somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তালাক প্রদানের সঠিক পদ্ধতি

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে বিদ্যমান মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রী যে কেউই ডিভোর্স দিতে পারে। যেকোন পদ্ধতিতেই ডিভোর্স দিলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ৩ টি ধাপে তারা তাদের বিবাহের নিষ্পত্তি করতে হবে-

১। লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে

২। সালিশি পরিষদে অংশগ্রহন করতে হবে

৩। ৯০ দিন অতিক্রম হওয়ার পর রেজিস্ট্রারের নিকট হতে ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিতে হবে

মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী তালাক দিতে গেলে প্রথমে লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে। এই নোটিশ আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক এবং না পাঠালে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী নোটিশ না পাঠালে তালাক দাতার ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ১ বছরের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

নোটিশ আইনজীবী/ নিকাহ রেজিস্টার/কাজী মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। এলাকার চেয়ারম্যান অথবা কাউন্সিলর নোটিশ পাবার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবে। আইন অনুযায়ী দুই পক্ষের এই সালিশি পরিষদে একসাথে বসতে হবে। এই পরিষদে বসে তারা বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় তারা কেন একসাথে থাকবে না এবং আসলেই কি তাদের একসাথে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারম্যান/ কাউন্সিলর যদি দেখে যে আসলেই তাদের আর একসাথে থাকা সম্ভব না সেক্ষেত্রে উনি সিদ্ধান্ত দিবেন যে ৯০ দিন পর তাদের ডিভোর্স কার্যকর হবে। যদি তাদের দুই জনের একজনও সালিশি পরিষদে না আসে তবে ধরে নেয়া হয় যে দুই জনই ডিভোর্সের পক্ষে। তখন নোটিশ পাঠানোর ৯০ দিন পর তাদের ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যায়।

এই ৯০ দিন অপেক্ষাকে ইদ্দতকাল বলে।স্ত্রী যদি গর্ভাবস্থায় থাকে তবে যেটির সময় বেশি তার পরে তালাক কার্যকর হবে, অর্থাৎ যদি সন্তান ১০০ দিন পরে হয় তবে ১০০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে কিন্তু যদি সন্তান ৮০ দিন পরে হয় তবে ৯০ দিন (নির্ধারিত সময়) পরেই তালাক কার্যকর হবে। ডিভোর্স ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে তালাকদাতা ডিভোর্স প্রত্যাহার করতে পারে। ৯০ দিন পর যদি তাদের মনে হয় ডিভোর্স নেয়াটা ঠিক হয়নি, একসাথে থাকতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের পুনরায় বিয়ে করতে হবে। ( এটি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক কিনা তা জানতে ইসলামিক স্কলারদের মতামত নিন)

ডিভোর্স-এর আগে স্বামীকে অবশ্যই পুরো দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে যদি সে বিবাহের সময় পুরো দেনমোহর পরিষদ করে না থাকে, এটা স্ত্রীর অধিকার। ডিভোর্স কার্যকর হওয়ার পর তাদের রেজিস্ট্রারের নিকট ডিভোর্স সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হবে এবং সেটি সংগ্রহ করতে হবে।

এইদিকে স্ত্রী কয়েকটি নির্ধারিত কারণে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারে যা ডিভোর্স আইন, ১৮৬৯ এর ধারা ২ অনুচ্ছেদ দুই এ উল্লেখ রয়েছে। যথা ঃঃ
- স্বামী যদি চার বছর নিরুদ্দেশ থাকেন।
- স্বামী যদি দুই বছর ভরণপোষণ না দেন।
-স্বামী যদি আইনের লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় বিবাহ করেন।
- স্বামী যদি সাত বছর বা এর বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন
- স্বামী যদি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর বৈবাহিক দায়িত্ব পালন না করেন।
- স্বামী যদি পুরুষত্বহীন থাকেন।
- স্বামী যদি দুই বছর অপ্রকৃতিস্থ বা মারাত্মক ব্যাধিতে ভোগেন।
- নাবালিকা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে থাকলে সাবালিকা হওয়ার পর স্ত্রী যদি তা অস্বীকার করেন।
- স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ বা নির্যাতন করলে।

এছাড়া যদি স্বামী তার স্ত্রীকে বিয়ের কাবিনামায় অধিকার দিয়ে থাকে যে স্ত্রী তাকে তালাক দিতে পারবে তবেই আসলে স্ত্রী তার স্বামীকে নির্ধারিত কারণ ব্যাতিত ডিভোর্স দিতে পারবে।
-
এম টি উল্যাহ
এডভোকেট
০১৭৩৩ ৫৯৪ ২৭০
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×