আজ ফের্াথ অফ জুলাই। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সাম্রাজ্যবাদী শিকল ছিড়ার দিন। আজকে ওরা পটকা ফুটাচ্ছে, আনন্দ করছে। সরকারী ছুটি আজ। ওয়াশিংটন ডি.সি তে পটকা ফুটানো হবে সাড়ম্বরে।
আমাদের এক ব্লগ বন্ধু ডি.সি'র খুব কাছেই থাকেন। উনি বেশ লোভনীয় দাওয়াত দিয়েছিলেন। র্সষে ইলিশ, রুই মাছের মুড়ো , পাবদা'র ঝোল ঝোল রান্না, বেগুন র্ভতা, শুটকি র্ভতা, চিংড়ি দিয়ে লাউ, সাদা ভাতের সাথে কাঁচা মরিচ একটু টেবিল সলট। খাওয়ার পর হাকিমপুরী আর বিশ্বর্জদা দিয়ে এক খিলি পান, সাথে মালেেবারো আলট্রালাইট।
আমার জন্য এই প্রস্তাব বলতে পারেন বেহেশতের অগ্রিম টিকিটের মত। কেউ এসে আমাকে টিকেট আর দাওয়াত দুটোর মধ্যে অলটারনেট দিলে আমি দাওয়াতটাই কবুল করব। কারণ বেহেশতে পাবদা মাছ আর শুটকি র্ভতা পাওয়া যায় কিনা আমার বিপুল সন্দেহ।
আমি একবার টাঙ্গাইলের করটিয়ায় এক গ্রামে গিয়ে সতের রকম র্ভতা দিয়ে খেয়েছিলাম। ভাবুন আমাদের ঐতিহ্য কতখানি রিচ ইন টর্ামস অফ র্ভতা। শোমচৌ কে বললে হয়তো উনি সাতাশ রকম র্ভতা এক লহমায় পোস্ট করে দিবেন।
যা হোক আমি আবার অভ্যাস মতো লেইন চেনজ্ করে ফেললাম।
স্বাধীনতা দিবস আমরা কিভাবে পালন করি। ছাবি্বশে মর্াচ । শুধু মাত্র ঢাকাতেই স্বাধীনতা দিবসে জনসমাবেশ হয়। অন্য সব ডিসট্রিকটে ডি. সি / টি.এন.ও রা পুষ্প স্তবক দিয়েই খালাস।
ঢাকায় সেটা হয় সেটা হচ্ছে সবাই মিলে হই হই করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সমবেত হয় । চটপটি, ফুচকা খায়, মাটির তৈরি শিল্প কিনে, গাদাগাদি করে পাবলিক লাইব্রেরীতে ছবি দেখে।
আমি ঢা.বি তে পড়ার সুবাদে ঐ এলাকায় স্বাধীনতা দিবসে মানে ছুটির দিনে যেতে মন চাইত না। ঢা. বি. কেন্দ্রিক এই উদযাপনের কারণ হল শহীদ মিনার, বাংলা একাডেমী, দুইটা পর্াক এবং ঢাকা শহরের একমাত্র র্নিমল পরিবেশ ঢা. বি তে হওয়ায় ।
সমস্যা শুরু হয়েছে, শহরের আয়তন যত বাড়ছে , জনসংখ্যা যত বাড়ছে পরিস্থিতি ততই নাজুক হচ্ছে। এই কয়েকটা বিশেষ দিনে
গুলিস্তান থেকে শেরাটন র্পযন্ত্য পা ফেলার জায়গা থাকেনা। আর সমগ্র ঢাকা শহর যায় থমকে।
এই পুরো উৎসব এখন সারা শহর জুড়ে ছড়িয়ে দিলে কি সমস্যা। আমি মুক্তির গান দেখার জন্য 300 মানুষের লাইনে ছিলাম, পরে ফ্লোরে বসে সিনেমা দেখেছি। সমগ্র শহরের হলে হলে ছবি দেখালে মুসিবৎ কি? ধানমন্ডি লেক থেকে শুরু করে মোহাম্মদ পুর হয়ে সংসদ ভবন মগবাজার , মৌচাক , গুলশান , বনানী বিশাল শহর। সারা শহরে ফেস্টুন , জায়গায় জায়গায় বড় র্পদায় ফিল্ম, নাটক , গান। সত্যিকারের একটা উৎসবের আমেজ চাইলে আনা যায়।
স্বাধীনতা শহীদ মিনার, ঢা. বি ছাড়িয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
এলিফ্যান্ট রোডে একজন জুতার দোকান খুলল, হুহু করে জুতার দোকানে র্ভতি হয়ে গেল জায়গাটা। বানিজ্য কেন্দ্রের প্রয়োজন আছে।
কিন্তু স্বাধীনতার কি কোন কেন্দ্র আছে ? কেন্দ্রের কি কোন প্রয়োজন আছে ?
ঐতিহ্যের প্রয়োজন আছে জীবনে। শহীদ মিনার এর ইট-সিমেন্ট এর কাঠামোর দরকার আছে, কিন্তু ভাষা আন্দোলন ঐ প্রতীক এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেলে সমস্যা। ভাষা আন্দোলন এর প্রয়োগ জীবনে থাকতে হবে।
তেমনি স্বাধীনতার অপর নাম রমনা বটমূল হয়ে গেলে সমস্যা। বটমূল আমাদের এক হবার ডাক দেয়, এর প্রয়োজন আছে , কিন্তু স্বাধীনতার উৎসব আমেজ ঘরে ঘরে আসতে হবে। তবেই আমরা একটা নিজের একটা দেশ থাকার, দায়িত্বও যে থাকে সেটা বুঝতে পারব।
মধ্যবিত্ত তবেই ঘুরে দাঁড়াবে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকার আগেই ঘুরে দাঁড়াবে।
প্রতিটি ঘরে চাই শহীদ মিনার, প্রতিটি বাগানে চাই বটের মূল। আজ আমাদের এটাই শ্লোগান।
=======================================
4 ' ই জুলাই, 2006
রাত 11:13
কলাম্বিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




