somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৌদি গমনের স্বপ্ন ভংগ :(( ;)

০৬ ই মে, ২০১০ সকাল ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব টেনশনে ছিলাম সারাদিন। শুধু আজকের দিন বললে ভুল হবে, বলা ভালো গত দুই মাসই টেনশনে ছিলাম:|। রেজাল্ট যেমনই হোক সমস্যা নেই, কিন্তু না পাওয়া পর্যন্ত স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। গত কয়েকদিন প্রায় প্রতি রাতেই সপ্ন দেখেছি, আসলে সপ্ন না বলে দুঃসপ্ন বলাই মনে হয় উচিত। হয়ত পরীক্ষকের ভুলে আমার রেজাল্টই আসেনি অথবা আমি ফেল করেছি অথবা সেটা, যেটা পরে বাস্তবে রুপ নিয়েছিল/:)। যদিও পরীক্ষা হয়েছিল আমার প্রত্যাশা মতই। পরীক্ষার পর অনেক হিসাব নিকাশ করে দেখলাম, যদিবা পরীক্ষক মহোদয়গন তাঁদের স্ত্রী মহোদয়াদের সাথে ঝগড়া করেও খাতা দেখতে বসেন;), তারপরও আমার শিক্ষক, বাবা-মা’র প্রত্যাশার চাইতে অন্তত পঞ্চাশ নম্বর বেশি পাব। অর্থাৎ বেশ আত্নবিশাসীই ছিলাম আমি। যাই হোক, সকাল থেকে সময় যেন আর কাটছিল না। বিকেলের দিকে আমি নিজেই গেলাম স্কুলে রেজাল্ট জানতে। আমাদের স্কুলটা বাজারের সাথে লাগোয়া। স্কুলে যেতে হলে বাজার পার হতে হয়। বাজারে ঢুকার মুখেই শুনলাম, মানুষ বলাবলি করছে, এবার এই স্কুলে একটাও ষ্টার পায়নি:|। মনে হলো গত কয়েক রাতের মত দুঃসপ্ন দেখছি। না শুনার ভান করলাম। গেলাম স্কুলের দিকে। নাহ, ঠিকই শুনেছি। উল্লেখ্য, আমাদের ব্যাচ-ই ফার্স্ট ডিভিশন, ষ্টার, ষ্ট্যান্ড ব্যবস্থার শেষ ব্যাচ। আর আমাদের স্কুলে প্রতিবছর ষ্টার না পেলেও দুই এক বছর পরপরই পেত। যদিও আমার উপর প্রত্যাশাটা একটু বেশিই ছিল। টেস্ট পরীক্ষায় আমার আর সেকেন্ড জনের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র একশ চার নম্বরের (এতে আমার কৃতিত্বের চাইতে বাকীদের ব্যর্থতার অবদান ছিল বেশি);)। দেখলাম স্যারদের মন খারাপ। আমারও যে খারাপ লাগেনি তা না, কিন্তু রেজাল্ট খারাপ হলে কান্নাকাটি করে বালিশ ভিজিয়ে ফেলা, কিংবা নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দেওয়া এগুলা আমার দ্বারা হতো না। কিন্তু বাড়ীতে গেলেই তো শুনতে হবে বকা। কি করা যায়। সাইকেল না চালিয়ে হাঁটছিলাম ভাবতে ভাবতে, পেয়েও গেলাম একটা বুদ্ধি:D। বাড়ীতে গেলাম মুখটা কাঁদো কাঁদো করে/:)। গিয়েই রুমে ঢুকে দরজায় খিল। সবাই ভাবছে, আহারে...ছেলে রেজাল্টের দুঃখে নির্বাসন নিল। আর আমি ওদিকে নাক ডেকে ঘুম:D। খেলাম না ঐরাতে(খিধায় অবস্থা খারাপ হইয়া গেছিল)/:)। যাক, রেজাল্ট খারাপ হলো, এখন আমাকে দিয়ে আর কি হবে। ভালো কলেজে চান্স পাব না। গ্রামের কলেজে ভর্তি হয়ে লাভ নেই। তখন আমাদের গ্রামের দিকে একটা খুব প্রচলিত ব্যাপার ছিল। বেশির ভাগই ফেল করত এসএসসি তে(আমাদের সময় ৯২জনের মধ্যে ১৬ জন পাস করছিল)। তারপর জমি বিক্রি করে বিদেশ, মানে সৌদি আরব। দুই বছর পরই দেখতাম, ইয়া একটা ভুড়ি বানিয়ে, গলায় স্বর্নের চেইন ঝুলিয়ে, হাতে সোনার ঘড়ি আর সিগেরেটের প্যাকেট নিয়ে চায়ের দোকানে পা তুলে বসে গল্প করছে নিজের বিরত্বের:P। আরো একটা বৈশিষ্ট্য ছিল, বিশেষ বর্ণের লুঙ্গি আর অবশ্যই নাকের নিচে কুচকুচে কালো গোঁফ। রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় যেহেতু ভালো কলেজ়ে ভর্তি হতে পারবনা, তখন থেকেই আমি মনে মনে স্বপ্ন দেখছিলাম সৌদি আরবে যাওয়ার। ভাবতাম, গোঁফ রাখলে আমাকে কেমন দেখাবে, কিংবা মস্ত ভুড়িতেই বা কেমন লাগবে:P। আমার ভাইয়া তখন কলেজে পড়ে। সে একখান ভর্তি গাইড কিনে দিয়ে গেল ঢাকা থেকে, ইয়া মোটা। কিন্তু আমি বইয়ের পাতা খুললেই পাতার মধ্যে যেন দেখতে পেতাম সৌদি আরবের দৃশ্যB-)। পরে আমাকে জানানো হলো, ঢাকায় একটা কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিব, সেটাতে চান্স পেলেই কেবল তোমার পড়ালেখা চলবে, না পেলে সৌদি আরব। আমি যেন আমার সপ্নকে আরও কাছাকাছি দেখতে পেলাম:P। প্রিপারেশন নিইনি, চান্স পাব কোত্থেকে? যথাসময়ে গেলাম ভর্তি পরীক্ষা দিতে। দিলাম। বুঝলাম না কেমন হইছে। কিন্ত আবারও দুঃস্বপ্ন/:)। চান্স পেয়ে গেলাম দূর্ভাগ্যজনক ভাবে!!(পরে অবশ্য বুদ্ধি কইরা ষ্টার পাইয়া গেছিলাম এইচএসসি-তে);)। কিন্তু আমার সৌদি আরবে যাওয়ার স্বপ্ন? আমার সোনার চেইন, আমার ভুড়ি, আমার কুচকুচে কালো গোঁফ? সেই স্বপ্ন পূরণ হলে কবেই বিয়ে শাদী করে মাশাল্লাহ সংসার পেতে ফেলতাম, এতদিনে হয়ত গন্ডা খানেক গলায় ঝুলত। কিন্তু হায়…… এখনো মাঝে মাঝে দীর্ঘশাস ফেলে ভাবি, আমার সৌদি আরবে যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল…./:):((;)
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×