somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন মুসআব ইবন উমাইর (রাঃ) ও বর্তমানের আমরা

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাফেরদের মধ্য হতে ইবন কামিয়া এগিয়ে এসে তরবারির আঘাতে তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন করে ফেললো, যে হাতে তিনি ইসলামের পতাকা ধরে রেখেছিলেন। ওই অবস্থাতেই তিনি বলে উঠলেনঃ "ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসুল, কাদ খালাত মিন কাবলিহির রাসুল।" অর্থাৎঃ "মুহাম্মাদ (সাঃ) একজন রাসুল ছাড়া আর কিছুই নন। তার পূর্বে আরও বহু রাসুল অতিবাহিত হয়েছেন।" এরপর বাম হাতে পতাকাটি আবার তুলে ধরলেন, বলে উঠলেনঃ "ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসুল"। তরবারির অন্য একটি আঘাতে বাম হাতটি ও বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হলো। পড়ে থাকা পতাকাটি সবশেষে দুই বাহু দ্বারা আঁকড়ে তুলে ধরলেন। এবার তার প্রতি বর্শা নিক্ষেপ করা হলে তিনি পতাকা সহ মাটিতে পড়ে যান এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শাহাদাতের পূর্বে যে বাক্যটি তিনি বার বার উচ্চারণ করছিলেন তখনও কিন্তু তা কোরআনের আয়াত হিসেবে নাযিল হয়নি। উহুদের এই ঘটনার পরই "ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসুল ..." এই আয়াতটি নিয়ে হযরত জিবরাঈল (আঃ) উপস্থিত হন।
.
যুদ্ধ শেষে তার লাশটি খুঁজে পাওয়া গেলো। রক্ত ও ধুলোবালিতে একাকার তার চেহারা। লাশের কাছে দাঁড়িয়ে রাসুল (সাঃ) অঝোরে কেঁদে ফেললেন। তাঁকে কাফন দেয়ার জন্য একপ্রস্থ চাঁদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া গেলো না। তা দিয়ে তার মাথা ঢাকলে পা এবং পা ঢাকলে মাথা বেরিয়ে যাচ্ছিলো। শেষমেষ রাসুল (সাঃ) বললেনঃ চাঁদর দিয়ে মাথার দিকে ঢেকে দাও, বাকী পায়ের দিকে "ইযখির" ঘাস দাও। তার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে রাসুল (সাঃ) পাঠ করলেনঃ "মিনাল মু'মিনিনা রিজানুল সাদাকু আহাদুল্লাহ আলাইহি ... " অর্থাৎঃ "মুমিনদের এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে"। অতঃপর তার কাফনের চাদরটির দিকে তাকিয়ে বললেনঃ "আমি তোমাকে মক্কায় দেখেছি। সেখানে তোমার চেয়ে কোমল চাঁদর এবং সুন্দর জুলফি আর কারো ছিল না। আর আজ তুমি এই চাদরে ধুলো মলিন অবস্থায় পড়ে আছো"।
.
কথা বলছিলাম প্রখ্যাত সাহাবী "মুসআব ইবন উমাইর (রাঃ)" সম্পর্কে। পিতা মাতার পরম আদরে ঐশ্বর্যের মধ্যে লালিত মক্কার অন্যতম সুদর্শন যুবক ছিলেন তিনি। বাবা মা অত্যন্ত ভোগ বিলাসের মাঝে তাকে প্রতিপালন করেন। তখনকার যুগে মক্কায় যত রকম চমৎকার পোশাক ও উৎকৃষ্ট খুশবু পাওয়া যেত সবই তিনি ব্যাবহার করতেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সামনে কোনোভাবে তার প্রসঙ্গ উঠলেই তিনি বলতেনঃ "মক্কায় মুসআবের চেয়ে সুদর্শন আর উৎকৃষ্ট পোশাকধারী আর কেউ ছিল না।" ইসলামের উদ্ভাসিত আলোকে আলোকিত হৃদয় নিয়ে তিনি সুখের সেই মহল ত্যাগ করেছিলেন।
.
একদিন মুসলমানদের একটি দল রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পাশে বসে ছিল। এমন সময় পাশ দিয়ে তারা মুসআব (রাঃ) কে যেতে দেখলেন। তাকে দেখেই বৈঠকের সকলের দৃষ্টি নত হয়ে গেলো। কারো কারো চোখে পানি এসে গেলো। কারন, মুসাআবের গায়ে তখন শত তালি দেয়া জীর্ণ শীর্ণ একটি চামড়ার টুকরো। তাতে মারাত্মক দারিদ্রের ছাপ সুস্পষ্ট। তাদের সকলের মনে তখন তার ইসলাম পূর্ব জীবনের ছবি ভেসে উঠল। তখনকার পরিচ্ছদ হতো বাগিচার ফুলের মতো কোমল, চিত্তাকর্ষক ও সুগন্ধিময়। এই দৃশ্য দেখে রাসুল (সাঃ) বলেছিলেন, "মক্কায় আমি এই মুসআব কে দেখেছি। তার চেয়ে পিতামাতার আদরের আর কোনো যুবক মক্কায় ছিল না। আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের মুহাব্বতে সে সবকিছু ত্যাগ করেছে"।
.
মুসআব ইবন উমাইর (রাঃ) ভালোবেসেছিলেন আল্লাহ্‌কে, আল্লাহ্‌র মনোনীত দ্বীন কে, তার রাসুলকে। যে ভালোবাসার অঙ্গীকার তিনি পূরণ করেছিলেন নিজের প্রানের বিনিময়ে। আজ আমরা যারা বাই ডিফল্ট মুসলমান হিসেবে জন্ম নিয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছি, তার সবই তো আল্লাহ্‌র রহমত ও মুসআব ইবন উমাইর (রাঃ) র মতো শত সহস্র সাহাবীদের বুনে যাওয়া বীজ, যা আজ সুবিশাল মহীরুহে পরিনত হয়েছে। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে রাসুল (সাঃ) এর সাহাবীদের অবদানের কথা আমরা কয়জনই জানি বা জানতে চাই ?
.
হায় আফসোস, এখনও প্রিয় সন্তানের হাতে আমরা তুলে দেই হ্যারি পটার কিংবা মারভেল কমিক্স এর ফ্যান্টাসির বই। হুমায়ুন আহমেদ কিংবা জাফর ইকবালের বই পড়ে কল্পনার জগতে আমাদের এখনও অবাধ বিচরণ। অথচ একটু পরেই মৃত্যুদূত উকি দিলে কি অবস্থা হবে তা আমরা কয়জন জানি? আমরা কি পারি না নিজেদের এবং প্রিয় সন্তানদের উপর একটু রহম করতে? আমরা কি পারি না অখণ্ড অবসরে রাসুলের সাহাবীদের জীবনী নিয়ে একটু পড়াশুনা করতে? ফ্যান্টাসির জগত ছেড়ে রিয়েল লাইফের রিয়েল চরিত্রগুলোর সাথেই যদি পরিচিতই না হই তবে ইসলামের জন্য সাহাবীদের অবদান কে অনুভব করবো কিভাবে? কিভাবে আমার আপনার প্রিয় সন্তানেরা বুঝবে, স্পাইডারম্যান, সুপারম্যান কিংবা আয়রনম্যানরা নয়, প্রকৃত হিরো ছিলেন আমাদের রাসুল (সাঃ) ও তার সঙ্গী সাহাবীরা ??
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৩১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×