

▶ অনেক সময় দেখা যায়, অসাধুভাবে দলিল সৃষ্টি করা হয়। সম্পত্তি অবৈধ রেজিস্ট্রার দলিল প্রদর্শন করে দখলস্বত্ব ভোগ করে। আদৌ দলিলটি শুদ্ধ কিনা আমরা তদারকি করি না। দেওয়ানী কার্যবিধিতে দলিল বাতিলের মামলা করার বিধান রয়েছে। যখন কোন ব্যক্তি এরূপ আশঙ্কা করে যে, তার বিরুদ্ধে লিখিত কোন দলিল বা বাতিলযোগ্য এবং যদি এরূপ দলিল বাতিল না করে চালু রাখা হয়।
তাহলে তা ভবিষ্যতে তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে। এই ক্ষেত্রে দলিল বাতিল ঘোষণার জন্য মামলা করতে পারে।
▶সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯-৪১ নং ধারা পর্যন্ত আদালত কর্তৃক দলিলাদি বাতিলিকরণ সম্পর্কে বিধান বর্ণিত হয়েছে।
▶সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ নং ধারায় বলা হয়েছে যে,
》কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে সেটি তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারেন এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং এবং 'চুক্তি বিলুপ্ত' হিসেবে ত্যাগ করবার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
》দলিলটি যদি রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসারে রেজিস্ট্রিকৃত হয়ে থাকে, তাহলে আদালত ডিক্রির একটি কপি সেই সংশ্লিষ্ট অফিসারের কাছে প্রেরণ করবেন, যার অফিসে উক্ত দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং সেই অফিসার সেই বইয়ে দলিলের নকলে সেটির বিলুপ্তির বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন।
》তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ৯১ ধারা অনুসারে যে দলিল বাতিলের জন্য প্রার্থনা করা হয়, সে দলিল সম্পর্কে জানবার বা অবগত হবার তিন বছরের মধ্যে মামলা দাখিল করতে হবে, নয়তো এধরনের মামলা তামাদি হয়ে যাবে এবং এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না।
》অবশ্য এধরনের মামলা তামাদি হয়ে গেলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ নং ধারা অনুসারে 'ডিক্লেরেশন মামলা' দায়ের করে ভিন্নভাবে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



