আমার কৈশোরে আমি একটা প্রচুর ছড়ার বই পেয়েছিলাম পড়বার জন্য। তখনকার পছন্দের বেশীরভাগ ছড়া এখন এক লাইন দুলাইন বাদে মনে নেই। সময়ের সাথে সাথে ঝাপসা হয়ে গেছে। কিন্তু একটা আবেদন রেখে গেছে আমার মনন, বিশ্বাস এবং চিন্তায়। একটা বই ছিলো একাত্তরের ছড়া। নাম মনে হয় ঠিক বলছি না। অনেক বড় বড় কবির ছোট ছোট ছড়া। একটা ছড়া কয়দিন ধরে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে । কার লেখা স্পষ্ট মনে নেই , সম্ভবত আসাদ চৌধুরী ,
ট্রাক ট্রাক ট্রাক
শুয়োরমুখো ট্রাক আসছে
মতিউরকে ডাক
কোথায় পাবো মতিউরকে
ঘুমিয়ে আছে সে
তোরাই তবে সোনার ছেলে
আগল খুলে দে ।
এরকম আরো অনেক ছড়া ছিল বইটাতে। সাথে হাশেম খানের আঁকা ছবি। এই বইয়ের ছড়া গুলো ছিলো আমার মুখস্থ। খুব সাধারন শব্দ ব্যবহার করে, এক অসাধারণ সময়কে শিশুর চোখে মর্ূত করার ক্ষমতা ছিলো ছড়াগুলোর।
কত বছর পার হয়ে গেল মতিউর মারা গেছে। আমি বড় হয়ে গেছি । দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে পঁয়ত্রিশ বছর। মতিউর এখনো অম্লান হয়ে আছে আমার হৃদয়ে । প্রমিথিউস যেমন সর্্বগ েেথকে ছিনিয়ে এনেছিল আগুন, মানুষের জন্য। তেমনি মতিউর আমার কাছে এক আগুন পাখির নাম । আমাদের দিয়ে গেছেন, এক অফুরান অনুপ্রেণা।
দর্ীঘ 35 বৎসর তুমি আমাদের বর্্যথতার দায়ভার বহন করেছো।
ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মতিউর রহমান, তুমি এই বাংলার আকাশের আগুন পাখি। তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।
=======================================
25 শে জুন, 2006
সন্ধ্যা 6:38
কলাম্বিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




