somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারিগরী শিক্ষা এবং বেকারত্ব।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি ও জাতীয় অভিশাপ। এ বেকারত্ব থেকে জন্ম নেয় হতাশা। আর হতাশা থেকে সৃষ্টি হয় ক্রোধ, ঘৃণা, অবহেলা, কাজে অনীহা, দাম্পত্য জীবনে কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, মাদকাসক্ত, হত্যা, আত্মহত্যা, গুম ও এসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, দৃষ্টিভঙ্গির নেতিবাচক পরিবর্তন ইত্যাদি। এতে মানবিক গুণাবলী বিনষ্ট হয়। মানুষের আচরণ হয় হিংস্র বন্য পশু ও বিষাক্ত সাপের মতো যখন যাকে পায় তাকে দংশন করে। বেকারত্বকে পরিবেশ দূষণ ও দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। একজন বেকার মানুষ কখনও স্বাধীনচেতা হয় না, তার থাকে না আত্মসম্মানবোধ। অন্যের শ্রদ্ধা পাওয়া যেমন তার জন্য কঠিন তেমনি তার দেয়া শ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালবাসা মূল্যায়িত হয় না। পরিবার, সমাজ তথা দেশে তাদের অবস্থান আগাছা কিংবা বোঝার মতো। তবে সুযোগ ও সুবিধা মতো তারা রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এইভাবে স্বাধীনতার ৪৬ বছরে পিতা-মাতা-নিজ সন্তান ৪৬টি প্রজন্মকে হতাশায় ফেলার খেসারত আমরা প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ এই তরুণদের এসএসসি পাশের পর ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ করে দিতে পারলে নিজ পরিবার গ্রাম সমাজ জাতির নৈতিক স্থলন থেকে রক্ষা পেত। কর্মের মাধ্যমে স্বনির্ভর গ্রাম প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারতো। ডিপ্লোমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ যেকোনো দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বর্তমান সময়ে শুধু কায়িক শ্রমের মূল্য প্রায় নেই বললেই চলে। ন্যূনতম ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকলেই শুধু কারো পক্ষে শ্রমবাজারের বর্তমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব। আমাদের দুর্ভাগ্য, দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্লোমা শিক্ষা উন্নয়নে রাষ্ট্রের সীমাহীন অবহেলাই আমরা দেখে এসেছি। ফলে আমাদের জনশক্তির প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষতা প্রায় শূন্যের কোটায়। আর জনশক্তি সম্পদ না হয়ে ক্রমেই বোঝার পরিণত হয়েছে।
প্রতিবছর প্রায় ১৪ লাখ ছেলে-মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এই বিপুল সংখ্যক তরুণদের ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থায় কোন সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেনি। তরুণদের ব্যাপকভাবে ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি সরকারি/বেসরকারিভাবে কৃষি, ভেটেরিনারি, লেদার, পলিটেকনিক, টেক্সটাইল, মেডিক্যাল টেকনোলজি, নার্সিং, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, মেডিকেল ও ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রাবার, মোবাইল ব্যাংকিং, এয়ারহোস্টেজ, পর্যটন, সাংবাদিকতা, বিমান পরিচালনা, সাবমেরিন, মহাকাশযান, নিউক্লিয়ার ইত্যাদি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সসহ সকল পণ্য ও পেশায় কমপক্ষে ৫০০ (পাঁচশত) নতুন ডিপ্লোমা কোর্স চালু করতে হবে। ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে বিদেশীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
ভিলেজ ভিশন ২০৫০ অনুসারে প্রতিটি গ্রামে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী দক্ষজনবলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে গড়ে নিম্নোক্ত হারে মোট জনশক্তির প্রয়োজন হবে। খাদ্য উৎপাদনে- ৫২, কৃষি ব্যবস্থাপনা- ৩২, প্রকৌশল উন্নয়ন- ৮৮, চিকিৎসা নিরাপত্তা- ১১২, যোগাযোগ ক্ষেত্রে- ৩২, শিক্ষা সম্ভাবনায়- ৭২, বস্ত্র খাতে- ২১, শিল্প খাতে- ১১০, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স- ২০, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থায়- ৪০, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে- ৯০, ক্রীড়া সাফল্যে- ৩০০, জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পদে- ৫৫, অন্যান্য- ৫০, জননিরাপত্তায়- ৫০। মোট এক হাজার ১২৪ জন ডিপ্লোমা ডিগ্রি ধারীদের মেধা ও শ্রমে প্রতিটি গ্রাম খাদ্য, কৃষি, চিকিৎসা, যোগাযোগ, শিক্ষা, বস্ত্র, শিল্প, দুর্যোগ, বর্জ নিষ্কাশন, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, জননিরাপত্তায় মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে। প্রতিটি গ্রামে এক একটি আধুনিক উপশহরে পরিণত হবে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৫০-৬০ হাজার ডলারে উন্নতি ঘটবে। গড় আয়ু শত বছর অতিক্রম করে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্র।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×