somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পতিত ভাবনা ঃঃ পতিতাবৃত্তি

১১ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ দীপু সাহেব একটা পোস্ট দিছেন, আমি একটু আগে উনার সব মন্তব্য পড়লাম। উনাকে রাসেল(বিন্দুঅবিরাম ) নাকি বিরক্ত করে। তাই উনি পোস্ট দিয়ে রাসেল (বিন্দুঅবিরাম ) এবং উনার মা-বোন ধরে গালাগালি করেছেন। অত্যাশ্চর্ায ব্যাপার হচ্ছে কেউ দীপুকে মন্তব্যে বললো না যে আপনি রাসেল কে গালি দিতে গিয়ে নিজে নাংগা হয়ে যাচ্ছেন এবং নিজের মা-বাবা-বোনের মাথা হেট করছেন।

শেইম অন দিস সিভিল সোসাইটি। শেইম ।

আমাদের মধ্যে দেখলাম এধরনের কালচার আছে, কাউকে গালি দেওয়ার প্রয়োজন হলে খানকীর পোলা, মাগীর পোলা বলা। আমি অনেক ভেবে বুঝতে যেটা পেরেছি সেটা হল আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চরম প্রতিফলন এই খানকী এবং মাগী শব্দ দুটোর গালি হিসেবে ব্যবহার। আমাদের শ্রেনী স্র্বাথের প্রতিফলন হয় রিকশাওয়ালা এবং বস্তির লোক গালি দুটোয়।

খানকি কি ?

1। যারা টাকার বিনিময়ে দেহ দান করে।
2। অন্ন-বস্ত্রের সংস্থানের জন্য দেহ দান করে ।
3। যারা দেহের বিনিময়ে দেহ দান করে ।

এরকম পুরুষও আছে, আমি এখনও র্পযন্ত্য একটা গালি শুনেছি সেটা হচ্ছে মাইগ্যা পোলা। এটা কিন্তু খুব খারাপ র্অথে না, অনেকটা তিরস্কার র্অথে।

তাহলে খানকি শব্দটার বুৎপত্তি কোথায় ?

বাংলাদেশে যখন একটা ছেলে মেয়ে পছন্দ করে তখন কি দেখে প্রথম এবং প্রধানত সৌন্র্দয, পষ্ট করে বললে শারিরীক সৌন্র্দয। হাজার হাজার পর্ালার হয়েছে সবাই নিজেকে একসময় দানের জন্য প্রস্তুত করছে। সমাজিক দান প্রথা এটা।

বিয়ের দিন কি হয়। সাজগোজ হয় ছেলে-মেয়ে দুজনেই সাজছে। কেন? নিজেকে উপস্থাপন যোগ্য এবং সুন্দর করা। সবার সামনে নিজের দেহ (ছেলে-মেয়ে দুজনেই ) যতটুকু সম্ভব সুন্দর করে উপস্থাপন করছে। কই কোথাও তো শুনিনি, মেয়ে রসায়নে তার ডিসারটেশন পড়ে বিয়ের দিন শোনাচ্ছে , কিংবা ছেলে তার কবিতা পড়ে শোনাচ্ছে । মননের প্রর্দশন তো এই জগতের কোথাও হয় না। হয় শরীরের প্রর্দশন ।

আমরা সবাই কোথাও না কোথাও নিজেকে বেচি ,

হয় মন,
নয় যৌবন
হয় মেধা
নয়তো মনন

তবে এই শরীর বিক্রি করে বেচে থাকাদের প্রতি এত আক্রোশ কেন সমস্তজগতের।

ভাব চককর দিয়ে এরশাদের কাছে নিজের কবিতা বেচে জীবন ধারণ কি বুনো শুয়োরের পশ্চাৎদেশ ভ্রমনের চেয়ে উন্নত কিছু।
সমস্ত দিন বালিকা সন্ধানে ফোন, এসএমএস, ইন্টারনেট, চ্যাট বিভিন্ন জায়গায় নানাবিধ র্নতন-কর্ুদন কি ঐ টানবাজারে দেহপাসারিনীর কাজের চেয়ে উন্নত কিছু।

আমি বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলতে পারি পতিতা অনেক উন্নত ঐ র্সবক্ষণ জিহবা লুকিয়ে রাখা কেতাদুরস্ত ভদ্দরনোকের চাইতে। তারা যা বেচে সরাসরি বেচে। আর আমরা আড়ালে আবডালে নিজের গোপন উল্লাসে বেচি।

ক্রমাগত আমরা নিজেদের বেচে যাই কানসাটে, শহীদ মিনারে, বাঁধনের শাড়ীর ভাঁজে, শমী কায়সারের নাটকে, ঐশ্বরিয়ার ফিলিম ফেস্টিভ্যালে, সব জায়গায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ এবং ঢাকা মেডিকেল এর মধ্যর্বতী জায়গাটায় ব্যবসা করা সেই পতিতা অনেক উন্নত। আমি তার নাম বললাম না। কারণ নামটা কারো না, কারো, বোন বা মায়ের নামের সাথে মিলে যাবে। তখন ভদ্দরনোকেরা ঘিনঘনে বোধ করবে।

ধরি উনার নাম সোফিয়া লরেন বা খালেদা বা হাসিনা । সমস্যা আছে কারও। আমি ধরে নিলাম তার নাম, আমার মায়ের নাম। তাকে আমি সেই সম্মান দিতে একটুও কুণ্ঠা বোধ করি না। কারণ সেই পতিতাও একজন মা হয়তো। মা না হলেও, স্পষ্ট ভাষী সৎ মানুষ । নারীর উপরে উঠে প্রবল পরাক্রমশালী মানুষ। সমাজের বর্্যথতার দায়ভার একা কাঁধে নেবার মত সাহসী মানুষ।

ডান গালে একটা তিন ইনচি গভীর ক্ষত। পুলিশ রিকশার চেইন দিয়ে মেরে করেছে। উনার কাছে নাকি প্রতি শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটা ছেলে একত্রে আসে। তারা সেক্স করে, চলে যায়। জুম্মার নামাযের মত ছেলে তিনটির এটা রুটিন। সব পতিতার সাথে কথা বললে আরো অনেক এরকম রুটিন জানা যেত।

শিক্ষক, আমলা, ছাত্র, পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবি, দারোয়ান, রিকশাওয়ালা, টোকাই , সাধু-সন্ত, হুজুর, ঠাকুর, কায়স্থ, শিয়া-সুনি্ন এই জায়গায় একদম এক হয়ে গেছে। পতিতা গমনে ।
আর সুযোগ মত খানকীর পোলা , মাগীর পোলা গালি দেওয়ায়।

এই গমন শুধু তো আর নারীদেহে গমন নয়। র্সবত্র আমরা পতিত হচ্ছি । পতিতা হচ্ছি আর একটা শ্রেনী কে গাল দিয়ে পাপমোচন করছি।

আমি একটু বাদে দাওয়াতে যাবো, ভালো না লাগলেও, একটু পতিতাবৃত্তি করে বলবো খাওয়া খুব ভালো হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাই জামাতের পক্ষে জিকির ধরুন, জামাত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১



চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা, তুমুল লড়াই হচ্ছে জামাত ও বিএনপির মধ্যে কোথাও জামাত এগিয়ে আবার কোথাও বিএনপি এগিয়ে। কে হতে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ সরকার- জামাত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন তাহলে হয়েই গেল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



অনেক জল্পনা কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে- এ যাত্রায় দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেলো। চারিদিকে যা শুরু হয়েছিলো (জামাতের তাণ্ডব) তা দেখে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×