somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণ পরিবহনে নৈরাজ্য।

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারী আর পুরুষ মিলে সমাজ। কর্মক্ষেত্রে রয়েছে উভয়ের মিশ্রণ। নারীরা সংসার, পরিবার, অফিস-আদালত, বাজার, স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসাসহ সব জায়গায় অবস্থান করেন। তারা বাস বা গণপরিবহণে যাতায়াত করেন। বর্তমান সময়ে নারীরা গণপরিবহণে চলাচল করাটা মোটেও নিরাপদযোগ্য নয় ও সুখের নয়। শুধু বিড়ম্বনাই মাত্র। এখানে নিত্যদিনে নিত্যনতুন ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সংগঠনের পরিসংখ্যানে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু নারীরা নিরুপায় হয়ে ব্যবহার করছে গণপরিবহণ। তারা গণপরিবহণে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটাই ভাবার বিষয়। আমাদের দেশে বাস বা গণপরিবহণের হেলপার, সুপার ভাইজার, চালক এবং পুরুষ যাত্রীরা গাড়িতে থাকেন। সব ধরনের পুরুষ মানুষের মা-বোন, ভাজতি,ভাগ্নি রয়েছে। অথচ আমরা মা-বোন ভাজতি ভাগ্নির কথা ভুলে যাই। তারপর মেতে উঠি নানারকম যৌনকর্ম, যৌন লীলা খেলায়।
নারী শ্রমিকরা বড়ই অসহায়। তারা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। গণপরিবহণে ৯টি সিট তাদের জন্য নিধারিত। অথচ একটি বাসে আসন প্রায় ৬৫ থেকে ৭০টি। সেখানে নারী সিট মাত্র ৯টি। সরকার চাকরির ক্ষেত্রে নারীর কোটা নির্ধারণ করেছেন। সব ক্ষেত্রে নারীকে সমান অধিকার দিচ্ছেন। নারী নিজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যান। নারী বাসে উঠতে গেলে এক শ্রেণীর সিট লোভী পুরুষ যাত্রী চিৎকার দিয়ে বলে উঠেন, গাড়িতে মহিলা সিট নেই। মহিলা তুলবেন না। যখন মহিলা যাত্রীটি পুরুষের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন, তখন অধিকাংশ পুরুষ যাত্রী মহিলা যাত্রীর বিপক্ষে কথা বলেন। প্রতিদিন অফিস আদালত,স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার সময় নারীরা বাসে উঠেন। বাসে ওঠার সময় শুরু হয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ছোটখাট যুদ্ধ নয়, যেন মহাযুদ্ধ। পুরুষরা স্বাবাবিকভাবে গাড়িতে চলাফিরা করেন। কিন্তু নারীরা শিকার হোন সীমাহীন ভোগান্তি আর দুর্ভোগের। কিছু কিছু বর্ণচোর পুরুষ যাত্রী মনে করেন, বাসে চলাচল করার সময় ইচ্ছামত নারীদের শরীর স্পর্শ ও নারীদের উপর ঢলে পড়া যায়। অপ্রয়োজনে তাদের গায়ে হাত লাগানো যায়। নারীরা প্রতিবাদ করলেই বলে, ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দেই নি। অসুবিধা হলে বাসে উঠেন কেন? কি নোংরা পুরুস যাত্রীর মানসিকতা?
প্রতিটি গাড়িতে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকার প্রয়োজন। পুরুষ যাত্রীর ৬০ ভাগ আর নারী জন্য ৪০ ভাগ। নারী আসন থাকলে নারীরা তাদের নির্দিষ্ট আসনে বসবে। পুরুষ যাত্রীরা দ্বারা নানা রকম নির্যাতনের শিকার থেকে রক্ষা পাবেন। গণপরিবহণ ও বাসে প্রতিদিন নারীরা হাজার রকম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অথচ অভিযোগ করতে পারছে না। নারীদের জন্য গণপরিবহণ বা বাসে আসন বন্টনের আইন পাস করার প্রযোজন। আইন পাস করার সাথে সাথে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। পাল্টাতে হবে দৃষ্টি ভঙ্গি। পরিচালনা করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিটি গাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের মোবাইল নম্বর লিখতে হবে। নারীরা নির্যাতনের শিকার হলে পুলিশকে খবর দিবেন। ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্ট সেই গাড়িটি চিহ্নিত করবেন। আমাদের দেশে গণপরিবহনে হেলপার, সুপার ভাইজার এবং চালক নিয়োগ দিতে হয়। তাদেরকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রকার নিয়ম কানুন বা নীতি মালা নেই। মালিক নিজের ইচ্ছা মত কম বেতনে তাদেরকে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। নিয়ম কানুন বা শৃংখলার বিষয়টি লক্ষ করেন না। গাড়িতে শৃঙখলার বিষয়টি ফিরে আনতে হলে নিদিস্ট নিয়ম কানুনের মাধ্যেমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। তবেই গাড়িতে যৌনচার মূলক হয়রানি, নির্যাতন থেকে নারী যাত্রীরা মুক্তি পাবেন।
আমাদের দেশ দরিদ্র দেশ। এ দেশের অর্থনৈতিক মেরুকরণ শক্তিশালী ও পরিবর্তন আনার জন্য শিক্ষা ও কর্ম ক্ষেত্রে পুরুষের পাশা পাশি নারীদের পদচারনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা প্রতিদিন আয় বৃদ্ধির জন্য নানা রকম কর্ম ক্ষেত্রে ছুটছে। কিন্তু তাদের জন্য গণ পরিবহনে কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা বাড়ে নি। তারা প্রতি নিয়ত ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ নানা প্রকার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারী যাত্রীরা নানামুখী নির্যাতন থেকে মুক্তি লাভ করুক এই কামনা করছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৫২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×