somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময় এসেছে পাকিকে চিরতরে উষ্টা মারার...

১৭ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাকিস্তানকে সাপোর্টের প্রশ্নে বেশিরভাগ বাঙালীরই যে যুক্তি দেয় তা হলো, "মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই।" আমি আমার পাকিস্তানের সমর্থক প্রত্যেক পরিচিতজনকে দেখেছি তারা পাকি দলের সাপোর্ট দেয় শুধুমাত্র ধর্মীয় নিক্তিতে মেপে। বলা বাহুল্য, এর পেছনে জামাত-শিবির চক্রের প্রত্যক্ষ ভূমিকা দেখা যায়।


আসলে কোনো একটা দেশকে খেলায় সাপোর্ট করলে সেটা শুধু খেলার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেটা ব্যক্তির মননে এমনভাবে ঢুকে যায় যে নিজের জাতীয়তাবোধকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পিছপা হয় না। ফলশ্রুতিতেই আমরা বাংলার গ্যালারীতে "ম্যারি মি আফ্রিদি" লেখা প্ল্যাকার্ড কিংবা পাকিস্তানের পতাকা দুলতে দেখা যায়। মাত্র ৪২ বছর আগে যে দেশের হায়েনারা আমাদের স্বজনদের খুনে নিজেদের হাত রাঙিয়েছে সেই তাদের পতাকা এমনভাবে ধরা হয় যেনো সেটা নিজেরই পতাকা!

কিন্তু আমরা কি একবারো ভেবে দেখেছি যাদের নিকট থেকে পৃথক হওয়ার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষেরা শরীরের রক্ত দিতেও কার্পণ্য করেননি সেই তাদের সাথেই জাতির একটা অংশ একাত্নতা প্রকাশ করে কীভাবে??
প্রশ্নটি কিন্তু নতুন নয়। আর এহেন গর্হিত কাজকে "জায়েয করা" জবাবটা জামাত-শিবির কর্তৃক সুকৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। জবাব- খেলার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই দিয়ে শুরু হয় এবং শেষ হয় সেই কবে না কবে কি নিয়া "গণ্ডগোল" হয়েছিলো সেসবের জন্য একটা দলকে সাপোর্ট করা যাবে না?? জবাবটাকে আরো শক্ত করতে সাথে ঢোকানো হয় সাম্প্রদায়িকতার বিষ। মাঝখানে ঢোকানো হয় "মালাউন ইন্ডিয়া" এর বিরোধিতা করার আবশ্যিকতাকে। আর ইন্ডিয়ার বিরোধিতা করতে হলে পাকিস্তানকে সমর্থন দিতে হবে- এটা তো ঐতিহাসিকভাবে সিদ্ধ। এক্ষেত্রে বলা হয় "মালাউনের সাপোর্ট করলে মালাউন হয়ে যাওয়ার" মতো মারাত্নক ফতোয়া।

আর এভাবেই স্বাধীনতাবিরোধীরা একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস পেয়েছে। বিভ্রান্তি ছড়াতে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে একাত্তরে যারা "মৌন রাজাকার" ছিলো।

মননে পাকিস্তানকে ধারণ করা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে পাকিপ্রীতি না রিমুভ করে "পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ" করে কোনো লাভ হবে না। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে ঐসব বিভ্রান্ত জনগোষ্ঠীকে লাইনে আনতে পারবো??

প্রথমত , নিজের জাতীয়তাবোধকে ধারণ করানো হবে প্রথম ধাপ। কারণ, একই ব্যক্তিত্বে দুটি জাতীয়তা ধারণ সচরাচর সম্ভব হয় না। আমরা যে মন ও মননে বাঙালী সে বোধ সবার মধ্যে জাগাতে হবে। বাঙালীর ঐতিহ্যগত যেসব উৎসব আছে সেগুলোর ব্যাপক প্রচলন শুরু করতে হবে।

দ্বিতীয়ত , একেবারে রুট লেভেলে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ছড়িয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আগামী শিক্ষাবর্ষেই "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" নামে শ্রেণিভিত্তিক একটি পরিপূর্ণ পুস্তক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক লেভেলে নতুন করে সংযোজন করতে হবে। শুধু বাংলা বইয়ের মাধ্যমে জায়গার অপ্রতুলতার কারণে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও ব্যাপকতা একজন ছাত্র পুরো শিক্ষাজীবনেও পায় না। আংশিক ইতিহাস নিয়ে পরবর্তীতে সে বিভ্রান্ত হয়।

তৃতীয়ত , পাকিস্তানে সংঘটিত নাশকতার ব্যাপকতা আমাদের সমস্ত মিডিয়ার আরো ব্যাপক হারে আসতে হবে।

চতুর্থত , বিম্পিকে স্বাধীনতার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান জনতার নিকট ক্লিয়ার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে হবে। বিম্পির অবস্থান যদি তথৈবচ হয় তাহলে বাংলাদেশে বিম্পির রাজনৈতিক অধিকার বলবৎ থাকবে কীনা সে ব্যাপারে গণভোটের আয়োজন করা যেতে পারে।

পঞ্চমত , সুশীল সমাজকে জাতীয়তার প্রশ্নে আপোষ করলে চলবে না। পছন্দের রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে যেনো জাতীয়তাবিরোধী কোনো কথা বলা চলবে না। সুশীল সমাজের কেহ এসবের ব্যত্যয় ঘটালে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করতে হবে।

ষষ্ঠত , মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান স্মরণপূর্বক পাকিস্তানের সাথে ভারতের তুলনা যে হতে পারে না সেটা পাঠ্যপুস্তকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে।

সপ্তমত , ধর্মকে রাষ্ট্রযন্ত্র হতে পৃথক করতে হবে। ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে।

আর কোনো প্রস্তাব আছে???

৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×