
জমি বা ফ্ল্যাট নিয়ে বায়না করেছেন কিন্তু বিক্রেতা এখন জমি রেজিষ্ট্রি করে না দিয়ে নানারককম তালবাহানা করছেন। এক্ষেত্রে আপনার করণীয় কি তা নিয়ে আইনের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। আপনি চাইলে বিক্রেতাকে
বায়না দলিল অনুযায়ী জমি রেজিষ্ট্রি করিয়ে দিতে বাধ্য করতে পারবেন কিংবা ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন। এ মামলাকে চুক্তি প্রবলের মামলা বা এনফোর্সমেন্ট অব কনট্যাক্ট মামলা বলা হয়ে থাকে।
বায়নানামা করার পর অর্থাৎ চুক্তি সম্পাদনের পর কোন পক্ষ যদি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে বা চুক্তি অস্বীকার করে তাহলে ভুক্তভোগী পক্ষ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ১২ ধারা মতে আদালতে চুক্তি প্রবলের মামলা করতে পারেন।
তবে এক্ষেত্রে জেনে রাখা ভালো,
মামলা করতে হলে চুক্তি সম্পাদনের তারিখ হতে বা চুক্তি অস্বীকারের তারিখ হতে এক বছরের মধ্যে করতে হবে।
এবং
এ আইনের ২১ এ ধারার বিধান অনুসারে আদালতের মাধ্যমে চুক্তি বলবৎ করতে হলে দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে;
১। চুক্তি বা বায়না নামাটি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে;
২। বায়নার অবশিষ্ট টাকা আদালতে জমা দিতে হবে।
২০০৫ সালের আগে বায়না দলিল রেজিস্ট্রি না করলেও চলতো। এখন রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। যদি বায়না দলিলটি রেজিষ্ট্রেশন করা না হয় থাকে সেক্ষেত্রে ফৌজদারি আদালতে দন্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলা করা যাবে।
চুক্তি রদের জন্য কি বিক্রেতা মামলা করতে পারবেন?
হ্যাঁ। জমি মালিক ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারায় মামলা করতে পারেন। বায়নাগ্রহীতা জমি বিক্রি টাকা পরিশোধ করে জমি লিখে নিতে গড়িমসি করলে বিষয়টি জানার বা বুঝতে পারার তারিখ হতে ৩ বছরের মধ্যে চুক্তি রদের মামলা করতে হয়।
- মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ
আইনজীবী
০১৭৩৩৫৯৪২৭০
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




