজনৈতিক জুয়িাড়িদের পাল্লায় নাচতেছেন কারণ যে কোন ধরনের ভোট-ই হোক না কেন ধান/নৌকার বিকল্প এই মাটিতে নাই|

তবে যে যাই বলুক না কেন এরা এখন একটা ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছেন অনন্ত আলোচনার দিক দিয়ে। তাইতো বিএনপি এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বার বার বলতেছে আর সরকার নানাভাবে তাদের আপোষে আনার চেষ্টা করতেছে।বিশেষ করে সিপিবি’র উদ্যোগে গঠিত ৮ টি বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটকে টানতে তারা মরিয়া হয়ে ওঠেছে ।কারণ তারা মনে করেতেছে ড.কামাল আর ডা. বি চৌধুরীর ভারসাম্যমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার স্লোগান নিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়া মূলত সরকার বিরোধী কথাবার্তা বলার কারণেই জনপ্রিয়তা লাভ করতেছে বিএনপি’র রাজনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে।

তবে রাজনৈতিক ঐক্য প্রক্রিয়ার এ প্লার্টফর্মের সাথে বিএনপির বোঝাপড়াটা এখনো দোদুল্যমান অবস্থায় কারণ বিএনপির’র সমন্বয়ে গঠিত ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মাঝে এই নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অন্যদিকে জামায়াত ইস্যুতে যুক্তফ্রন্ট বা নির্বাচনী ঐক্যজোট প্রক্রিয়ার দলগুলোর রয়েছে যথেষ্ট এলার্জি। আবার পুরাতন শরীকদের প্রতি উদাসীনতা দেখিয়ে নতুনদের কাছে টানার জন্য বিএনপি বেশী আগ্রহ দেখাচ্ছে আসছে অভিযোগ। একদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অবস্হান করায় দলটির প্রধান ইস্যু বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করা তারপর নির্বাচনে যাওয়া। বর্তমান শরীকরাও বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে বিএনপির পাশে থেকে বিএনপির এই অবস্হানের প্রতি সহমত পোষণ করলেও ড.কামাল আর ডা. বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট বা নির্বাচনী ঐক্যজোট প্রক্রিয়ার এই বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া নাই বরং তারা এটাকে সুযোগ হিসাবেই নিতে চাচ্ছে বলে অনুমেয়!এমন অবস্হায় আসলে পরিস্হিতি আসলে কোন দিকে গড়াবে তাই সবার মনে প্রশ্ন। কারণ অন্য আরেকটা বড় ইস্যু এখানে কাজ করছে তা হলো ড.কামাল আর ডা. বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট বা নির্বাচনী ঐক্যজোট প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডা. জাফরুল্লাহর নিকট জানিয়ে দিয়েছে তাদের ১৫০ আসন দিতে হবে সমঝোতায় আনতে হলে!সর্বশেষ মেসেজ হলো অন্তত ১২০ টি আসন তাদের ছেড়ে দিতে হবে। তাহলে হয়তো সরাসরি জোট না হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা সম্ভব। কারণ আর যাই হোক তারা জামায়েত সাথে থাকলে জোটে বিড়াবে না। অন্যদিতে ২০ দলীয় জোটে থাকা শরীকরাও আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো আসনের ভাগ-ভাটোয়ারা না করায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে!। তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়াচ্ছে, বিএনপি’র সাথে নয় বরং বিএনপি’ই জোট প্রক্রিয়ায় অংশ হতে যাচ্ছে! কারণ ২০ টা শরীক দলকে ৪০ টা আসল ছাড়লেও বিএনপির ছাড়তে হবে ১৬০ টি আসন। আর মাঠের রাজনীতিক শক্তি সহায়তার জন্য আপাতত জামায়াতকে যে বিএনপি ছাড়তেছে না তা পরিষ্কার।

এমন অবস্হায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মালেশিয়া স্টাইলে ‘আর্ট অব কম্প্রোমাইজ’ এর ভিত্তিতে সরকার গঠনের আভাস পাচ্ছেন যার নাকি আপাতত প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ড. কামাল! কারণ আমরা মালেশিয়ার নির্বাচনে দেখেছি,
মালেশিয়ার ৬০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বারিসান ন্যাশনাল(Barisan Nasional -BN) কে হারানোর জন্য সমকামিতার অভিযোগে দন্ডিত কারাগারে থাকা আনোয়ার ইব্রাহিমের সমর্থনে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পাকাতুন হারাপান (Pakatan Harapan -PH) নামক জোট গঠন করে নির্বাচন করা এবং নির্বাচনে ২২২টি আসনের মধ্যে তারা ১২১টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করা যেখানে ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনাল ৭৯টি আসন লাভ করেছে মাত্র।তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ালো, মাহাথির নিজ জোট বারিসান ন্যাশনাল ত্যাগ করে ( যে জোটের হয়ে তিনি ১৯৮১-২০০৩ প্রায় ২২ ধরে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন) এক সময়ে তারই "বিরোধী দলে " যোগ দিয়ে , সেই বিরোধী দল থেকে নির্বাচন করেছেন এবং এক সময়ে তারই বিরোধী দলকে এখন ক্ষমতায় নিয়ে আসলেন! এখানে উল্লেখ্য যে মাহাথিরের নিজের দল কিন্তু পেয়েছে মাত্র ১২ টি আসন বাকি মেজরিটি আসন পেয়েছে অন্য শরীকরা কিন্তু সামনের কাতারে তাকে রেখেই নির্বাচন করা হয়েছে।তাই বলা হচ্ছে ৯২ বছর বয়সী বুড়ো ভেলকি দেখালে ৮১ বৎসর বয়সী ড. কামাল কেন পারবেন না! আবার কেউ কেউ সেনা বাহিনীর ব্যাক-আপে এই বুড়োদের নিয়ে পাকিস্তানের ইমরান খানীয় মডেলের বিষয়টিকেও কথা বলতেছেন!

কিন্তু সবকিছুর পরও কথা থেকে যায়। রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই।তবে বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সংকট হলো, সরকার বিরোধী যে ম্যানডেট টা এখন তার ঘরে রয়েছে সেটাকে ভাগাভাগির হিসাবে এতো বৃহৎ আকারে বিলিয়ে দিতে পারবে নাম সর্বস্ব জোটের তরে? না পারলে এর বিকল্পও কি আছে? অন্যদিকে সরকারের জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিকল্প কি আর অবশিষ্ট হাতে রয়েছে কিনা তাও দেখার বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো তারুণ্য কি পারিবে ভিশন বিহীন এই বুড়োদের প্রতি আস্হা রাখতে কিংবা নেতৃত্বে তারুণ্যের সংকট যে প্রকট তা কি সম্পষ্ট করে দিচ্ছে এই সংকট! সব কিছুকে ছাড়িয়ে এসব জুয়া খেলা নয় যোগ্য, তারুণ্যদীপ্ত নেতৃত্বের দ্বারাই প্রকৃত পক্ষেই ভারসাম্যমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা দরকার।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৪২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য সাইলেন্ট ইকো

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফিকশনাল ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্রতিষ্ঠান, স্থান, সাল ও অপরাধের মোটিভ লেখকের কল্পনানির্ভর। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা অমীমাংসিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×